শ্যালা নদীতে ফের যান চলাচলের অনুমতি

141215110717_bangla_sundarbans_oil_spills_pollution_640x360_afp_nocredit বাংলাদেশের সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবির ২৭ দিন পর আজ ঐ নৌপথটি যান চলাচলের জন্য আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নৌপরিবহন সচিব শফিক আলম মেহেদী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সরকারের আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সীমিত আকারে ঐ পথ দিয়ে বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ শুধু মাত্র দিনের বেলা চলাচল করবে।তবে কোন তেলবাহী যান চলবে না।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে বলেন, “শ্যালা নদীকে নৌ রুট হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই পরিবেশ বিপর্যয়ের একটা আশংকা তৈরি হয়। সুন্দরবনে ইকো সিস্টেমের একটা ভারসাম্য রয়েছে বলেই প্রাণীগুলো এখানে দৃশ্যমান। এই ভারসাম্যটা নষ্ট হলে কিন্তু প্রাণীগুলো এখান থেকে হারিয়ে যাবে।” দুর্ঘটনা ছাড়াও প্রতিনিয়ত নৌ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নৌযান থেকে নি:সৃত তেল ও বর্জ্যের কারণে নানা ধরনের দূষণ ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সীমিত আকারে এই নদীতে যান চলাচলের অনুমতি দেয়ায় ঝুঁকি কমবে উল্লেখ করলেও এক্ষেত্রে আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ করে শ্যালা নদী ডলফিনের অভয়া-শ্রম হওয়ায় এবং এখানে কুমিরসহ নানা জলজ প্রাণীর ইকো সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষার উপর জোর দেন তিনি। সেজন্য দ্রুত বিকল্প নৌপথের ব্যবস্থা করার সাথে সাথে শ্যালা নদীতে কোন ধরনের বিষাক্ত ও দাহ্য পদার্থ বাহী নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা দরকার বলে মনে করেন ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।

শ্যালা নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার এক মাসের মধ্যেই আবারও যান চলাচলের অনুমতি দেয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কতটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, এমন প্রশ্নে ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ততটা গুরুতর না হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও জানা যায়নি।

আপনার মন্তব্য

Top