পূবালী ব্যাংকের শেয়ার পেতে সোনালীর তোড়জোড়

Sonali_Bank_sm_112795273শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সোনালী ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ারের মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার আগে পূবালী ব্যাংকে বিনিয়োগ করা ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার বিভিন্ন সময়ে বোনাস শেয়ারসহ এখন অভিহিত মূল্য হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সোনালী ব্যাংক থেকে এসব অর্থ পরিশোধের দাবি করা হলেও পূবালী ব্যাংক করছে না।

পাকিস্তান আমলের ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক স্বাধীনতার পরে পূবালী ব্যাংকে রূপান্তর হয়। একই সঙ্গে আগের ব্যাংকের সমুদয় দায়-দেনা পূবালী ব্যাংকের নামে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ১৯৮৭ সালে পূবালী ব্যাংককে যখন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তখন সোনালী ব্যাংক এই শেয়ারের মালিকানা দাবি করে তা পরিশোধের অনুরোধ করে। কিন্তু পূবালী ব্যাংক তা পরিশোধ করেনি। পরে সোনালী ব্যাংক এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে। এতেও বিষয়টি সমাধান হয়নি। ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে এই শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত দিক পর্যালোচনা করে শেয়ারের মালিকানার বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ফয়সালা হয়নি।

সোনালী ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বিনিয়োগের বিপরীতে তাদের শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ২২টি। বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২২ টাকা ৫০ পয়সা। এ হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক ১৯৫৯ সালে তৎকালীন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৩৮ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার কিনে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা বিনিয়োগ করে। এর বিপরীতে ১৯৬৮ সালে বোনাস শেয়ার পায় ৩ হাজার ৮৩৩টি, যার মূল্য ছিল ৩৮ হাজার ৩৩০ টাকা। ১৯৬৯ সালে বোনাস শেয়ার পায় ৪ হাজার ২১৬টি। যার মূল্য ছিল ৪২ হাজার ১৬০ টাকা। ১৯৭০ সালে বোনাস শেয়ার পায় ৪ হাজার ৬৩৮টি, যার মূল্য ছিল ৪৬ হাজার ৩৮০ টাকা।

অর্থাৎ স্বাধীনতাপূর্ব ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড বর্তমান পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ারে তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান যা বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের শেয়ারে রূপান্তর হয়েছে।

গত বছরের ২১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরে সোনালী ব্যাংকের দাবিকৃত পাওনা পরিশোধের বিষয়ে পূবালী ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা তা পরিশোধ করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের ওই বিনিয়োগের বিপরীতে ১৯৭৭ সালে পূবালী ব্যাংক উল্লিখিত শেয়ারগুলোর ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট সোনালী ব্যাংকের নামে ইস্যু করে। পরে ১৯৮৩ সালে পূবালী ব্যাংক বেসরকারিকরণের সময় সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা বলা হলেও করা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক ১৯৯৮ সালে ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং এই দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। তাদের মতামতে সোনালী ব্যাংককে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ বিষয়ে এবং পাওনা নিষ্পত্তির ব্যাপারে বিভিন্ন সময় সোনালী ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় ও পূবালী ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায়। কিন্তু পূবালী ব্যাংক তা পরিশোধ করেনি।

সোনালী ব্যাংক থেকে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় চিঠির মাধ্যমে পূবালী ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করার বিষয়টি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পূবালী ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু পূবালী ব্যাংক থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় পূবালী ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়। পরে ওই চিঠির জবাবে পূবালী ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংককে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে তাদের এখন আর কিছুই করার নেই।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরে এই বিষয়ে একই বছরের ১২ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে আরও একটি সভা আহ্বান করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছরের ১৮ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আরও একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানানো হয়।

সোনালী ব্যাংকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় পূবালী ব্যাংকের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য আবার চিঠি পাঠায়।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top