আজ: শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১ইং, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৮ মার্চ ২০১৫, শনিবার |


নীতিমালার তোয়াক্কা করছে না প্রবাসী ব্যাংক

nrb_sharebazar_newsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নতুন আইন করে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হলেও নীতিমালার তোয়াক্কা করছে না এসব প্রবাসী ব্যাংকের অধিকাংশই। পরিচালনা পর্যদ এবং উদ্যোক্তাদের নূন্যতম বিনিয়োগের সীমা না মেনেই গত দুই বছর ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে প্রবাসী তিনটি ব্যাংকের দুইটিই।

ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এবং কোম্পানি আইন-১৯৯৪ সমন্বয় করে ২০১৩ সালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যাংক খোলার সুযোগ করে দিয়ে এনআরবি ব্যাংকের নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার অধীনে শুধুমাত্র প্রবাসী উদ্যোক্তাদের মাধ্যেমে প্রবাসী ব্যাংক চালু করার বিধান রাখা হয়। নীতিমালার ৪ ধারার ১ ধারায় বলা হয়, উদ্যোক্তাদের সকলকে অবশ্যই প্রবাসী হতে হবে। আর ৬ নং উপধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নূন্যতম সীমা নির্ধারণ করা হয় ১০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হতে পারবে। কিন্তু অনুমোদন পাওয়া এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এই নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবগত হলেও এখনো ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় এনআরবি ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়। এ সময় তিনটি ব্যাংক এই অনুমোদন পায়। সে সময় মূলত পরিশোধিত মূলধনকে অগ্রাধিকার দিয়েই ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ যারা ৪০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে আবেদন করেছে তাদেরকেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু নীতিমালার বাকি ধারাগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে আমলে নেয়া হয়নি। নীতিমালার ধারাগুলো কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়িত করতে হবে সে ব্যপারেও ব্যাংগুলোকে কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি।

যার মধ্যে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যেক্তা হিসেবে ৪৬ জন প্রবাসীর নাম প্রস্তাব করা হয়। নূন্যতম ১০ কোটি টাকার অংশিদারিত্ব থাকার নিয়ম থাকলেও ব্যাংকটির মোট পরিশোধিত মূলধনই ৪০১ কোটি টাকা। প্রত্যেকের নূন্যতম ১০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ থাকলে তা ৪৬০ কোটি টাকা হবার কথা।

অন্যদিকে, আরেক প্রবাসী ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এর পরিশোধিত মূলধন ৪৭৬ কোটি টাকা। যার উদ্যেক্তা হিসেবে রয়েছেন ৫৩ জন প্রবাসী। নূন্যতম ১০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ থাকলে তা অন্তত ৫৩০ কোটি টাকা হবার কথা। এদিকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক উদ্যেক্তাদের যোগ্যতার নিয়মও পরিপালন করছে না।

উদ্যেক্তাদের প্রসঙ্গে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এর সাথে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা হলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নীতিমালার কথা বেমালুম অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমনকি তারা এমন কোনো নিয়ম নেই বলেও দাবি করেন। এ ব্যাপারে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মশিউর রহমান বলেন, ‘এমন কোনো নিয়ম নেই। আমরা নিয়ম জেনেই ব্যাংকিং করছি।’ পরবর্তিতে কোম্পানি সচিব মো: রফিকুজ্জামান বলেন, ‘এক বা একাধিক স্পন্সরের একটি গ্রুপ ব্যাংকের স্পন্সর হিসেবে থাকতে পারবে। সেখানে প্রতিনিধিত্ব থাকবে একজনের। কিন্তু বোর্ড অব ডিরেক্টরর্সে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে তাকে কোম্পানি আইন অনুযায়ি কোম্পানির নূন্যতম ২ শতাংশ অংশিদারিত্ব থাকতে হবে।’ যদি একজন বা একাধিক ব্যাক্তির গ্রুপে প্রতিনিধিত্ব থাকে তাহলে ৫৩ জন স্পন্সরের কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কিভাবে ৪৭৬ কোটি টাকা হয়- এ প্রশ্নের সদুত্তোর দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যপারে কোনো সন্দেহ থাকলে আপনি লেটার অব ইনটেন্ড (এলওআই) দেখতে পারেন। সেখানে তো সব পরিষ্কারভাবেই উল্লেখ আছে।’

ব্যাংক দুইটির নীতিমালা লঙ্ঘণের এমন দৃশ্যমান নজির থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

শেয়ারবাজার/শি/অ

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.