আধুনিকায়নে অনেক পিছিয়ে পুঁজিবাজার

Editorialদেশ এগিয়েছে অনেক দূর। মানুষের মধ্যেও হয়েছে অনেক পরিবর্তন। ব্যবসা বাণিজ্যের সর্বত্রই এখন ই-কমার্সের সুবাতাস বইছে। রাজনৈতিকভাবে গোটা দেশ ডিজিটাল হয়েছে সে তো অনেক আগের খবর। মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইলে ইন্টারনেট। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় বসে এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়মিত ব্যবসা করছেন অনেক মানুষ। অথচ হাত বাড়ালেই আমাদের দুয়ারে যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজারটি রয়েছে সেটি আধুনিকায়নের দিক থেকে রয়েছে আমাদের থেকে অনেক দূরে। সর্বশেষ একটি খবর থেকে জানা গেছে এই বাজারটির অন্তত ৪২টি সিকিউরিটিজ হাউজ এখনো পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদন গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে পুঁজিবাজার বিষয়ক শীর্ষ অনলাইন পত্রিকা শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম। পত্রিকাটি তাদের খবরে বলেছে, ১৫ মার্চ রোববার  পাইলট প্রজেক্টের আওতায় সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যাতে আইপিও আবেদন করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সময়সীমা থাকলেও ৪২টি হাউজ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আগামী ১ এপ্রিল থেকে সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে যেসব সিকিউরিটিজ হাউজ অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হবে তাদের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করা যাবে না।

বিএসইসির এই নির্দেশনার আলোকে সর্বশেষ খবর মোতাবেক ২০৮টি সিকিউরিটিজ হাউজ বিএসইসি’র অনুমোদন পেয়েছে। এদের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে পারবে। কিন্তু বাকি ৪২টি সিকিউরিটিজ হাউজ পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদন করতে পারবে না।

যদিও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল সিকিউরিটিজ হাউজ আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিএসইসি-তে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সে কারণে যারা এখনো অনুমোদন পায়নি শিগগিরই তাদের অনুমোদন হয়ে যাবে। পত্রিকাটি পাইলট প্রজেক্টে চালু হতে ব্যর্থ হওয়া হাউজগুলোর নাম উল্লেখ করেছে। তবে আমরা ওদের নাম উল্লেখ করে তাদের লজ্জা আরো বাড়াতে চাইনা।
কোম্পানিগুলোকে লজ্জিত করাটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য এ ধরনের ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বোঝা আর কতকাল বিনিয়োগকারীরা বয়ে বেড়াবে সেটা নিয়ে। বাজার থেকে ব্যবসা গ্রহণের সময় যারা পিছিয়ে থাকেন না তারা বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে কেনো এতো পিছিয়ে থাকবেন সেটা নিয়েই আমাদের প্রশ্ন। দেশ যদি এগিয়ে থাকে তাহলে এরা পিছিয়ে থাকবে কেন? শুধু এ বিষয়েই নয়, আমরা একটি বিষয় শুরু থেকেই লক্ষ্য করছি, সার্বিকভাবে আমাদের দেশের পুঁজিবাজার সব সময়ই প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকছে আর দেশের ভেতরে সিএইর তুলনায় ডিএসই একটু পেছনে পড়ে থাকে। আমাদের কাছে খবর আছে, এখনো অনেক বড় বড় হাউজে অনলাইন লেনদেন চালু হয়নি এমন কি ইমেইলে আপডেট পাঠানোর কাজটিও শুরু করেনি বহু হাউজ। এ যদি অবস্থা হয় তাহলে দেশ ডিজিটালাইজড হলো কোথায়? আমরা মনে করি সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এখনো যদি আন্তরিকতার সাথে এ কাজগুলো শুরু করা যায়, তা হলে বছর না ঘুরতেই প্রযুক্তির সব ধাপগুলো অতিক্রম করা সম্ভব বলে আমাদের বিশ্বাস।

শেয়ারবাজার/অ

আপনার মন্তব্য

Top