ডাক্তারদের কাছে গোপন করবেন না যে সকল বিষয়

স্বাস্হ্যশেয়ারবাজার ডেস্ক: মানুষ সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে চলা ফেরা, কাজ-কর্ম করবে এটাই সবার কাম্য। কিন্তু বাধা হয়ে ধারায় শরীরের বিভিন্ন রকমের রোগ। শরীরে যদি রোগ বাসা বাধে তবে শরীর তার স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য শরীর তাড়াতাড়ি সুস্হ করতে দ্রুতই ছুঁটে যাওয়া হয় ডাক্তারের পরামর্শ নিতে। তবে অনেকেই ডাক্তারের কাছে অনেক কিছুই গোপন করে থাকেন।অতএব শরীর সুস্হ রাখতে ডাক্তারের কাছে গিয়ে কোনো কিছু গোপন না করে সবকিছু খুলে বলতে হবে। যদি আমরা কিছু কথা গোপন করে যায় তবে ডাক্তার সঠিকভাবে রোগ নির্ধারণ করতে পারবেন না।

বর্তমানে বেশীরভাগ ডাক্তারই বাণিজ্যিকহয়ে যাওয়ায় খুব কম সময় দেন রোগীকে। তবে অনেক ভালো বিনয়ী ডাক্তার আছেন যারা রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। রোগীর কথার ওপরে অনেক সময় রোগ চিহ্নিত করা যায় এবং সহজ সমাধান দেয়া যায়। যে সকল বিষয় ডাক্তারদের কাছে গোপন রাখতে নেই।
সেক্স গর্ভনিরোধ: ডাক্তার আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই পারে- সেক্স করেন কি না বা জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি কোনো সুরক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করেন কি না। এসব বিষয়ে ডাক্তারকে খুলে বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাক্তার কেবল রোগীর ভালো কামনা করেন। আর যদি আপনি তার চিকিৎসায় সন্তোষ অনুভব না করেন বা প্রকৃত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে মনে করেন তাহলে অন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। তাই বলে অবহেলা করা ঠিক হবে না।

আঁচিল বা ব্রন: ১৩ থেকে ১৯ বছরের কিশোরীদের/তরুণীদের ক্ষেত্রে আঁচিল বা ব্রন সমস্যা খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য। কারণ বয়োসন্ধির এ পর্যায়ে এগুলো খুব তাড়াতাড়ি আক্রমণ করে। তাই যখন তখন এগুলো নখ দিয়ে না খুটিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এ সময় হরমোনজনিত কারণে ব্রণের উপদ্রব হয়। এজন্য চিকিৎসককে সব খুলে বলতে হবে।

অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল: শরীর ফিট রাখতে গিয়ে যদি অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল করেন যেমন শুধু জুস খেয়ে থাকা, অনাহার করা বা অন্য খাবার খাওয়া, যা আপনার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না। তা ডাক্তারকে খুলে বলতে হবে। তারপর ডাক্তার কী বলে সে অনুযায়ী চলতে হবে।

ডেটিং সহিংসতা বা গার্হস্থ্য সমস্যা: নিজের ডেটিং সম্পর্কে বলা একটা কঠিন বিষয়। কারণ এটা কারো কাছে স্বীকার করা মানে সে আপনাকে অপব্যবহার করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি কাউকে বলতে চান তাহলে সে ব্যাক্তি হতে পারে আপনার ডাক্তার। কারণ তারা এগুলো সম্পর্কে ভালো জানেন। এরপরের সিদ্ধান্তটি কী হতে পারে।

প্রসাবের সময় অস্বস্তি ব্যথা: এ সমস্যাটিকে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করলে ভুল করবেন। প্রসাবের সময় ব্যথার অনুভব মূত্রনালীর সংক্রমণ নির্দেশ করতে পারে (যা আপনার কখনো উপেক্ষা করা উচিৎ নয়)। এক বছর ধরে এ সমস্যা প্রদাহজনিত রোগেরও ইঙ্গিত দিতে পারে। এ সম্পর্কে ডাক্তারকে খুলে বলতে হবে। চিকিৎসা নিন এবং সুস্থ থাকুন।

অনিয়মিত পিরিয়ড: খুবই বেশি, খুবই হালকা, প্রায়ই বা প্রায়ই যথেষ্ট নয় এ রকম মাসিক চক্র মারাত্মক কিছুর চিহ্ন বা লক্ষণ বহন করতে পারে। মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে গাইনি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাক্তারের কাছে কোনো কিছু গোপন করা যাবে না। তাকে খুলে বলতে হবে। ভয় বা সংকোচ করলে রোগ তো দূর হবে না বরং বাড়বে।

উদ্বিগ্নতা: কোনো কিছু নিয়ে যদি ভয় পান বা আপনার মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে তবে ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে। লজ্জার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে, আপনি কখনো একা নন। ডাক্তারই আপনার ভালো থাকার সহায়ক পথ বাতলে দিতে পারেন।

শেয়ারবাজার/রা

 

আপনার মন্তব্য

Top