বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে স্মল ক্যাপ: স্বল্প মূলধনী চেয়ে বড় মূলধনীর দিকে নজর দেয়া উচিত

dse-cse-new-logoশেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শুরু হচ্ছে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাজার। যেখানে ৫ কোটি টাকার নিচে মূলধনী কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, এ মূহুর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহ সকলকে স্বল্প মূলধনীর চেয়ে বড় মূলধনীর দিকে নজর দেয়া জরুরী।

মিজান উর রশিদ বলেন, স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া জরুরী না। কেননা এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে শেয়ারবাজারের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। ভালভাবে খেয়াল করলেই দেখা যাবে বেশিরভাগ দেশীয় বড় কোম্পানি, বহুজাতিক কোম্পানি এবং সরকারী কোম্পানিগুলোই ভাল সুনামের সাথে শেয়ারবাজারে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ছোট ছোট কোম্পানিগুলোরই শেয়ারদর এবং ডিভিডেন্ডের অবস্থা ভাল নয়। ছোট কোম্পানিগুলো ভাল মুনাফা দেখিয়ে প্রিমিয়াম নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এসব কোম্পানির শেয়ারদর প্রথম দিকে কিছুটা ভাল থাকলেও কিছুদিন পর তা ইস্যু মূল্যের নিচে চলে আসে। এরই মধ্যে প্রিমিয়াম নিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৪ শতাংশ শেয়ারদর ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে।

তা ছাড়া স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলো ব্যবসার প্রয়োজনে অর্থ সংগ্রহ করবে যে কোন ব্যাংক থেকে। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের যে টাকা ডিভিডেন্ড দিতে হত তা ব্যাংক কে সুদ আকারে দিবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়বে। যার ফল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও পাবে। আর বৃহৎ মুলধনী কোম্পানি বাজারে আসলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও থাকে দেখার মত।

মিজান আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা মার্কেটের গুরুত্ব অনেক। আলাদা মার্কেট তৈরি হলে কেউ আর মূল মার্কেটে স্বল্প পুঁজির কোম্পানি নিয়ে কারসাজি করতে পারবে না। আলাদা মার্কেট গঠিত হলে সবাই বুঝতে পারবে ওই মার্কেটে কী ধরনের কোম্পানি রয়েছে। তবে শেষ কথা হল: উদ্যোগটা ভাল, তার সাথে সাথে দেশি বড় কোম্পানি আমাদের বেশি দরকার।

এর মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য ‘স্মল ক্যাপ বোর্ড’ নামে নতুন বাজার গঠনের অনুমোদন দেয়। আবার স্বল্প মূলধনি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে ইতোমধ্যে ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) নীতিমালা ২০১৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে বিএসইসি।

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে ইতোমধ্যে ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) নীতিমালা ২০১৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, পাঁচ কোটি টাকার কম মূলধনি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্বল্প মূলধনি কোম্পানির জন্য ‘স্মল ক্যাপ বোর্ড’ নামে নতুন বাজার গঠনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

বিএসইসির ওই অনুমোদন অনুযায়ী, স্বল্পমূলধনি কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে পুঁজি উত্তোলন করতে হবে। আর এসব কোম্পানির শেয়ার শুধু কোয়ালিফাইড ইনভেস্টররা লেনদেন করতে পারবেন। এরই অংশ হিসেবে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

স্বল্পমূলধনি কোম্পানির বৈশিষ্ট্য: কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর বলতে বিনিয়োগসংক্রান্ত সম্যক ধারণা রয়েছে এমন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ নিট সম্পদধারী ব্যক্তিদের বোঝাবে। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরদের জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ভিন্ন ধরনের বিও হিসাব প্রণয়ন করবে।

স্বল্প মূলধনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর তালিকাভুক্তির পর পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার নিচে থাকতে হবে।

এ বাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না এবং শেয়ারধারীদের শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লক-ইন থাকবে। এ বাজারের কোম্পানিগুলোর শেয়ার কাগুজে শেয়ার হতে পারবে না। শেয়ার লেনদেন হবে ইলেকট্রনিক ট্রেডিং প্লাটফর্মে এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় হবে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারের মতো। আর শেয়ার লেনদেন হবে স্টক ব্রোকারদের মাধ্যমে।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

Tags

আপনার মন্তব্য

*

*

Top