ডেডলাইন ৩১ ডিসেম্বর: বিনিয়োগকারীদের ১৫৭ কোটি টাকা দেবে আইসিবি

dse-cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের মহাধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুন:অর্থায়নের ৯০০ কোটি টাকা পাওয়ার জন্য ৩০ জুন, ২০১৬ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল ইনভেষ্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত আবেদন জমা পড়েনি। তাই আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আইসিবিকে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিতরণ শেষ করতে হবে। তা না হলে অবিতরণকৃত অর্থ সরকারের তহবিলে ফেরত যাবে। আইসিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইসিবি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়,  ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য প্রণোদনার ৯০০ কোটি টাকা থেকে সহায়তা হিসেবে পাওয়ার জন্য ২৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক আবেদন করেছে ৪৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ২৫টি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ২৮০ কোটি ৭ লাখ টাকার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৭৪৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার জন্য জমা পড়েছে। এসব আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর করার পরও আইসিবির কাছে প্রণোদনার আরো ১৫৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বিতরণ বাকি থেকে যাবে। অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের এই পরিমাণ টাকা আইসিবিকে বিতরণ করতে হবে।

এসময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম থাকা বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ ও মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণ রি-সিডিউলিংয়ের সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইসিবি’র এক কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুন:অর্থায়নের ৯০০ কোটি টাকা তহবিলের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে এ অর্থ বিতরণ শেষ করতে হবে। তা না হলে অবিতরণকৃত অর্থ সরকারের তহবিলে ফেরত যাবে।

এদিকে প্রণোদনা তহবিল থেকে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থ বছর পর্যন্ত যে পরিমান টাকা বিতরন করা হয়েছে, আদায় হয়েছে তার ৬৬ শতাংশ।  আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ২১টি ব্রোকারেজ হাউজের ৬৮৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মঞ্জুর হয়েছে।

আর এর মধ্য থেকে ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ১৬টি ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে ৬৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বিতরণকৃত টাকার মধ্যে ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছ থেকে আদায় হয়েছে ২৯৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ১৬টি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে আদায় হয়েছে ১২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অতএব মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউজের কাছ থেকে আদায় করা মোট টাকার পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪২২ কোটি ১২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯ আগষ্ট পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সরবরাহ এবং যাবতীয় দলিলাদি সম্পাদন করতে আইসিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২২ আগস্ট অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২৬ আগস্ট পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর পুনঃঅর্থায়ন তহবিল অর্থ ব্যবহার তদারক করতে কমিটি গঠন হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমানকে আহবায়ক করে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫ জন। এর মধ্যে রয়েছেন – বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএসইসির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইসিবির উপ-মহাব্যবস্থাপক তারেক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top