মিউচ্যুয়াল ফান্ডে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার কার্যকর হচ্ছে

MUTUAL_FUNDশেয়ারবাজার রিপোর্ট: মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্ট্যাম্প ডিউটি ফি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তির শর্ত নিয়ে চলমান সঙ্কট শিগগিরই সমাধান হতে চলেছে।  এসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে, ২০১২-১৩ বাজেট প্রস্তাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকারের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নিবন্ধন ফি ধার্য করা হয়েছিল। এতে মন্দা পুঁজিবাজারের অন্যতম উপাদান মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর প্রেক্ষিতে এসোসিয়েশন অব এসেট ম্যানেজারদের দাবির মুখে গত ২৭ নভেম্বর ২০১২ স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার-সংক্রান্ত এক গেজেট প্রকাশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের স্ট্যাম্প প্রশাসন শাখা। আগের দিন ২৬ নভেম্বর ২০১২ স্ট্যাম্প এ্যাক্ট ১৮৯৯ (এ্যাক্ট ১১-এর ১৮৯৯)-এর সেকশন ৯(ক)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। তবে এতে শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দেওয়া স্বাপেক্ষে স্পেশাল পারপাস ভেইকল (এসপিভি) বা অলাভজনক কোনো ট্রাস্ট বা কোম্পানি এবং কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম অথবা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর আরোপিত সব ধরনের স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর চিঠি দেয়া হয়। তবে এ বিষয়ে অনাপত্তি পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সুতরাং এ কাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু বন্ড নিয়ে কাজ করে। কিন্তু প্রজ্ঞাপনটিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই ফান্ডগুলো স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার সুবিধা থেকে এতোদিন বঞ্চিত ছিল।

এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ব ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) অন্য ফান্ড ম্যানাজারদের পক্ষ থেকে চলমান সঙ্কট নিরসনের জন্য এসোসিয়েশন অব এসেট ম্যানেজমেন্ট বিএসইসি’র কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় ফান্ড ম্যানেজাররা বাধ্য হয়ে সরাসরি অর্থমন্ত্রণালয়ে গিয়ে তাদের প্রস্তাব দাখিল করে। প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি পত্র জমা দেওয়ার শর্তটি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যাসেট ম্যানেজার এসোসিয়েশনের সাথে এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তির শর্তটি বাজেট অধিবেশনের আগেই তুলে দেওয়া হবে বলে অ্যাসেট ম্যানেজারদের আশ্বস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে এসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রেসিডেন্ট এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান বলেন, ট্রাস্টের আওতায় যে কোনো ফান্ডের স্ট্যাম্প ডিউটি ফি প্রত্যাহার নিয়ে চলমান সঙ্কট সমাধানে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেছি। বৈঠকের প্রেক্ষিতে শিগগিরই এ সঙ্কটের সমাধান করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আলাউদ্দিন খান বলেন, চলমান সঙ্কটের সমাধান হলে ফান্ডগুলোকে তাদের আকারের ২ শতাংশহারে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহারে আর কোন বাধা থাকবে না। এতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নতুন ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাছাড়া ফান্ডগুলোও তাদের ইউনিট হোল্ডারদের আরও বেশি ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ফান্ড ম্যানেজারদের মতে, এখানে ট্রাস্টি ডিড সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনাপত্তিপত্র দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে অনাপত্তি দিতে অস্বিকৃতি জানায়। প্রজ্ঞাপনটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি বিএসইসি’র উল্লেখ থাকলে এ জটিলতা তৈরি হতো না। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের মধ্যকার জটিলতার জন্য সৃষ্ট অচলবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ইউনিট হোল্ডাররা। কারণ এ অতিরিক্ত ব্যয় ইউনিট হোল্ডারদেরই বহন করতে হচ্ছে। অথচ এ অতিরিক্ত ব্যয় বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড আকারে প্রদান করা যেত।

এ বিষয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক এম হাসান মাহমুদ  বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনটিতে বিএসইসি’র কথা উল্লেখ না থাকায় জটিলতাটি তৈরি হয়েছে। তবে আমাদের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।

শেয়ারবাজার/তু/অ

আপনার মন্তব্য

Top