লাগামহীন বিডি ওয়েল্ডিং: নিরব নিয়ন্ত্রক সংস্থা

BD Weldingশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেড একের পর এক আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এমনকি আইনের কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে কোম্পানিটি।

সম্প্রতি কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু কোম্পানিটি ডিএসইকে বোর্ড সভা করার খবর না জানিয়েই নিজের খাম-খেয়ালীভাবে প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বোর্ড সভা সম্পন্ন করেছে।

এছাড়াও বিএসইসির পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারনের নির্দেশনা দেয়া হলেও তার কোন পরোয়াই করছেন না এ কোম্পানিটি। উল্টো নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে যাচ্ছেন। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ শেষে কোম্পানির পরিচালকদের হাতে ৭.৯৫ শতাংশ শেয়ার থাকলেও ৩১ অক্টোবর ২০১৬’এ তা ৫.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বিএসইসির ধারা ২সিসি অর্পিত ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ (১৯৬৯ এর xvii) প্রজ্ঞাপন জারিতে বলা হয় পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্য-বাধকতা পূরণ করতে হবে। তারপরেও কোম্পানিটি তা পরিপালন না করে ব্যবসা করছে।

এমনকি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার পরও বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থবছর পরিবর্তন করেনি কোম্পানিটি। যদিও এর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে ডিএসইকে অর্থবছর পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ডিএসইর ওয়েবসাইটে কোম্পানির অর্থবছর ৩১ ডিসেম্বর উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসি’র নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে বলেন, যেসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ শতাংশের নিচে তাদের তালিকা দেওয়ার জন্য ঢাকা স্টক একচেঞ্জে (ডিএসই) একটি চিঠি দিয়েছি আমরা।  যে কতোগুলো কোম্পানি আইন পরিপালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যেসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেনি বা শেয়ার ধারন করতে পারছে না তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া যারা এ আইন মানবে না কমিশন তাদের মূলধন বাড়ানোর অনুমোদনও দিবে না বলে জানান সাইফুর রহমান।

ডিএসই তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮ মাসে বিনিয়োগকারীদের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া আলোচ্য সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান দাড়ায় ২.৫৯ টাকায়, শেয়ার প্রতি কার্যকরি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাড়ায় ১.২৫ টাকা (নেগেটিভ) এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৩.৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অথচ এর আগের বছর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। আর শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ০.১৯ টাকা, শেয়ার প্রতি কার্যকরি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ১৭.১৮ টাকা (নেগেটিভ) এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য  হয়েছিল ১৭.১৮ টাকা।

শুধু তাই নয় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও বিডি ওয়েল্ডিং লোকসানে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.২৯ টাকা, শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.২৭ টাকা (নেগেটিভ) এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) হয়েছে ১২.৫৯ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ০.৩০ টাকা, এনওসিএফপিএস ছিল ০.২৭ টাকা (নেগেটিভ) এবং ৩০ জুন, ২০১৫ পর্যন্ত এনএভিপিএস ছিল ১২.৮৭ টাকা।

এদিকে ব্যবসা ও মূলধন বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে একাধিকবার অর্থ উত্তোলন করলেও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণেই নাকি কোম্পানির মূলধন কমতে কমতে লোকসানে চলে গেছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের যাও স্টক ডিভিডেন্ড নামক কাগজ দেওয়া হচ্ছিল এখন তা নো ডিভিডেন্ডে পরিবর্তন হয়েছে। আর এসব কারণেই কোম্পানির শেয়ার দর গত ২৬ অক্টোবর থেকে ফেস ভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে শুধুমাত্র তালিকাভুক্তির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করেই থামেননি এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। বরং বছরের পর বছর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে কোম্পানির মূলধন বাড়িয়েছে। এছাড়া কোম্পানির পরিচালকরা প্রাপ্ত বোনাস শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নিজেদের হাড়ি বোঝাই করলেও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন শেয়ারহোল্ডাররা।

এ বিষয়ে কোম্পানির সাথে একাধিবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

শেয়ারবাজারনিউজ/এমআর/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top