শেয়ারবাজার লিজেন্ড জেসি লিভারমোর: শেষ পর্যন্ত পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা

liverশেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজার লিজেন্ড এই বিভাগে গত কয়েকপর্বে আমরা কয়েকজন শেয়ারবাজার লিজেন্ডের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাদের শেয়ারবাজার নিয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ পর্বে আমরা এমন একজন ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেছি যিনি অনুমানভিত্তিক শেয়ার ব্যবসায় জড়িয়ে ছিলেন। রাতারাতি সফলও হয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুঁজি হারানোর মানষিক শোকে তিনি আত্মহত্যা করেন। তিনি হলেন সাউথ অক্টনন,ম্যাসাচুসেটসের জেসি লরিসটন লিভারমোর। নিম্নে তার সংক্ষিপ্ত জীবনী ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

পরিচিতি ও কেন বিখ্যাত:   অনুমানের দিক থেকে শেয়ার ব্যবসায় অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন জেসি এল লিভারমোর। তিনি ১৮৭৭ সালে সাউথ অক্টন ম্যাসাচুসেটসে জন্মগ্রহন করেছিলেন। ১৯৪০ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সেই দুঃখজনকভাবে তিনি আত্নহত্যা করেছিলেন ।

অল্প বয়সেই তিনি কাজ শুরু করলেও তাঁর পরিবারের ফার্মে তিনি কাজ করতে চান নি। বরং তিনি অন্য কোনো উপায়ে সম্পদশালী হতে চেয়েছিলেন। আর একারণে তিনি বোস্টনে চলে যান এবং সেখানে পেইন ওয়েবার নামক ব্রোকারেজ ফার্মে তিনি কাজ নেন। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তিনি শেয়ার ব্যবসা শুরু করেন। যে ভাবে তিনি এক হাজারের বেশী ডলার আয় করেছে, আজকের দিনে ৩ লাখ ডলার সমান এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তার পরিমান আরো বেশি হতে পারে।

অনুমানভিত্তিক শেয়ার ব্যবসায় তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন সফল ব্যবসায়ী, কিন্তু এই উপায়ে ব্যবসা করতে গিয়ে তাকে অনেকবারই নিচের দিকে নামতে হয়েছিল। কেননা তিনি দ্রুত অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিলেন এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ব্যবসায় অনাগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি যেমন অর্জন করেছিলেন ঠিক তেমনি মিলিয়ন ডলারও হারিয়েছিলেন যার জন্য তিনি আত্নহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন। liver-3

শেয়ার ব্যবসা নিয়ে তার কোনো শিক্ষা না থাকায় প্রথম দিকের বয়সে তিনি শেয়ার বাজারে প্রবেশ করেই নিজের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত আয় করেছিলেন আবার তা হারিয়েও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রচন্ড মানসিক চাপে ভুগছিলেন যা তাকে আত্নহত্যার দিকে এগিয়ে নিয়েছিলো। অনেকের কাছেই তিনি সফল ব্যবসায়ী হিসেবে বিবেচিত, যদিও এপথে তার অনেক ভুল ছিল।  কিন্তু এখনো অবধি তাঁর এই বিনিয়োগের ধরন প্রচলিত রয়েছে। তাঁর নীতি শুধুমাত্র একক শেয়ার নিয়ে ছিলোনা, সামগ্রিক বাজার নিয়ে তিনি বিশ্লেষণ করেছিলেন যার একটি পৃথক মূল্য ছিল। একক শেয়ারকে প্রাধান্য না দিয়ে সামগ্রিক বাজারের দিকনির্দেশনা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে আরো বেশি সাফল্য অর্জন করা যায়।

বিনিয়োগ রীতি: ২০১৩ সালের প্রথম দিকে জেফ Saut তাঁর সাপ্তাহিকে লিভারমোরকে উপস্থাপন করেন এভাবে-“কয়েক বছর আগে আমি জেসি লিভারমোরের শেয়ার মার্কেট নিয়ে কার্যপ্রণালী চর্চা করেছি, কয়েক দশক পরেও শেয়ার ব্যবসায় এসব কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।” Saut এর ব্যাখা অনুযায়ী, লিভারমোরের কিছু ট্রেডিং নিয়ম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল, যা ১৯৪০ সালে লেখা হয়েছিল। যা ৭০ বছর পরেও একজন ব্যবসায়ীকে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে তা মনে রাখতে হবে। সেগুলো হলো:

১. অনুমাননির্ভর হয়ে কোনো সিকিউরিটিজ কিংবা পন্যদ্রব্যে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

২. বছরজুড়েই প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে অর্থ উপার্জন করা যায় না।

৩. যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার নিজস্ব মতামতের পূর্ণ প্রতিফলন বাজারে দেখতে পাবেন না ততক্ষন পর্যন্ত মতামত নিয়ে নিশ্চিত হবেন না। আপনার রায় বহাল রাখুন। liver-2

৪. মতামত প্রায়ই ভুল হলেও মার্কেট কখনো ভুল নয়।

৫. যদি প্রথম থেকেই আপনি অনুমানের ভিত্তিতে মুনাফা অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকেন তাহলে সময়ের দিকে না চাইলে আপনি সত্যিই টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

৬. দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ধারায় বাজার যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে মুনাফা তোলার জন্য ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই।

৭. শুধুমাত্র অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করার উদ্যোগ নেয়া ঠিক নয়।

৮. কখনোই গড়ে লোকসান করোনা।

৯. কখনো এ শেয়ার কিনতে নেই যে শেয়ারের দাম তার আগের দামের তুলনায় একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

১০. শেয়ারের দর বাড়ার পিছনের সব তথ্য উদঘাটনে কৌতূহলী হওয়া ঠিক নয়।

১১. অনেক বেশি কিছুর চেয়ে কমে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত।

১২. যদি তুমি সক্রিয় দামে থাকা সত্ত্বেও কোনো শেয়ার থেকে আয় করতে না পারো তাহলে, গোটা স্টক মার্কেট থেকেও তোমার জন্য আয় করা অসম্ভব।

১৩. মনে রাখতে হবে, আজ যিনি নেতা আজ থেকে আগামী দুই বছর পর কিন্তু তিনি নেতা নাও থাকতে পারেন।

১৪. কিছু লোক টাকা উপার্জনের জন্য বিভ্রান্তমুলক তথ্য ছড়িয়ে থাকে, তাদের থেকে সাবধান। কেননা তোমার পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে গেলে তারা সেটা পূরন করে দিবে না।

১৫. বাজারের অবস্থা পর্যালোচনায় সেখান থেকে নতুনভাবে কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

প্রকাশনা সমূহ:

  • “How to Trade in Stocks”by Jesse Livermore (1940)
  • “Reminiscences of a Stock Operator” by Edwin Lefevre (1923)
  • “Jesse Livermore – Speculator King” by Paul Sarnoff (1985).
  • “Trade Like Jesse Livermore” by Richard Smitten(2004).

বাণী

০১. লোকসানকে এড়িয়ে মুনাফার প্রতি নমনীয় হতে হবে।

০২. bull অথবা bear এই উক্তিটি শেয়োর মার্কেটের ক্ষেত্রে গড়ে অনেকেই এটি স্বীকার করেন না। তারা বলেন, এখানে শেয়ার কেনা-বেচা করা হয়। তারা কোনো কিছু না করেই সামান্য থেকে অনেক কিছু পেতে চান। কিন্তু এটা যে ঝুঁকিপূর্ন ব্যবসা, তা নিয়ে তারা কখনো চিন্তাই করেনি।

০৩. এখানে যখন কেউ বিক্রি কেরতে চায় তখনই সে তা করতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা বড় অঙ্কের শেয়ার ধারণ করছেন তাদের জন্য এই ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

শেয়ারবাজারনিউজ/মা/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

Top