নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ে কি কোম্পানির শক্তি বেশি

Editorialনিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে কিছু কোম্পানি বোর্ডসভার তারিখ ঘোষণা ছাড়াই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জেরও গোচরে এসেছে। কিন্তু তাদের নিরব ভূমিকা সত্যিই হতাশাজনক। আইন করে পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে জোর দেয়া হলেও চল্লিশোর্ধ কোম্পানির পরিচালকরা তা পরিপালনে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। অথচ এদের বিষয়ে কোনো কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অবস্থা দৃষ্টে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগে উঠে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ে কি কোম্পানিগুলোর শক্তি বেশি?

যেখানে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতার জন্য স্টেকহোল্ডাররা নানা কর্মসূচি পালন করছে, সেখানে গুটিকয়েক কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে স্বচ্ছতার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে সেটা কারোরই কাম্য নয়। যদিও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলো মূলধন উত্তোলনের জন্য রাইট বা আরপিও’র অনুমোদন পাবে না বলে আইনে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, কিন্তু এই আইনে কিছু ফাঁক রয়েছে যার মাধ্যমে বন্ড ইস্যু বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করা হয়েছে।

লিবরা ইনফিউশন, সিএমসি কামাল কিংবা বিডি ওয়েল্ডিংয়ের মতো আরো কিছু কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সেটা হতে পারে না। হয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কারসাজি চক্রের আঁতাত রয়েছে না হয় কোম্পানিগুলোর সচিব সাহেবরা ক্যাপিটাল মার্কেটের কমন আইনগুলো জানেন না। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী কোম্পানির শেয়ার দরে প্রভাব ফেলতে বোর্ডসভার তারিখ ঘোষণা না দেয়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করেছে। এতে তাদের টার্গেট হিসেবে কোম্পানি সচিবদের ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ স্টক এক্সচেঞ্জের ঝামেলাগুলো কোম্পানি সচিবরাই সেরে থাকেন।

আবার দেখা গেছে, অনেক কোম্পানির সচিব রয়েছেন যারা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বলতে শুধুমাত্র ডিভিডেন্ডকেই বুঝে থাকেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আইনগুলো আয়ত্বে না থাকা। লিষ্টেড কোম্পানির সেক্রেটারি হবে অথচ সংশ্লিষ্ট কমন আইনগুলো জানবে না বা জানার চেষ্টা করবে না সেটা অনৈতিক।বিএসইসির প্রণীত করপোরেট গভর্নেন্স গাইডলাইনে (সিজিজি) কোম্পানিগুলোর সচিবকে চ্যাটার্ড সেক্রেটারি হওয়ার তাগিদ দিলেও অনেক কোম্পানি সচিবের এ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। যার কারণে এসব কোম্পানিতে স্বচ্ছতা আনয়ন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মতো কোম্পানি সচিবদেরও ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

তবে বিগত দিনগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বলতে চাই, ক্যাপিটাল মার্কেটের অনেক জটিল কাজ সহজ করা হয়েছে। এখন যে কেউ ইচ্ছে করলেই এ মার্কেটে যা খুশি তা করতে পারবে না। দক্ষ লোকবল বৃদ্ধির মাধ্যমে বিএসইসির ভীত আরো মজবুত করা হলে এসব আগাছা মার্কা কোম্পানিগুলো সহজেই সাইজ হয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

আপনার মন্তব্য

Top