ঢাকা রিজেন্সিতে শেয়ার জালিয়াতি: বাতিলের পথে আইপিও

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়ায় থাকা ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কোম্পানির কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারী সম্প্রতি অর্থমন্ত্রনালয়ে শেয়ার জালিয়াতির বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে চিঠি প্রদান করেছে। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা রিজেন্সি’র আইপিও বন্ধের বিষয়ে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রনালয়। মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রনালয় তিন দিনের মধ্যে মতামত জানতে চেয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। একই সাথে তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে আইপিও অনুমোদন বন্ধেরও আবেদন করে। অভিযোগপত্রে কোম্পানির মালিকানার জটিলতা নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান বলেও উল্লেখ করা হয়। সেখানে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠনটিতে অন্য বিনিয়োগকারীদের মতো অভিযোগকারীদের পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ রয়েছে। তারা উদ্যোক্তাদের অনিয়ম ও প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

অভিযোগকারীরা হলেন: কাজী ফয়সাল আহমেদ, কাজী কায়সার আহমেদ এবং কাজী জুবেল আহমেদ।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির পরিচালক আরিফ মোতাহার, কবির রেজা ও মোসলেহ আহমেদ নামের তিন উদ্যোক্তা হোটেল প্রতিষ্ঠাকালে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তখন তাদের পরিচালক নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের প্রথমে পরিচালক করা হয় এবং বিজনেস কার্ডও করে দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কৌশলে পর্ষদ থেকে বের করে দেয়া হয়।

এই অভিযোগপত্র বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), লন্ডনের মেয়র, হাউজ অব কমন্স, ব্রিটিশ হাই কমিশন এবং লন্ডন মেট্রো পলিটন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

চিঠির বিষয়টি সম্পর্কে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র  মো: সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, ঢাকা রিজেন্সির বিষয়ে মন্ত্রনালয় থেকে একটা চিঠি আমরা পেয়েছি, এটা সত্য। তবে তার মধ্যে কি রয়েছে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না। যেকোনো অনিয়ম সংগঠিত হলে বিএসইসি তার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান সাইফুর রহমান।

একই বিষয়ে ঢাকা রিজেন্সির কোম্পানি সচিব মিজানুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, অভিযোগটি সত্য নয়। এর আগেও তারা অভিযোগ করেছিল, তার ভিত্তিতে দুদকও তদন্ত করেছিল। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৬০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছে লংকাবাংলা ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্যাঙ্কো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেড। ইতিমধ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি অবলম্বন করে আইপিওতে বাজারে আসতে কোম্পানিটি ‘রোড শো’ সম্পন্ন করেছে। এর আগেও ফিক্সড প্রাইজে বাজারে আসার চেষ্টা করেছিল ঢাকা রিজেন্সি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে শতাধিক ব্রিটেন প্রবাসী বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে একশ কোটি টাকার ঢাকা রিজেন্সি হোটেল প্রকল্পে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ হয়। ৪শ রুমের এই হোটেল প্রকল্পের উদ্যোক্তারা লন্ডনে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। সে সময় লন্ডনের বাংলা মিডিয়ায়ও নতুন প্রজন্মের এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

তবে সেখানকার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বপ্ন হোঁচট খায় প্রকল্প শুরু হতে না হতেই। তারপর সময় যতই গড়ায়-সন্দেহ আর পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আবিষ্কার করেন বিনিয়োগের সময় যেসব কথাবার্তা হয়েছিলো তার কোন কিছুই রক্ষিত হচ্ছে না। এ নিয়ে অভিযোগের সুরাহার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বহুবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোন সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে আইনী পদক্ষেপও নেন তারা। কিন্তু তাতে উল্টো মানহানির মামলায় পড়েন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিন উদ্যোক্তা পরিচালক ৫২ কোটি টাকা এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন দাবী করেছে। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। পরিচালক মর্যাদায় বিনিয়োগকারী নেয়া হলেও তাদেরকে সে পদ দেয়া হয়নি। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে কোন লভ্যাংশ পাননি তারা, আর্থিক রিপোর্টও দেয়া হয়নি। আরেকটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের অজ্ঞাতসারে ৮০ কোটি টাকা বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ঢাকা রিজেন্সির নামে।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top