মহান বিজয় দিবস আজ

pic-23_163612শেয়ারবাজার ডেস্ক: বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন আজ। আজ ১৬ ডিসেম্বর- মহান বিজয় দিবস।

শৌর্য আর বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন এটি। এই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের সেই দিনকে, যেদিন সব হারানো বাঙালির প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার অনাবিল আনন্দ, বিজয়ের উল্লাস।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের পর ৪৩ বছর আগের এই দিনে আসে চূড়ান্ত বিজয়। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করে, সম্ভ্রম কেড়ে নেয় দুই লাখ মা-বোনের, সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে একরাশ হতাশা ও অপমানের গ্লানি নিয়ে তারা লড়াকু বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। আত্মপরিচয়ের ঠিকানা খুঁজে পায় বাঙালি। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।

এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটা স্বস্তিকর পরিবেশে এসেছে এই দিন। স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের কাছে স্বস্তির আরেকটি কারণ- বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ। একাত্তরের শীর্ষ ঘাতকদের বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। ফাঁসির রায় কার্যকরও হয়েছে একজনের। কার্যকরের অপেক্ষায় আছে আরো কয়েকজনের দণ্ড। তাই এবার উচ্চারিত হচ্ছে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি। পাশাপাশি উচ্চারিত হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি। শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি পালন করবে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।

বিজয় দিবসে স্বাধীনতার আনন্দে উদ্বেল কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সারা দেশের স্মৃতিসৌধে শহীদদের উদ্দেশে নিবেদন করা হবে পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানীসহ সারা দেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে নানা অনুষ্ঠানে। বঙ্গবন্ধুর বজ্রনিনাদ ৭ মার্চের ভাষণ আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। কেন্দ্রীয়ভাবে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে।

জাতীয় নেতাদের বাণী : বিজয় দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দল-মত-নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিনম্রচিত্তে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তিনি শত জেল-জুলুম উপেক্ষা করে বাঙালিকে বিশ্বদরবারে আপন সত্তায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনগণকে তিনি বিজয়ের এই দিনে শ্রদ্ধা জানান।

বিজয় দিবসের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন, স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান হবে না। তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। মূলত সেদিন থেকেই শুরু হয় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে ফেলাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। এরপর শুরু হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে প্রিয় মাতৃভূমির গণতন্ত্রকে ‘বিপদমুক্ত’ করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১-এ এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশের অকুতোভয় বীর মুক্তি যোদ্ধারা বিজয়ী হন। তাই ১৬ ডিসেম্বর আমাদের গর্বিত এবং মহিমান্বিত বিজয় দিবস। ‘

শেয়ারবাজারনিউজ/মা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top