যে কারণে শেয়ারবাজারে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন

dse-cse-aameranew-logo_6154_6429-copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারের গতি গত বছরের শেষের দিক থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় সূচক  ও লেনদেন গত সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। আর এর কারণ হিসেবে বাজার সংশ্লিষ্টসহ সব মহলই বলছে বাজারের উন্নয়নের স্বার্থে শেয়ারবাজার নিয়ে  খোদ প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের সুফলই পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তাছাড়া বাজারের পর বিদেশী বিনিয়োগ বাড়া এবং ব্যাংকগুলো ইন্টারেস্ট রেট কমিয়ে দেয়ায় আমানতকারীরা বাজারে আসছেন। আর এ সব কারণেই বাজারে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হচেছ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সপোজারের বিষয়ে  নীতি সহায়তা দেয়ার পর থেকেই মূলত বাজারের  টার্নি পয়েন্ট শুরু হয়।

জানা যায়, গত বছর দেশব্যাপী ২৯ জেলায় বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সম্পর্কে  ধারনা দিতে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম করতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড একচেঞ্জে কমিশন(বিএসইসি)। যা চলতি মাসের ৮ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনও করেন।

এছাড়া গত বছরে ১৩ নভেম্বর এক বৈঠকে বহুজাতিক বা বিদেশী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। যার প্রেক্ষিতে কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাবও চেয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বৈঠকে উভয় স্টক একচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), পাবলিক লিস্টেড কোম্পানির প্রতিনিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা বাজারে দ্রুত বহুজাতিক কোম্পানি বা বিদেশী কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির তাগিদ দেন। তবে তাদের পক্ষ থেকে সুনিদির্ষ্ট কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সেই কারণে কিভাবে কোম্পানিগুলোকে বাজারে আগ্রহী করা যায়, সেটিও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ, শিল্প, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য দেশে সাড়ে তিনশর বেশি নিবন্ধিত বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছে। ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, প্রসাধনসামগ্রী, শিশু খাদ্যসহ পণ্যবাজারের একটি বড় অংশ এসব কোম্পানির দখলে। বছর গেলে বড় মুনাফাও করে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে গত সাত বছরে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন কাজে আসেনি। ২০০৯ সালে গ্রামীণফোনের পর আর কোনো বিদেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। বর্তমানে সাড়ে তিনশ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মাত্র ১২টি।

এদিকে, বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান বৃদ্ধি ও বিনিয়োগে বিভিন্ন তথ্য বিভ্রান্তি দূর করতে এ ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম চালু করেছে বিএসইসি। ইতিমধ্যে স্টিয়ারিং কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি নামক দুইটি কমিটি গঠন করেছে।

বিএসইসি বলছে, এই ধরণের একটি বড় উদ্যোগের মূল বিষয় হলো কার্যক্রমটির ছক তৈরী করা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কর্মসূচী সম্পন্ন করার সম্ভাব্য সময়, টার্গেট গ্রুপ, সংশ্লিস্ট সকলের অংশগ্রহণ, কার্যক্রমের সমন্বয়, লক্ষ্য. উদ্দেশ্য, নীতি, কৌশল, পদ্ধতি, উপকরণ, বাজেট, তহবিল, পর্যবেক্ষন, মূল্যায়ন ইত্যাদি। কমিশন ইতোমধ্যে কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্পৃত্ত করে এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছে।

সেই প্রেক্ষিতে স্টিয়ারিং কমিটি এবং টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপরন্তু, টেকনিক্যাল কমিটির অধীনে আরও ১০টি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, এই কার্যক্রমকে সঠিকভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে টেকন্যিকাল কমিটির তত্ত্বাবধানে বেশকিছু ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক পরিচালক মো. মাজেদুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, বর্তমান বাজার গতি হওয়ার কারণই হচ্ছে বাজার নিয়ে বিভিন্ন মহলের ইতিবাচক বক্তব্য। তাছাড়া বাজারের ইক্যুইটি এখন অনেকটাই ব্যবহার হচ্ছে। আর এ কারণে বাজারের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাজার ভালো অবস্থায় রয়েছে। ধারাবাহিক উত্থানের কারণে দেশের শেয়ারবাজার অনেকটাই বিনিয়োগ উপযোগী হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সাল দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি ভাল বছরের সূচনা মাত্র। চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহের সূচক ও লেনদেনের ধারাবাহিকতা দেখলে অনুমান করা যায় ধস পরবর্তী একটি সফল বছর। এ বছর শুরু থেকেই টানা সূচক ও লেনদেন বাড়ছে।

এছাড়া গোটা বাজারের জন্য এ বছরের জন্য রয়েছে অনেকগুলো শুভ খবর। প্রধানমন্ত্রীর আগমন থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় বিএসইসির মেলা এবং সরকারের প্রবৃদ্ধি উন্নতির সাথে শেয়ার বাজারকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি। তাছাড়া বর্তমান বাজারে ক্ষুদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছে। আর এ কারণে বর্তমানে মার্কেটে হাজার কোটির ওপরে লেনদেন হচ্ছে।

এ ব্যপারে ডিএসই’র ব্রোকার্স এ্যাসোসিয়শেনের সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী শেয়ারবাজরনিউজ ডটকমকে বলেন, বর্তমান বাজার ভাল হওয়ায় বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসছে। বাজারে প্রতিদিনই নতুন ক্যাপিটাল যোগ হচ্ছে। তাছাড়া ব্যাংকগুলো ইন্টারেস্ট রেট কমিয়ে দেয়ায় আমানতকারীরা বাজারে আসছেন। তাছাড়া গত এক বছর ধরে বাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষগুলো অনবরত কাজ করেছেন। তারই সুফল এখন শুরু হয়েছে। এর সাথে স্ট্রেটেজিক পার্টনাররা আসলে বিনিয়োগকারীরাও আরো আগ্রহী হবেন। সামনের দিনগুলোতে বাজার আরো ভাল হবে; কারণ ডেরিভেটিভ মার্কেট, ক্লিয়ারিং সেটেলমেন্ট কোম্পানি এবং ডাটা সেন্টার করা হচ্ছে। এসব প্রোডাক্ট নিয়ে আসলে বাজারের গ্রোথ অটোমেটিক্যালি বেড়ে যাবে।তখন আমাদের পুঁজিবাজার একটি সুস্থ্য বাজারে পরিনত হবে। তখন এর গতি এবং গন্তব্য থাকবে আরো উচ্চতায়। এসবগুলো দৃশ্যমান হওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top