জরিমানা থেকে ছাড় পায়নি প্রাইম সিকিউরিটিজের সিইও ইয়াজদানি

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করার দায়ে প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) আবুল কালাম ইয়াজদানিকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন। এর পাশাপাশি শর্টসেল এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কমিশন ওয়েস্টার্ন সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। একই অপরাধে এসআর ক্যাপিটাল লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা এবং হাউজের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে।

এরই প্রেক্ষিতে বিএসইসর কাছে জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছিল দুই সিকিউরিটিজ হাউজ এবং দুই ব্যাক্তি। এর মধ্যে দুই সিকিউরিটিজ হাউজকে এবং  এক ব্যাক্তিকে জরিমানা কমালেও আরেক ব্যাক্তির আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তারা জরিমানা মওকুফের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে প্রাইম সিকিউরিটিজের সিইও ইয়াজদানি বাদে বাকী সবার জরিমানা কমিয়েছে কমিশন।

মো: আবুল কালাম ইয়াজদানী: কমিশনের তদন্ত টিম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এসপিসিএল) শেয়ার লেনদেনে আবুল কালাম ইয়াজদানী তাঁর নিজস্ব বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব সম্পর্কিত মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রদান করেছেন। যার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৮ ধারা ভঙ্গ হয়েছে।

এর মাধ্যমে আবুল কালাম প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিভিন্ন পক্ষকে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়ে সম্পৃক্ত করেন। ফলে বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি হয়। শেয়ার ঘাটতির কারণে এর দর বেড়ে যায়। এ কাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর সেকশন ১৭ (ই) (ভি) এবং সিকিউরটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধি ১১ ও দ্বিতীয় তফসিল এ বর্ণিত আচরণবিধি ৬ ও ৭ ভঙ্গ হয়েছে।

বর্ণিত সিকিউরিটিজ আইনগুলো পরিপালনে ব্যর্থতার জন্য কমিশন আবুল কালাম ইয়াজদানীকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। আর এ জরিমানা মওকুফ চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেন ইয়াজদানী। কিন্তু তার অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর বিধায় আবেদন বাতিল করে দেয় কমিশন। এর ফলে তাকে জরিমানার পুরো টাকাই পরিশোধ করতে হবে বলে জানান বিএসইসির মুখ্যপাত্র ও নিবার্হী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান।

ওয়েস্টার্ন সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড: বিএসইসির নিয়মিত পরিদর্শনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)এই ব্রোকারেজ হাউসে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে জরিমানা মওকুফের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদন আমলে নিয়ে কমিশন জরিমানা মওকুফের বদলে দুই লাখ টাকা কমিয়ে ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।

এসআর ক্যাপিটাল: সিএসইর সদস্য এসআর ক্যাপিটাল লিমিটেড কমিশনের নিয়মিত পরিদর্শন টিম অনেক অনিয়ম পেয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার শর্ট সেল করার মাধ্যমে সিএসইর আইন ২০০৫ এর আইন ৪(১) এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার,স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০এর বিধি ১১ লঙ্ঘন।

পরিচালকদের মার্জিন ঋণ সুবিধার মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশ নং-এসইসি/এসএমআরআরসিডি/২০০১/-৪৩/৫১ তারিখ ২২/০৭/২০১০ লঙ্ঘন। নন মার্জিনেবল জেড ক্যটাগরির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণ প্রদান করার মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশ লঙ্ঘন। সম্মন্বিত গ্রাহক হিসেবে এর তহবিল ঘাটতি থাকা এবং পরিচালকের অর্থ উত্তোলন করার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৮৭এর রুলস ৮এ এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার,স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০এর বিধি ১১ এবং দ্বিতীয় তফসিলের আচরণ বিধি লঙ্ঘন।

এছাড়াও গ্রাহকদের হিসাবে ডিপিএ৬ ও পোর্টফোলিও হিসাবে গরমিল থাকার মাধ্যমে এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার,স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০এর বিধি ১১ ভাঙায় দ্বিতীয় তফসিলের আচরণ বিধি ১ লঙ্ঘন করাসহ আরও দু‘টি আইন লঙ্ঘন করায় কোম্পানিকে ১০ লাখ আর পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।

পরবর্তীতে তারা জরিমানা মওকুফের আবেদন জানায়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন এসআর ক্যাপিটালের জরিমানার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা থেকে দুই লাখ টাকা কমিয়ে আট লাখ টাকা ধার্য করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো: সিদ্দিকুর রহমানের জরিমানা দুই লাখ টাকা থেকে এক লাখ টাকা কমিয়ে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top