ভালো মুনাফা দিয়েছে পাওয়ার সেক্টরের ১৪ কোম্পানি

dseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের মন্দা অবস্থা কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাজারে ফিরতে শুরু করেছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। আর এর প্রভাবে বাজারে গত এক বছরের (১২ জানুয়ারি ২০১৬, থেকে ১২ জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত) তুলনায় তালিকাভু্ক্ত সব খাতে দর বেড়েছে। তবে সব থেকে বেশি বেড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে। এ খাতের মোট ৭৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের সাথে সম্পৃক্ত বিনিয়োগকারীরা সাধারণ দুই ধরনের মুনাফা সংগ্রহ করতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যাপিট্যাল থেকে অন্যটি ডিভিডেন্ড থেকে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক অবস্থা ইতিবাচক থাকলে বছর শেষে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীরই ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে মুনাফা করতে পারে। কিন্তু লেনদেন মন্দার কারনে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যাপিট্যালের মাধ্যমে মুনাফা তুলা সম্ভব হয় না।

তবে ২০১৬ সালের জুনের পর থেকে লেনদেনের ইতিবাচক প্রবণতায় বিগত এক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের অর্থাৎ পাওয়ার সেক্টরের বেশির ভাগ কোম্পানির ক্যাপিট্যাল থেকে মুনাফা তুলতে পেরেছে বলে জানানা তারা্।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিগত এক বছরের ব্যবধানে দর বেড়েছে ১৪টির আর দর কমেছে ৫টি কোম্পানির। দড় বাড়া কোম্পানিগুলো হলো: ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ডেসকো, জিবিবি পাওয়ার, যমুনা অয়েল, লিনডে বিডি, মবিল যমুনা, পদ্মা অয়েল, শাহজিবাজার পাওয়ার, ডোরিন পাওয়ার, বিডি ওয়েল্ডিং, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, খুলনা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার।

উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের। আলোচিত কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩০৬.৯ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪০.২ টাকা হয়। অর্থাৎ এ সময় কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯৩৩.৩ টাকা বা ৩০৪.১০ শতাংশ।

দর বৃদ্ধিতে থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ডেসকোর শেয়ার দর ৫১.৩ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭.২ টাকায় লেনদেন হয়। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৯০ টাকা বা ১১.৫০ শতাংশ। জিবিবি পাওয়ারের শেয়ার দর ১৮.৭ টাকা থেকে বেড়ে ২৩.৭ টাকা হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৫ টাকা বা ২৬.৭৩ শতাংশ।

যমুনা অয়েলের শেয়ার দর ১৫৩.৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৩.১ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৯.৭০ টাকা বা ২৫.৮৮ শতাংশ। লিনডে বিডির শেয়ার দর ১১২৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩২৭.৩ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২০১.৩০ টাকা বা ১৭.৮৭ শতাংশ।

মবিল যমুনার শেয়ার  দর ৯৫.২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩.৯ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর ২৮.৭০ টাকা বা ৩০.১৪ শতাংশ বেড়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার দর ১৪৬.৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৪.৬ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৮.২০ টাকা বা ২৬.০৯ শতাংশ।

পদ্মা অয়েলের শেয়ার দর ১৭৮.৭ টাকা থেকে ১৯২.৫ টাকায় লেনেদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ১৩.৮০ টাকা বা ৭.৭২ শতাংশ। পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার দর ৫১.৩ টাকা থেকে ৫৭ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৭০ টাকা বা ১১.১১ শতাংশ।

শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার দর ১২২.৭ টাকা থেকে ১৪৮.২ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর ২৫.৫০ টাকা বা ২০.৭৮ শতাংশ বেড়েছে। আর তিতাস গ্যাসের শেয়ার দর ৪৯.৩ টাকা থেকে ৫১.৬ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ২.৩০ টাকা বা ৪.৬৬ শতাংশ।

এদিকে, ডোরিন পাওয়ারের শেয়ার দর ৮৩.৭০ টাকা থেকে ১১৩.৩০ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানরি শেয়ার দর  ২৯.৬০ টাকা বা ৩৫.৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ডোরিন পাওয়ার গত বছরের ৬ এপ্রিল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

অন্যদিকে, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার দর ২০.৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২.৮০ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৮ টাকা বা ৩৮.৪৬ শতাংশ। সিভিও পেট্টোকেমিক্যালের ৩১৮.৮০ টাকা থেকে ২১১.৪০ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ১০৭.৪০ টাকা বা ৩৩.৬৮ শতাংশ।

খুলনা পাওয়ারের শেয়ার দর ৭৭.৫০ টাকা থেকে কমে ৬৬ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ১১.৫০ টাকা বা ১৪.৮৩ শতাংশ। সামিট পাওয়ারের শেয়ার দর ৪১.৪ টাকা থেকে ৪১ টাকায় লেনদেন হয়। সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর ০.৪০ টাকা বা ০.৯৬ শতাংশ কমেছে। আর ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ার দর ১৬১.৬০ টাকা থেকে ১৫০.৪০ টাকায় লেনদেন হয়।  সে হিসেবে কোম্পানির শেয়ার দর ১১.২০ টাকা বা ৬.৯৩ শতাংশ কমেছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top