যেমন ছিল বিল মিলারের বিনিয়োগ ধরণ

bill millerবিল মিলার ১৯৫০ সালে লরিনবার্গের নর্থ ক্যারোলিনায় জন্মগ্রহন করেন। মিলার হচ্ছেন ল্যাগ ম্যাসন ভ্যালু ট্রাস্ট ((LMVTX) ফান্ডের পোর্টফোলিও ম্যানেজার। তার পরিচালিত এই ফান্ডটি  মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লাভজনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার দক্ষ পরিচালনার জন্য  S&P 500 ইনডেক্সে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত একটানা ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে এই ফান্ডটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। মিলারের এই ফান্ডটি ১৯৯০ সালে $750মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০০৬ সালে $20 বিলিয়নে উন্নীত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনী: বিল মিলার ১৯৭২ সালে ওয়াশিংটন এবং লী ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি জে.ই বেকার কোম্পানিতে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে সেই কোম্পানির ট্রেজারার হন। তিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সালে ল্যাগ ম্যাসনে কর্মরত ছিলেন। মিলার ১৯৮৬ সালে তার সিএফএ উপাধি লাভ করেন। ‌ল্যাগ ম্যাসনে তিনি চেয়ারম্যান এবং ল্যাগ ম্যাসন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একই সাথে তিনি শান্তা ফে ইন্সটিটিউটের বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শান্তা ফে ইন্সটিটিউট হচ্ছে জটিল তত্ত্ব প্রনালী বিষয়ক একটি বিখ্যাত মাল্টি ডিসিপ্লিনারী গবেষনাগার কেন্দ্র। ১৯৯০ সালে মানি ম্যাগাজিন দ্বারা ‘The Greatest Money Manager of the 1990’s’ তার নামকরণ করা হয়েছিল। একইসাথে ১৯৯৮ সালে “Domestic Equity Manager of the Year’ হিসেবে মর্নিংস্টার তার নামকরণ করেছিল। ১১৯৯ সালে তিনি ‘Fund Manager of the Decade’ হিসেবে মর্নিংস্টার ডট কম দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঐ একই বছর ব্যারন্স তাকে ‘সকল শতাব্দীর ইনভেস্টমেন্ট টিম’ এবং বিজনেস উইক তাকে ‘Heroes of Value Investing’ হিসেবে নামকরণ করেছিল।

বিনিয়োগের ধরণ: ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত ফরচুন ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এন্ড্রি সারোয়ারের মতে, বিল মিলারের বিনিয়োগের ধরন হচ্ছে অনুসরনীয়। বিল মিলার হচ্ছেন একজন স্ব-বর্ণিত ভ্যালু ইনভেস্টর, কিন্তু তার ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের সংজ্ঞানুযায়ী তা গতানুগতিক ভ্যালু ইনভেস্টরের মানকে ব্যাহত করে। মিলার বিশ্বাস করে যে, যে কোন স্টকই মূল্যবান হতে পারে যদি এটা তার অন্তর্নিহিত মূল্য থেকে মূল্য ছাড় দিয়ে লেনদেন করে। ল্যাগ ম্যাসন ভ্যালু ট্রাস্ট ফান্ডের ১৫ বছরের সফলতাই মিলারকে উচ্চতার শীর্ষে পৌছে দেয়ার জন্য সর্বাধিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এর থেকে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা শিক্ষা নিয়ে নিজেরা লাভবান হতে পারেন। বিল মিলার সাফল্যের দুটি লক্ষণ চিহ্নিত করেছেন- পূর্ণাঙ্গ সিকিউরিটি এনালাইসিস এবং পোর্টফোলিও নির্মাণ । কিভাবে এ দুটি উপাদান কাজ করে তা ২০০৬ সালে ভ্যালু ট্রাস্টের শেয়ারহোল্ডারদের ফোর্থ- কোয়ার্টার পত্রতে বিল মিলার বর্ননা করেছিলেন।

প্রকাশনাসমূহ:

  • “The Man Who Beats The S&P: Investing With Bill Miller” by Janet Lowe (2002)

বানীসমূহ:

১. আমি মনে করি আমাদের বিশ্লেষকরা একটি কোম্পানির অতীত সম্পর্কে শতভাগ তথ্য সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ তবে একটি শেয়ারের শতভাগ নির্ধারিত মূল্য তার ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করে।

২. অধ্যাপকরা আমাদের বলে থাকেন যে, বাজার থেকে পাওয়া লাভজনক তথ্যগুলো আমাদের প্রতিফলিত করে। আয়নায় যেমন যথাযথভাবে আপনার ওজন প্রতিবিম্ব হয়না তেমনি বাজারেও তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়না। সাধারনত বিনিয়োগকারীরা তখনই হতাশাপূর্ণ হয় যখন এটি খারাপের দিকে ধাবিত হয় এবং তখনই আশাবাদী হয় যখন বাজার ভালো হয়।

০৩. অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/মা/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top