নুতন টাকার ঝল্কানিতে আলোকিত পুঁজিবাজার

Editorialচলতি বছরের শুরুটাই যেন বিগত দিনের অন্ধকার দূর করার আলো নিয়ে এসেছে। টানা ১০ কার্যদিবস দৈনিক লেনদেন হাজার কোটির ওপরে অবস্থান করাটা শুধু ভাবিয়ে তোলে যে এতোদিন এই টাকাগুলো কোথায় ছিল। যেমনটা মনে হয়েছিল ৬ বছর আগে যে বাজারের এতো টাকা কোথায় গেল। তবে পোর্টফলিও ম্যানেজারদের কাছে এটি হচ্ছে ৭ বছরের পুনরাবৃত্তি। অর্থাৎ প্রতি ৭ বছর পরপরই মার্কেটে এ ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই পূর্বেকার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই টাকা দিয়ে টাকা বানানোর মোক্ষম সময় বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে।

একটু পেছন ফিরলে দেখা যায়,  ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর, ২ এবং ৫ ডিসেম্বর এই তিনদিন শুধুমাত্র ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় শেয়ারের মূল্য ছিল অনেক। এদিকে বর্তমানে শেয়ারের মূল্য এতোটাই কম যে একটি ক্যান্ডি বা একটি সিগারেটের মূল্যে চাইলেই একটি শেয়ার কেনা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতে ১৫’শ কোটি টাকার ওপর লেনদেন যেন তখনকার ৪ হাজার কোটি টাকার সমান।

তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে অদৃশ্য শক্তির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কোন দেশের পুঁজিবাজার বাড়তে গেলে “অদৃশ্য শক্তির” দরকার হয়। আমাদের পুঁজিবাজারে সেই “অদৃশ্য শক্তির” আগমন হতে চলেছে। এখন সেই “অদৃশ্য শক্তির” উপস্থিতি স্পষ্টই ভেসে উঠেছে। যারা এতো দিন বাজারের টাকাওলা হিসেবে পরিচিত ছিল তারাও যেন নুতন টাকার ঝল্কানিতে নিজেদের অসহায় মনে করছে।

সবারই একটাই প্রশ্নঃ- বাজারে এতো টাকা কোথা থেকে এলো? গত ৬ বছর সবার একটাই প্রশ্ন ছিলঃ- বাজারের এতো টাকা কোথায় গেল? ঠিক এভাবেই সামনের দিন গুলোতে সবাই একটাই প্রশ্ন করবে আর তা হচ্ছে বাজারের এতো টাকা কোথা থেকে আসলো? আসলে বাজারে টাকার এই আসা-যাওয়া এই ২টি বিষয়ে চিন্তা করা একেবারেই অমূলক। সবই সেই “অদৃশ্য শক্তির” খেলা। এখন যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে সেই খেলায় আপনি কতটা অংশগ্রহণ করতে পারলেন।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top