শঙ্কার কিছু নেই তবুও সতর্কতা প্রয়োজন

Editorialযদিও বাজারকে স্থায়ী স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার জন্য  সরকারসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই তবুও ‘সাবধানের মাইর নাই’ প্রচলিত এই প্রবাদটি মনে না রাখলেই নয়। যেভাবে সূচক ও লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বর্তমান পুঁজিবাজার গতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এখই বিনিয়োগকারীদের সাবধানের সঙ্গে লেনদেন করতে হবে। অযৌক্তিক অতিরিক্ত দরে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বড় ভাই বলেন আর মামু বলেন এই মার্কেটে কেউ কারো আপন নয়। সবাই যার যার সেফ পজিশন নিয়ে চিন্তা করে। তাই আপনাকেও আপনার সেফ পজিশন নিয়ে ভাবতে হবে। অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখলেন যাদের প্ররোচনায় ঢুকেছেন তারাই ওই শেয়ার থেকে বের হওয়ার ছক আকঁছেন। তাই পরে হায় হায় করার চেয়ে আগে থেকেই চিন্তা করুন।

সংগতির অতিরিক্ত ঋণ গ্রহন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ না করে অনিশ্চিত তথ্য বা চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অথবা গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মানেই নিজের পায়ে নিজে কুঁড়াল মেরেছেন। তাই বিনিয়োগ মানেই নিশ্চিত লাভ এ মানসিকতা দূর করুন। যেই শেয়ারের দর ঊর্ধ্বমুখী সেটাতে বিশ্লেষণ ছাড়াই ঝাঁপিয়ে পড়টা শুধু নিজের ক্ষতি নয় বরং পুরো পুঁজিবাজারের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১০ সালের আগের চিত্রে ফিরে যাবেন না। সঞ্চয়ের পুরোটা একই খাতে বিনিয়োগ করাটা বোকামি। আশাতিরিক্ত লাভের প্রলোভন থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে আশার কথা হলো বর্তমান পুঁজিবাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। এখানে চাইলেই কেউ যা ইচ্ছে তা করতে পারবে না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সদা সতর্ক প্রহরীর মতো কাজ করছে। অত্যাধুনিক সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যারের বদৌলতে মার্কেট এখন অনেক স্বচ্ছ।

আরেকটি আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশের মাথা পিছু গড় আয় গত ৬ বছরে বেড়েছে ৭৮% শতাংশ,গত ১৬ বছরে দরিদ্রতার হার কমে গেছে প্রায় ৫০% শতাংশ,দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির শতকরা হার ৭% এর উপরে অবস্থান করছে যা চাট্টিখানি কথা নয়। দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাত যেখানে এতোদূর এগিয়ে গেছে সেখানে পুঁজিবাজারের অগ্রগতি সন্তোষজনক হয়নি। তাই এবার অর্থনীতির অন্যান্য খাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুঁজিবাজার আরো এগিয়ে যাবে সে চেষ্টাই সংশ্লিষ্ট মহল থেকে করা হচ্ছে। একসময় পুঁজিবাজার নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করা শ্রদ্ধেয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় এখন প্রায় অনুষ্ঠানেই পুঁজিবাজারের গুনগান করছেন। আশা দিচ্ছেন যে বাজার আরো শক্তিশালী হবে।

কিন্তু এতোসব পজিটিভ পদক্ষেপে  বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। সাবধানের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। সেই ইঙ্গিত দিয়েই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই কোম্পানির আর্থিক অবস্থা যাচাই করে বিনিয়োগ করবেন। হুজুগে বিনিয়োগ করে পরবর্তীতে লোকসান গুনবেন আর সরকার এবং অর্থমন্ত্রীকে দোষারোপ করবেন এটা হবে না। তাই হুজুগে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির ভীত দেখে বিনিয়োগ করুন।

পরিশেষে বুঝে,জেনে,যাচাই বাছাই করে বিনিয়োগ করুন। বিনিয়োগ আপনার ঝুঁকি আপনার।

 

 

আপনার মন্তব্য

Top