বিনিয়োগ বিরোধী লিখে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্য কি?

meshbahগতকাল শেয়ার মার্কেটের ব্যাপক দরপতন হয়েছে, যারা পত্রিকায় লেখা-লেখি করেন, তারা কি বলবেন। খুশী হয়েছেন নাকি অন্য কিছু! শেয়ার মার্কেটে ইনভেষ্টর কারা, কোম্পানীগুলো কোন দেশের? সবই তো আমাদের দেশের নাকি অন্য দেশের। ২০১০ সালের শেয়ার বাজার পতনের পর আবার ২০১৭ সালে শেয়ার বাজার যখন একটু উর্ধ্বমুখী হয়েছে, তখনই পত্রিকা গুলো আতংকিত সংবাদ দেয়া শুরু করলো, কারন কি? এমনকি বিশাল ফিচার আকারে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণসহ লিখলেন একটি নিউজের সম্পাদক।

দীর্ঘ ৬ বছর যখন শেয়ার বাজার তলানীতে ছিলো, গতিহীন ছিলো, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ নিয়ে সবাই চলে গিয়েছিলো তখন তো কেউ লিখেন নাই। কেনো? রহস্যটা কি, কারনগুলো কি? একটি দেশের অর্থনীতির সূচক শেয়ার বাজার। শেয়ার বাজার এ দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে, ভবিষ্যতেও রাখবে। অর্থনীতিতে শেয়ার বাজারের এ অবদান শুধুমাত্র আমাদের দেশেরই নয়, সারা বিশ্বের দেশসমুহে রাখে। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য, দেশের অর্থনীতিতে সাধারন মানুষের অবদান রাখার জন্য জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ দায়িত্বে শেয়ার বাজারকে একটি স্বাভাবিক, সুস্হ ধারায় ফিরিয়ে আনার যখন উদ্যোগ নিয়েছেন ঠিক সেই মুহুর্তে কিছু লোক এর পিছনে লেগেছে। তাদের উদ্দেশ্য কি, কি চায় উনারা।

সেই সম্পাদক অনেক লিখেছেন, তার একটি পয়েন্ট হলো বেক্সিমকো’র সালমান সাহেব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নাকি চিঠি দিয়াছেন বাজার এর এই উর্ধ্বগতি সম্পর্কে। উনার আজকের লেখার আগে তো এ মর্মে সালমান রহমান শেয়ার বাজার সম্পর্কে কোন বিবৃতি পত্রিকা ছাপিয়েছেন, কেউ কি বলতে পারবে, নাকি দেখাতে পারবে? পারলে সাধুবাদ জানাবো। যদি বাজারকে শক্তিশালী করার জন্য কোন সাজেশন থাকে তাহলে তা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জকে লিখতে পারেন বা বলতে পারেন। কারন তারাই বাজার নিয়ন্ত্রনকারী সংস্হা। কেউ সেখানে বাজারের ভাল-মন্দ সম্পর্কে লিখলে ধন্যবাদ জানাবো।

কিন্তু পত্রিকায় বড় বড় হেড লাইনে বিনিয়োগ বিরোধী লিখে সাধারন বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্য কি? কি হয়েছে বাজারে- ব্যাংক, ফাইন্যান্স এর শেয়ারের দাম বেড়েছে। এমনিতে এ শেয়ারগুলো ডিসেম্বর ক্লোজিং। হয়তবা আগামী মাস থেকে এগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষনা দিবে। তাই একটু দাম বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। তাছাড়াও এ বছর ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে সেই সুবাদে একটু দাম বাড়তে পারে। ব্যাংকের শেয়ার দীর্ঘদিন খুবই তলানীতে ছিলো, অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম ফেস ভ্যালুর থেকেও অনেক কম ছিলো। এমনকি ১০ টাকা দামের শেয়ার ৬/- ৮/- টাকা ছিলো। সেই সব শেয়ারের দাম সামান্য একটু বাড়ছে এর বেশী কিইবা হয়েছে। যখন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের শেয়ারের দাম ভালো মুনাফা করা সত্ত্বেও ফেস ভ্যালুর নীচে ছিলো তখন তো কেউ কোন কথা বলেন নি। কেনো বলেন নাই?

তখন এই সব শ্রদ্ধাভাজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, পত্রিকাসমুুহ ও তাদের সম্পাদকগন কি করছেন? তাদের কি কোন দায়িত্ব, কর্তব্য ছিলো না এ বিষয়ে কথা বলার। কিন্তু একটু সামান্য দাম বাড়ায় এখন মন্তব্যের ফুলঝুরি বেড়োচ্ছে। ২ দিন আগেও মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন দেশের শেয়ার বাজার সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে দেশের শেয়ার বাজার একটি শক্তিশালী বাজার হবে। আমার প্রশ্ন হলো মাত্র কয়েকদিন আগে সালমান রহমান ২০১০ সালের শেয়ার কেলেংকারী মামলা থেকে খালাস পেলেন কিন্তু তখন তো অর্থনীতিবিদ, কোন পত্রিকা, সম্পাদক, কিছু লিখেন নাই, কেনো?

অথচ লিখলেন বাজার সম্পর্কে তার চিঠি দেয়ার বিষয়ে। কিন্তু কেনোই বা লিখবেন তিনি, বাজারে এমন কি হয়েছে? জনাব সালমান রহমান দেশের একজন স্বনামধন্য শিল্পপতি, বেক্সিমকো গ্রুপের কর্নধার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। তার প্রতিটি কাজ, সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে করেন বলে আমরা বিশ্বাস করি ও জানি। আজ যখন দেশ জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি গনতান্ত্রিক দেশে প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করছেন, তখন কেনো কয়েকটি দেশী পত্রিকাসমুহের, ব্যক্তি বিশেষের শেয়ার বাজার নিয়ে এতো মাতামাতি। বুঝলাম এ দেশের বিনিয়োগকারীরা হয়ত শেয়ার বাজার বুঝে না তাই এতো বিশ্লেষনধর্মী লেখা।

উনাদের একটি “শেয়ার বাজার শেখার জন্য একটি শিক্ষা কেন্দ্র” খোলা উচিৎ বলে মনে করি। তাহলে দেশের মানুষ শেয়ার ব্যবসা শিখতে পারত, বিনিয়োগকারীসহ দেশ, জাতি সবাই উপকৃত হতো। পত্রিকায় অংক কষলে, বিশ্লেষণ করলে তো কেউ শিখতে, জানতে পারবে না। দেশের বিনিয়োগকারীরা হয়তবা শেয়ার বাজার জানে না, বুঝে না কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তো বুঝেন! নাকি তারাও বুঝেন না। “শেয়ার বাজার জুয়ার বাজার”, এ ধরনের হেড লাইন দিয়ে শেয়ার বাজার নিয়ে যারা পত্রিকায় লিখেন, মন্তব্য করেন তাদেরকে ঘৃনা ভরে ধিক্কার জানাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারের আমলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বিরাজমান থাকায় সারা বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা যখন দেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছে, দেশের উন্নতিতে অবদান রাখছে। আর ঠিক তখনি উনারা সজাগ হয়েছেন, আর কলম ধরেছেন। যাতে এ বাজার আর না উঠতে পারে। না কি অন্য কিছু! জননেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের আজকের বাংলাদেশের আর্থিক, সামাজিক উন্নতি সারা বিশ্বের কাছে একটি “মডেল”। সমস্ত বিশ্বের লোক দেশের এ উন্নতিতে সরকার প্রধানের প্রশংসায় মুখরিত। আর সে মুহর্তে দেশের কিছু লোক মনে হয়ত চায় যাতে দেশ স্বনির্ভর না হয়, একটি গতিশীল অর্থনীতি না হউক। আমরা দেশের অর্থনীতির সার্বিক উন্নতি কামনা করি। সুতরাং আসুন সবাই মিলে জাতির জনকের আজীবন স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করি। এই বাংলাদেশই হবে দক্ষিন-পুর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সিংহ। সবার সাফল্য কামনা করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাদল

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

আপনার মন্তব্য

৪ Comments

  1. Md. Badrul Islam said:

    Era sangbadik nam-e- somajer kit…….boro playerder dalal….bazar kharap thakle eder kicchu jai ashe na…..bazar valo hote dekhle…….shorire poskha othe….tokhon ja mon chai ta likhe potrikay……..

  2. আতাউর said:

    এক আঁটি লাউ শাকের দামও যেকোন ব্যাঙ্কের একটা শেয়ারের দাম থেকে বেশী।

*

*

Top