ফের আইপিও খরচ কমাতে বললো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

bsec-bbশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন উত্তোলনের খরচ কমাতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করারও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে এমনটা উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনেও শেয়ারবাজার বিষয়ে এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতেও একই পরামর্শ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বড় আইপিওর চেয়ে ছোট আইপিওতে ইস্যুয়ার কোম্পানির ব্যয় তুলনামূলক বেশি

২০১৫-১৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে পুঁজিবাজার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের অতিমূল্যায়ন ও ধসের পর দেশের পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে চর্চিত উৎকৃষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে ব্যাংকের মূলধনভিত্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পুঁজিবাজারে ব্যাংকিং খাতের এক্সপোজারও নামিয়ে আনা হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বড় আইপিওর চেয়ে ছোট আইপিওতে ইস্যুয়ার কোম্পানির ব্যয় তুলনামূলক বেশি। আইন সংশোধনের পর এখন যেসব কোম্পানি অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করে, তাদের ক্ষেত্রে আইপিও ব্যয় বেশি। সাধারণত অভিহিত মূল্যে আইপিওর ক্ষেত্রে আইপিও ব্যয় মোট ইস্যু মূল্যের ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে প্রিমিয়ামে আসা আইপিওর ক্ষেত্রে এ ব্যয় গড়ে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের মাধ্যমে ইস্যু ব্যবস্থাপনা ফি আগের তুলনায় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়-দায়িত্বও বেড়েছে। সংশোধিত আইনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিওর কনসেন্ট ফিও অনেক বাড়িয়েছে।

আইন সংশোধন ও পদ্ধতিগত জটিলতায় বিলম্বের কারণে শেয়ারবাজারে সম্প্রতি আশানুরূপ সংখ্যায় আইপিও অনুমোদন হচ্ছে না। আবার সরকারি সিদ্ধান্তে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়ায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসছে না। ২০০৯ সালের পর কোনো বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।

মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সূত্রে জানা যায়, ইস্যু ম্যানেজারের পরামর্শক ফি বাদে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন উত্তোলনে গড়ে পৌনে ৭ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে আইপিও ব্যয় হয়েছে গড়ে সোয়া ২ শতাংশ। আবার মোট আইপিও খরচের সর্বাধিক ৩৫ শতাংশের বেশি খরচ হয় আইপিও পরবর্তী খরচ হিসেবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলধন উত্তোলনের প্রকৃত খরচ আরও বেশি। কোম্পানিগুলো প্রসপেক্টাসে যে খরচ দেখায়, এর বাইরে অন্তত ১ থেকে ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত আইপিও আবেদন জমা দেওয়ার আগেই ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠান, অডিটর এবং ভেল্যুয়ার কোম্পানি কনসালটেন্সি ফি বাবদ ২০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা নেয়। কোম্পানি এবং শেয়ার বিক্রির পরিমাণের ওপর তা ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত দাঁড়ায়। এ হিসাব কখনওই আইপিও খরচে অন্তর্ভুক্ত হয় না। আইপিওতে আসা সর্বশেষ ২০ কোম্পানির আইপিও খরচের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, শতাংশের হারে সর্বাধিক ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে ইফাদ অটোস কোম্পানির। কোম্পানিটি সোয়া ২১ কোটি টাকার মূলধন তুলতে গিয়ে খরচ করেছে পৌনে ৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফার কেমিক্যাল কোম্পানির ১১ শতাংশ, ন্যাশনাল ফিড মিলসের পৌনে ১০ শতাংশ, জাহিন স্পিনিং মিলসের খরচ পড়েছে সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি। এ তিন কোম্পানি যথাক্রমে ১২ কোটি, ১৮ কোটি এবং ১২ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করেছে। বিপরীতে শতাংশের হারে উত্তোলিত মূলধনের সর্বনিম্ন দেড় শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড কোম্পানির। কোম্পানিটি আইপিও প্রক্রিয়ায় প্রিমিয়ামসহ সর্বমোট ১৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার মূলধন তুলেছে। এতে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া শাশা ডেনিমস কোম্পানির খরচও দেড় শতাংশ। পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গড়ে মোট আইপিও খরচের ১০ শতাংশ ইস্যু ব্যবস্থাপনা ফি, সাড়ে ১৩ শতাংশ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি ফি, পৌনে ৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফি, ব্যাংকার টু ইস্যু ও অবলেখন ফি প্রায় ২৫ শতাংশ, সিডিবিএল ফি বাবদ সোয়া ৩ শতাংশ, পোস্ট আইপিও খরচ বাবদ সোয়া ৩৫ শতাংশ এবং প্রিন্টিং বাবদ সাড়ে ৭ শতাংশ খরচ হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সরকার সম্প্রতি সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পেনশন সঞ্চয় স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নতুন একটি পেনশন ফান্ড রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আর্থিক ও পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় আহরণ সহজ হবে, যার সুফল পাবে বাজার।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top