দেশীয় বাজারে এপেক্সের জুতা বিক্রি বেড়েছে ২.৮৬ শতাংশ

apex-foot-এ্যাপেক্স-ফুটওয়্যারশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশীয় ব্র্যান্ডের জুতা উৎপাদনে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড। কিন্তু দেশের বাজারে জুতা বিক্রিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি সামান্য।

চলতি ২০১৬-২০১৭ হিসাব বছরের প্রথম অর্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) দেশীয় বাজারে কোম্পানিটির জুতা বিক্রি মাত্র ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিদেশে জুতা রপ্তানিতে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বিদেশে জুতা বিক্রিতে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

কিন্তু বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও ব্যবস্থাপনা খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির বিপনন বিভাগের এক কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, চলতি হিসাব বছরের প্রথম ভাগে দেশীয় বাজারে আমাদের জুতা বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বেড়েছে। অপরদিকে একই হিসাবে বিদেশের বাজারে জুতা রপ্তানিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থাৎ ৪৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

বিপনন বিভাগের এ কর্মকর্তা আরো জানান, দেশীয় বাজারে প্রতিবছর আমাদের মোট বিক্রির ৪০ শতাংশই আসে রমজান মাসে। বিদেশে বিশেষ করে ইউরো জোনে আমাদের রপ্তানির হার বেশি। আর সেখানে মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশ হয় শীতকালে। এ কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বর(ইউরো অঞ্চলে শীতকাল) পর্যন্ত আমাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশি থাকে। তাই হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমাদের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ভাল আসে।

এদিকে অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির মোট ৭১৭ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার টাকা জুতা বিক্রি হয়েছে। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৬১ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ আলোচিত সময়ের ব্যবধানে জুতা বিক্রি ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ৫৬ কোটি ৬৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা বেড়েছে।

এছাড়া চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) কোম্পানিটির মোট ২৭৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জুতা বিক্রি হয়েছে। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ আলোচিত সময়ের ব্যবধানে জুতা বিক্রি ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ৬ কোটি ১৬ লাখ ৪ হাজার টাকা বেড়েছে। দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি কমেছে।

কিন্তু আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির জুতা বিক্রি বাড়লেও এর সাথে বিপনন খরচও ব্যাপক বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি আসেনি।

চলতি অর্থ বছরের প্রথম ভাগে কোম্পানিটির জুতা বিক্রি বাবদ খরচ হয়েছে ৫৮২ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫২৭ কোটি ১১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির জুতা বিক্রিতে খরচ ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৫৫ কোটি ৪০ লাখ ২ হাজার টাকা বেড়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে জুতা বিক্রিতে খরচ হয়েছে ২০৭ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৯৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। দেখা যাচ্ছে খরচ ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ১৪৪ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির উৎপাদন ও বিপনন খরচ বেড়েই চলেছে।

এ প্রসঙ্গে এপেক্স ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিব এসএম শাহজাহান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির অংশ হিসেবে নতুন জনবল নিয়োগসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবছরই বাড়ছে দোকান ও শো-রুমের ভাড়া বাবদ খরচ। নির্দিষ্ট জায়গায় শো-রুম স্থাপন করার কারণে ইচ্ছা করলেই তা পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। বেড়েছে কারখানার খরচও। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচও আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুনাফা কমার পেছনে কোম্পানির অদক্ষতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও প্রবৃদ্ধি কিংবা মুনাফা কমে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আয়বৃদ্ধি করতে না পারাটা প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার পরিচায়ক বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সাবেক সভাপতি এএসএম শায়খুল ইসলাম বলেন, এপেক্স ফুটওয়্যারের মূল বাজার ইউরোপ হওয়ায় টাকার বিপরীতে ইউরোর মান হ্রাস কোম্পানির মুনাফায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে ধারাবাহিকভাবে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক। কোম্পানিকে হয় ব্যয় সংকোচন করতে হবে, না হয় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সাল থেকে এপেক্স নামে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে পাদুকা শিল্পে সর্ববৃহৎ টার্নওভারের কোম্পানি। ২০১৫ সালে দেশের বাইরে ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৮ জোড়া জুতা রফতানি করে এ কোম্পানি। দেশের বাজারে বর্তমানে এর ১৭৯টি আউটলেট, ২৫৬টি পাইকারি ও ২৫৮টি খুচরা ডিলার রয়েছে।

এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি ১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ২০.২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৩১.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৭.৮৬ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর ৩৩৭ টাকা। গত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩৮৭ টাকা থেকে ৩৩৭ টাকায় উঠা-নামা করেছে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ২০১২ সাল থেকে ৫০ শতাংশ বা তার ওপরে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। গত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top