বিএসইসি’র আরো ক্ষমতা প্রয়োজন: কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী

nizamiশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারের বিদ্যমান অনিয়ম দুর্নীতি বিশেষ করে ইনসাইডার ট্রেডিং এবং তথ্য পাচার বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) আরো ক্ষমতা প্রয়োজন। শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সংস্থাটির কমিশনার অধ্যাপক মো: হেলাল উদ্দীন নিজামী এমন মন্তব্য করেন।

সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান যেসব কার্যক্রম নিয়ে কমিশন এগুচ্ছে অচীরে তাতে বিশ্বমানের পুঁজিবাজার গঠন হবে। ইতোমধ্যে কমিশন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসসিও) ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়েছে।

পুঁজিবাজারের অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের প্রতিবেদককে বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে ভারতীয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’ কে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পাচার ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি সেইসব কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোনে আঁড়ি পাততে পারে। এতে সে দেশের পুঁজিবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং কীংবা তথ্য পাচারের ঘটনা অনেক কম। কিন্তু এখানে আমাদের এতো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সরকারের কাছে আমরা বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদেরও আমরা বুঝিয়েছি পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিএসইসি কোন ছাড় দেবে না।

পুঁজিবাজারের অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে বিএসইসির হাতে বিদ্যমান যে ক্ষমতা রয়েছে তার প্রয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১০ সালের মহাধসের পর আমাদের এই কমিশন অনেক সংস্কার মূলক কাজ করেছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের আইন কানুনগুলো যুগপযোগী করা হয়েছে। তাই ২০১০ এর পুঁজিবাজার আর এখনকার পুঁজিবাজার এক নয়। পুঁজিবাজারে অনিয়ম দুর্নীতিকারীদের কমিশনের হাত থেকে এখন আর বাঁচার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে ধরে আমরা নিজেরাই বিচার করছি এবং শাস্তি দিচ্ছি। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট মামলা দ্রুত নিশ্পত্তি করার জন্য আলাদা পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা চাইলে বিও হিসাবধারী যে কোন ব্যাক্তির ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করতে পারি। এরজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। শুধু তাদের জানালেই হয়। এ নিয়ে আমরা আইনও জারি করেছি। এতে সন্দেহজনক লেনদেন ধরতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আর এ ক্ষমতা আমাদের পাশাপাশি একমাত্র দুদকের রয়েছে।

লোকবল সঙ্কট নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ে অনেক রথি-মহারথিরা দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তারা কেউই কমিশনের লোকবল নিয়ে কাজ করেননি। এমনকি এতোদিনেও কমিশনের কর্মকর্তাদের জন্য সার্ভিস রুলই তৈরি হয়নি। তাহলে প্রশ্ন আসবে কমিশন এতোদিন কীভাবে চলেছে?  এতোদিন কমিশনের কর্মকর্তারা সার্ভিস প্র-বিধিমালা দিয়ে চলেছে। তবে আমরাই প্রথম সার্ভিস রুল তৈরির কাজে হাত দিই। আমি বলবো কমিশনের অন্য যে কোন কাজের চেয়ে এ কাজটিই সবচেয়ে কঠিন ছিল। সার্ভিস রুল তৈরির জন্য আমাদের প্রায় যুদ্ধ করতে হয়েছে। কিন্তু এ কাজে আমরা কাউকে ছাড় দেইনি। এতে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই আমরা জনপ্রশাসন থেকে অর্গানোগ্রাম এবং সার্ভিস রুল অনুমোদন করে এনেছি। যেখানে অন্যান্যদের এ কাজ করতে বছরের পর বছর সময় পার হয়। এখন বিষয়টি অর্থমন্ত্রণালয়ে আছে।

সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার আইপিও এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে অফলোডের বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফরম তৈরি করেছে কমিশন। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্যও আইন তৈরি করা হয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি সবধরণের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারের দড়জা খোলা রয়েছে।

আইপিও ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আরো সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপি অনেক কোম্পানি রয়েছে ‘সিআইবি’ রিপোর্টের জন্য কোন ব্যাংক থেকে ঋণ পায় না। তাই তারা পুঁজিবাজারে আসে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে। যদিও আমরা আইন করেছি আইপিও’র টাকার তিন ভাগের এক ভাগের বেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা যাবে না। কিন্তু তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোন কোম্পানি ঋণ খেলাপি কীনা তা জানতে হয় আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু এতে অনেক সময় তথ্য পাওয়া যায় না। আর আমরাও চাই না ঋণ খেলাপি কোন কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করুক। তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আরো সমন্বয়ের প্রয়োজন।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

One Comment;

*

*

Top