আইপিও আবেদনে উভয় পদ্ধতি চালু রাখা হোক

Editorialঅনেক আশা নিয়ে ১০ টাকা শেয়ারের একটি কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করেছেন কতিপয় বিনিয়োগকারী। লটারির রেজাল্ট দেয়ার পর অনেক খোজাখুজি করেও তার আইডি মিলাতে পারেননি। হতাশ হয়ে ভাগ্যের দোষ দিয়ে চুপ করে রইলেন। কিছুদিন পর দেখলেন যে আইপিও লিষ্টের ওপর ভিত্তি করে লটারি করা হয়েছে সে লিষ্টে তার আইডিই ছিল না। তার নামে হাউজের পক্ষ থেকে কোনো আবেদনই করা হয়নি। হতাশ বিনিয়োগকারীর হতাশার মাত্রা আরো বেড়ে গেল।

সম্প্রতি একটি সিকিউরিটিজ হাউজের ক্ষেত্রে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। যেখানে সাড়ে তিন হাজার আইডি’র বিপরীতে মাত্র ৬৫টি আবেদন করা হয়েছে। হাউজটি বিনিয়োগকারীদের আবেদন স্বত্ত্বেও তাদের টাকা দিয়ে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন করেছে বলে অভিযোগও রয়েছে। তবে হাউজ কর্তৃপক্ষ বলেছে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইপিও আবেদন জমা দেয়া যায়নি। অবশ্য এই বিষয়টি অনেক হাউজও স্বীকার করেছেন যে পাইলট প্রজেক্টে তাদের মাঝে মধ্যে টেকনিক্যাল সমস্যা হয়ে যায়।

এখন হাউজের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীরাতো আর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না। সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ব্যবসা হচ্ছে আইপিও ব্যবসা বা প্রাইমারি মার্কেট। আবার শেয়ার ব্যবসায় প্রবেশের প্রথম ধাপই হচ্ছে এই আইপিও বাজার। এখানেই যদি ধোঁকা খেতে হয় তাহলে মূল বাজারে কখনই আস্থা ফিরবে না। অনেক বিনিয়োগকারী এখন হাউজ আইপিও পদ্ধতি বাতিল করে পূর্বের ব্যাংক আবেদন পদ্ধতি চালু করার পক্ষে রয়েছেন।

এদিকে শুধু বিনিয়োগকারীরাই নন কোম্পানিগুলোও ব্যাংক আইপিও আবেদন পদ্ধতি চালু রাখার পক্ষে সায় দিচ্ছেন। কারণ আগের পদ্ধতিতে ওভার সাবস্ক্রিপশন পড়লে কোম্পানিগুলো মোটা অঙ্কের সুদ বাবদ টাকা পেতো যা এই পাইলট প্রজেক্টে পাচ্ছেন না। বরং ওভার সাবস্ক্রিপশন জমা পড়লে আরো বেশি খরচ বহন করতে হচ্ছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আইপিও পদ্ধতি চালু থাকায় কোম্পানিগুলো এ খাত থেকে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় হতো। এই আয় দিয়ে কোম্পানির আইপিও ব্যয় বহন করার পাশাপাশি রিজার্ভ থাকতো। এতে ঘুরেফিরে বিনিয়োগকারীরাই এই রিজার্ভের অর্থ ডিভিডেন্ড আকারে পেতেন। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে হাউজগুলো লাভবান হচ্ছে যার অংশ বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন না । অন্যদিকে বেশি সাবস্ক্রিপশন জমা পড়লে কোম্পানিকে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদয় বিবেচনা করা দরকার।

অবশ্য বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি তথা ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন, অ্যালটমেন্ট বা রিফান্ড পেতে কালক্ষেপণ ইত্যাদি দূর করার জন্যই পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে। কিন্তু এই ভোগান্তি কমার ফলে যদি অন্যদিকে বেশি ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে নিশ্চয়ই কেউ ক্ষতিটা চাইবে না।

তাই আইপিও আবেদনে দোনো পদ্ধতিই রাখা হোক। যদি কেউ ভোগান্তি স্বত্ত্বেও ব্যাংকে আইপিও আবেদন জমা দিতে চায় এবং এতে যদি বিনিয়োগকারীর মানসিক শান্তি পাওয়ার পাশাপাশি কোম্পানিরও উপকার হয় তাহলে মন্দ কি।

 

 

আপনার মন্তব্য

৪ Comments

  1. Idris Miah said:

    Better is to distribute new IPO share according to treading record performance of small BO account holder.

  2. Pritom Sarkar said:

    কুত্তার বাচ্চাগুলার সেকেন্ডারি বাজার নষ্ট কইরা সাধ মিটে নাই, এখন আবার নজর দিছে আই.পি.ও বাজারে। আর কত রক্ত চুষবি সাধারণ মানুষের, নিজেদের রক্ত তো সাদা কইরা ফালাইছিস। চুরি যদি করসই তবে সরাসরি কর এতো লটারী নাটক করস কেন, তাহলে অন্তত সাধারণ বিনোয়োগকারীগুলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্তের হাত থেকে রক্ষা পায়।

  3. Pritom Sarkar said:

    এখন আই.পি.ও আবেদনই বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ। আই.পি.ও লটারি হইলেও তো সেইটা আর সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য নাই, এখন তো সেইটা কিছু কুত্তার বাচ্চাগুলার হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তাই পদ্ধতি একটাই হোক বা উভয়ই হোক তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারী কোনো লাভ নাই। তাই আইপিও আবেদনের উভয় পদ্ধতি নিয়ে কথা না বলে কিভাবে আই.পি.ও লটারিতে চুরি বন্ধ করা যায় সেইটা নিয়ে কথা বলেন। তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য কিছুটা হইলেও লাভ হবে।

*

*

Top