কি হচ্ছে মিথুন নিটিংয়ে?

Mithun-knittingশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। কোম্পানিটির ফ্যাক্টরীতে নিরাপদ কর্মস্থান না থাকায় নিজেদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে অ্যাকর্ড। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাকর্ড সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তাদের ফ্যাক্টরী বন্ধ করতে হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর অ্যাকর্ড থেকে তালিকাচ্যুত হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি),ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়নি মিথুন নিটিং।

এদিকে সরেজমিনে কোম্পানির ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের ঠিকমতো বেতন-ভাতা দিচ্ছে না মিথুন নিটিং। বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকরা প্রায়ই ধর্মঘট করছে। যে কারণে প্রতিমাসেই কোনো না সময় মিথুন নিটিংয়ের ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকছে। এছাড়া কোম্পানির মুনাফা থেকে কোনো অংশই বিনিয়োগকারীদের দেয়া হচ্ছে না। প্রতিবছর শুধু স্টক ডিভিডেন্ডের নামে কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে অযৌক্তিক হারে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু এসব দায় কোম্পানির পরিচালকরা নেবে তো দূরের কথা বরং নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এমন আশঙ্কায় কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের ভার অন্য একটি গ্রুপকে হস্তান্তর করেছে। যদিও বর্তমান মিথুন নিটিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পুরোপুরি মালিকানা হস্তান্তর করেনি। তবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন মিথুন নিটিংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রাবেয়া খাতুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাহবুব-উল-হক এবং পরিচালক হিসেবে মোজাম্মেল হক,রফিকুল হক এবং আতিকুল হক। সম্প্রতি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের কারণে এসব পরিচালক বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন।

এদিকে মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে যারা নতুন করে এসেছেন তারা হলেন: ডা: একেএম শাহাবুব আলম (চেয়ারম্যান), শওকত মাহমুদ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), নিয়ান মাহমুদ (পরিচালক), রোজী আক্তার খান (পরিচালক), একেএম ফারুকি (পরিচালক), শামসুদ্দিন চৌধুরী এফসিএ (স্বাধীন পরিচালক) এবং ডা: সায়েবা আক্তার (স্বাধীন পরিচালক)।

উল্লেখ্য, মিথুন নিটিংয়ের আগের পরিচালকরা সম্প্রতি ঘন ঘন শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের মনে এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দর গত তিন মাসে ৭০ টাকা থেকে ৫৪ টাকায় নেমে এসেছে। ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দেয়া এ কোম্পানিতে প্রতিনিয়তই বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করলে তিনি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, অ্যাকর্ড থেকে আমাদের তালিকাচ্যুত করা হয়েছে কথা সত্য। কিন্তু এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের কাউকে জানানো হয়নি। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতা কারণে একটু ঝামেলা হচ্ছে। তবে শিগগিরই এ জটিলতা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মিথুন নিটিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৮০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার ১৬২টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৩৯.৭৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১১.৯৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৮.২৬ শতাংশ শেয়ার।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

Top