আইডিআরএ’র মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেরও শুভবুদ্ধির উদয় হোক

Editorialশেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সিদ্ধান্তের আলোকে এখন থেকে যে সব জীবন বীমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসেবে নিয়ম ভেঙ্গে অতিরিক্ত খরচ দেখাবে তাদেরকে লভ্যাংশ  দেয়ার ক্ষেত্রে  নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থাটি আর বাধা দেবেনা। ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়ে অভিযুক্ত জীবনবীমা কোম্পানিগুলোও এখন  লভ্যাংশ দিতে পারবে। নানা সঙ্কটে জর্জড়িত এবং প্রায় বিধ্বস্ত বর্তমান পুঁজিবাজারের জন্য এ সংবাদটি নি:সন্দেহে একটি খুশির খবর। আমরা মনে করি বিনিয়োগকারীদের দু:সময়ে জীবন বীমার পলিসি গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদেরস্বার্থ রক্ষায় আইডিআরএ’র এ ধরনরে নমনীয় ভূমিকা শেয়ার বাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে নিতে সহায়তা করবে। আইডিআরএ’র পাশাপাশি এ বাজারের অন্যান্য স্টেক হোল্ডারগনও যদি এ ধরনের একটি করে খবর সৃষ্টি করতে পারে আমাদের বিশ্বাস বাজার ভালো হতে বেশি দিন সময় লাগার কথা নয়। শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পত্রিকা “শেয়ারবাজার নিউজডটকমের” খবরে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, একটু বিলম্বে হলেও আইডিআরএ’র এই বোধ জন্মেছে যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে শুধুমাত্র ইন্সুরেন্স কোম্পানীগুলোকে রক্ষা করাই তাদের কাজ নয়। বরং বীমা ব্যবসার গ্রাহক এবংশেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করাও তাদের অন্যতম কাজ। এর বাইরে যে সব জীবন বীমাকোম্পানি ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসেবে নিয়ম ভেঙ্গে অতিরিক্ত খরচ করেছে, তাদের অ্যাকচ্যুরিয়ালবেসিস অনুমোদন স্থগিত করার ক্ষমতা সংস্থাটির রয়েছে। আর অ্যাকচ্যুরিয়াল বেসিসঅনুমোদন না হলে কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহককে কোন লভ্যাংশ দিতে পারে না।এতে কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা হলেও শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহকের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি সীমার অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেছে তাদের বিরুদ্ধে যদি লভ্যাংশ দেয়ারবিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তাহলে আইডিআরএ’র মূলনীতি অর্থাৎ গ্রাহক ও শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার নীতিটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তাই বীমা নিয়ন্ত্রণকারী এ কর্তৃপক্ষগ্রাহক এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্য হয় এমন সিদ্ধান্ত নিবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইন অনুযায়ী, জীবন বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনা ব্যয় হিসেবে নতুন পলিসি বিক্রি বাবদপ্রথম বছর প্রিমিয়াম আয়ের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ এবং নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের সর্বোচ্চ ১৫শতাংশ পর্যন্ত খরচ করতে পারে। কিন্তু ২০১৪ অর্থবছরেও অধিকাংশ কোম্পানি ব্যাবস্থাপনাব্যয়ের জন্য নির্ধারিত এ সীমা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে আইডিআরএ’র অনুসন্ধানে এসেছে।
এর আগে, ২০১৩ হিসাব বছরে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে অধিকাংশ জীবন বীমাকোম্পানির অ্যাকচ্যুরিয়াল বেসিস অনুমোদন স্থগিত করে। পরবর্তীতে শর্ত সাপেক্ষে তিনটিকোম্পানি বাদে অন্য কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়। ফলে অনুমোদন পাওয়াকোম্পানিগুলো লভ্যাংশ দিতে পারলেও বাদ পড়া তিনটি কোম্পানি তাদের শেয়ারহোল্ডার ওগ্রাহকদের কোন লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বাদ পড়া কোম্পানি তিনটি হলো পুঁজিবাজারেতালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং প্রগ্রেসিভ লাইফইন্স্যুরেন্স।
আমাদের ধারনা মতে উল্লেখিত তিনটি কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার ও গ্রাহকের সংখ্যাও কয়েক লাখের মতো। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য আইডিআরের উদ্যোগটি বর্তমান সময়ের জন্য একটি মাইল ফলক। শেয়ার হোল্ডাররা এজন্য বেশি টাকা হয়তো পাবেনা কিন্তু বাজারের জন্য এটি অবশ্যই ইতিবাচক। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় যে, অনুরুপ আরেক ঘটনায় আরেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এই দু:সময়ে অমানবিক আচরন করে কয়েকটি ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ দেয়ার এখতিয়ার রোধ করে দিয়েছে। আইডিআরের মত এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিরও শুভবুদ্ধির উদয় হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শেয়ারবাজার/ও

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top