বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত: সেবি পারলে বিএসইসি কেন নয়

Editorialভারতের দুটি বাঘা বাঘা কোম্পানির সম্পত্তি জব্দ করে নজির স্থাপন করেছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)। উদ্দেশ্য একটাই এসব কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা। সাহারা গ্রুপের অ্যাম্বী ভ্যালি এবং রিয়েল স্টেট কোম্পানি পিএসিএল লিমিটেডের সঙ্গে অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তি জড়িত থাকলেও কোনো পাত্তাই দেয়নি সেবি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ দুটি ঘটনায় অত্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশটির শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু একটু আফসোসের বিষয় হচ্ছে আমাদের পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানা কাজের বাস্তবায়ন করলেও এদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

জিএমজি এয়ারলায়ন্স চোখের সামনে দিয়ে এতোগুলো টাকা নিয়ে গেলেও কিছু করা যাচ্ছে না। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে শুধু নিয়েই যাচ্ছে। অবশ্য এ দুটি কোম্পানির পেছনে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থাকায় কোনো কিছু করা যাচ্ছে না এমনটা জনশ্রুতি রয়েছে। আনন্দ শিপইয়ার্ড, এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হসপিটাল) এর মতো বেশকিছু কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ প্লেসমেন্টের টাকা আটকে রয়েছে। এসব কোম্পানি থেকে বের হতে না পেরে নিজেদের কপাল চাপড়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতো গেল ভালো বলে খ্যাত কোম্পানিগুলোর অবস্থা।

ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে ৩০টির বেশি কোম্পানি পড়ে আছে যেগুলোর উদ্দেশ্যই ছিল বিনিয়োগকারীদের অর্থ লোপাট করা। সজীব নিটওয়্যারের মালিক সবকিছু ভোগ করে আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজের কাছে বেঁচে দিয়ে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। দোয়েল গ্রুপের কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব সংকটে। রাঙ্গামাটি ফুড, রাসপিটের দুই কোম্পানিসহ বেশকিছু কোম্পানি ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে। অনেকে অবশ্য আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এর দায় থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এড়িয়ে যেতে পারে না। পুঁজিবাজারের অভিভাবক হিসেবে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর পাশে থাকবে এটাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে সবাই কামনা করে।

বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিনিয়োগে সচেতন করতে নানামুখী কার্যক্রম হচ্ছে। যা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করবে সেটার গোড়ার গলদ দূর না করলে এরকম অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের রেজাল্ট ভালো আসবে না। তাই যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে চম্পট দিতে চাইছে বা দিয়েছে সেগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পাকরাও অভিযান চালানো উচিত। বিএসইসির এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবল নিয়োগ দেয়া সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পারলে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন এর ‘এ’ ক্যাটাগরির তালিকায় রয়েছে বিএসইসি। যা চাট্টিখানি কথা নয়। তবে এটা ধরে রাখতে হলে শতভাগ স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মাথা উঁচু করে আমরা দাঁড়াতে পারবো। এজন্য বিএসইসিকে দু’একটি নজির স্থাপন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। বিএসইসি পাকরাও অভিযান শুরু করলে অন্যান্য কোম্পানিও হুঁশিয়ার হয়ে যাবে। এতে বদ খেয়ালের চিন্তা মাথায় কেউ আনলেও সাবধান হয়ে যাবে। বিএসইসির জন্য শুভকামনা……

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top