আইন আছে প্রয়োগ নেই!

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিভিন্ন আইন থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছতা আনয়নে প্রতিনিয়তই বাধা হচ্ছে। বিএসইসির প্রণীত কয়েকটি আইন রয়েছে যা প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো ভ্রুক্ষেপ করছে না। আবার একাধিক আইনের প্রয়োগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই করছে না। এমনই একটি আইনের নাম সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার,স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা,২০০০।

এ আইনের আচরণ বিধির ৭ নং ধারায় বলা হয়েছে,কোনো স্টক ডিলার,স্টক ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি এককভাবে অথবা অন্যান্যদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কোনো কৃত্রিম বাজার সৃষ্টি করতে পারবে না;যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকর হবে অথবা বাজারের সুষ্ঠু ও অবাধ কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করবে। ইতিমধ্যে পুঁজিবাজারে একাধিক কোম্পানিকে ঘিরে কৃত্রিম বাজার সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এমনটি এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনফোর্সমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রমানও পেয়েছে। কিন্তু কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সে অনিয়ম এখনও চলছে। বিশেষ করে নতুন কোম্পানি আসার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বাজার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ার দর একটানা কয়েক কার্যদিবসে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। যা বিনিয়োগকারীদের মনে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একাধিক সিকিউরিটিজ হাউজের বিরুদ্ধে নিজ স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রেও সিকিউরিটিজ আইনের অবমাননা করা হয়েছে। জানা গেছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার,স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা,২০০০ এর আচরণ বিধির ২ এর ১ ধারায় বলা হয়েছে,প্রত্যেক স্টক ডিলার,স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি তার মক্কেলের সঙ্গে কায়-কারবারের সময় বিশ্বস্ততার সহিত তাদের ফরমায়েস মোতাবেক মক্কেলের জন্য সর্বোত্ত বাজার দরে সিকিউরিটি ক্রয় বা বিক্রয় করিবেন। কিন্তু হাউজগুলো গ্রাহকের ফরমায়েশ অনুযায়ী যে দরে শেয়ার কিনেছে তার চেয়ে অনেক কম দরে কোনো রকম জানানো ছাড়াই বিক্রি করে দিয়েছে। যা এ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়া এ আইনের আচরণ বিধির ৬ ধারায় নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য অপকৌশল প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হলেও হাউজগুলো সে আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। আইনে বলা হয়েছে,কোনো স্টক ডিলার,স্টক ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কোনো অপকৌশলের আশ্রয় নিতে পারবে না। কাউকে ঠকানো বা প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে কোনো লেনদেন করতে পারবে না বা নিজ স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে অথবা বাজারের ভারসাম্য বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোনো গুজব ছড়াইতে বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি সবসময় সদা সতর্ক রয়েছে। কোনো সিকিউরিটিজ হাউজ যদি আইন ভঙ্গ করে তাহলে অবশ্যই ভুক্তভোগিকে বিএসইসির বরাবর চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। তারপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুসন্ধান করে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top