এক নজরে নূরানী ডাইংয়ের হালচাল

NURANI DYEING & SWEATER LTDশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার অনুমোদন পাওয়া নূরানী ডাইং এন্ড সোয়েটার লিমিটেড প্রসপেক্টাস প্রকাশ করেছে। প্রসপেক্টাসে কোম্পানিটির ব্যবসার বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে।

কোম্পানিটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে ২০০৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তবে পাবলিক লিমিটেডে হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর।

নূরানী ডাইং এন্ড সোয়েটার লিমিটেডের হিসাব বছর মার্চ ক্লোজিং। আর অর্থ আইন অনুযায়ী কোম্পানিটি হিসাব বছর জুন ক্লোজিং করেছে। তাই ২০১৬ সালে কোম্পানিটি ১৫ মাসের হিসাব নিরীক্ষা করেছে। এতে এপ্রিল, ২০১৫ থেকে ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের ১৫ মাসে পণ্য বিক্রি বাবদ আয় করেছে ১৩০ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। যা এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে ছিল ৯৮ কোটি ১৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে আয় হয়েছিল ৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এদিকে ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটির কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৭৯ পয়সা। যা ২০১৫ সালে ছিল ৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং ইপিএস ১ টাকা ১২ পয়সা। ২০১৪ সালে ছিল ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং ইপিএস ১ টাকা ২৮ পয়সা।

তবে বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৫ বছরে নূরানী ডাইংয়ের গড় ইপিএস ১ টাকা ৭৯ পয়সা।

কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে বলা হয়েছে, মোট আয়ের ৭০ দশমিক ৯৩ শতাংশ আসে ইয়ার্ণ ডাইং পণ্য বিক্রির মাধ্যমে। ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত সময়ে ইয়ার্ণ ডাইং থেকে আয় হয়েছে ৯২ কোটি ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বাকী ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ আয় এসেছে নিটিং পণ্য থেকে। আলোচিত সময়ে নিটিং থেকে আয় এসেছে ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

এদিকে ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪ টাকা ৩৭ পয়সা। যা ২০১৫ সালে ছিল ২০ টাকা ৩৫ পয়সা। ২০১৪ সালে ছিল ১৬ টাকা ৬৫ পয়সা। কোম্পানিটির বর্তমান দীর্ঘ মেয়াদি ব্যাংক ঋণ ৪১ কোটি ৯৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এবি ব্যাংকের কাছে মেয়াদি ঋণ ৫৪ কোটি ৫৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে স্বল্প মেয়াদি ঋণ রয়েছে ৩৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রসপেক্টাসে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ জুন, ২০১৭ শেষে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, ২০১৮ সালে ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ২০১৯ সালে মুনাফা হবে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এদিকে ২০১৬-২০১৭ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি কর পরিশোধের পর প্রকৃত মুনাফা করেছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ইপিএস ৪০ পয়সা। যা এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত মুনাফা ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ইপিএস ৩৯ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির এনএভি হয়েছে ১৪ টাকা ৭৭ পয়সা। যা ৩০ জুন, ২০১৬ শেষে ছিল ১৪ টাকা ৩৭ পয়সা।

এর আগে ৫৯৭তম কমিশন সভায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে (আইপিও) কোম্পানিটিকে অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ৪ কোটি ৩০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ৪৩ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন দিয়েছে।

আগামী ২ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আইপিও আবেদন সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।

আইপিও’র টাকা কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত খরচ মেটানোর পাশাপাশি ফ্যাক্টরির জন্য মেশিনারিজ ক্রয়ে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, স্থাপনা নির্মাণে ৫ কোটি ৪৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ঋণ শোধে ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করবে। আইপিও’র টাকা পাওয়ার পর আগামী ২১ মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা এবং শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি। তবে আইপিও’র টাকা সংগ্রহের পর কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৮৩ কোটি টাকা এবং শেয়ার সংখ্যা হবে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন রেহানা আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এসকে নূরুল আলম দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পরিচালক পদে রয়েছেন এসকে নূর মোহাম্মদ আজগর, দাউদপুর রাইস মিলস প্রাইভেট লিমিটেডের নমিনি বিবি হাজেরা এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মো: আনোয়ারুল হক।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের কাছে বর্তমানে ৭৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আইপিও’র পর পরিচালনা পর্ষদের শেয়ার ৩৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে নামবে। এছাড়া বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আইপিও’র পর সাধারণ বিনিয়োগকারীর শেয়ার ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

Top