বেপরোয়া অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ: আদালত ও বিএসইসির নির্দেশও তাদের কাছে তুচ্ছ

Allinceশেয়ারবাজার রিপোর্ট: অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ এন্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (ডিএসই ট্রেক নং ১৩৭) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বন্দ্বের মূল কান্ডারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাধব চন্দ্র দাশ এবং পরিচালক পার্থ প্রতিম দাশ। পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে আদালতের নির্দেশে অবৈধ হওয়া সাবেক পরিচালক তপন কৃষ্ণ পোদ্দার। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ আদালত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কাউকে না জানিয়ে তারা সম্মিলিত ভাবে মার্জিন ঋণের সুদ আরোপ বন্ধ করেছে। এমনকি কোন বাছ বিচার না করেই কারসাজির মাধ্যমে মার্জিন সুদ এড ব্যাক (আদায় করা সুদ ফেরত) করেছে।

তারা এ কাজটি করেছে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায়ের অগোচরে। কোম্পানির এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি এমনকি পর্ষদ সভা ডেকে অনুমোদনও নেয়নি অপর দুই পরিচালক বলে দাবী করেন পঙ্কজ রায়।  যা কোম্পানি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর এসব অনিয়ম এক চিঠির মাধ্যমে বিএসইসিকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায়।

চিঠিতে চেয়ারম্যান দাবী করেন, কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেগেটিভ ইকুইটিতে মার্জিন ঋণে সুদ আরোপ বন্ধ এবং বিদ্যমান সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে কিছু জানানো হয়নি। এর মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের অন্য দুই সদস্য মাধব চন্দ্র ও পার্থ প্রতিম দাশ নিজেদের এবং আত্মীয় স্বজনদের নামে বে-আইনি ভাবে যে মার্জিন ঋণ নিয়েছে তা ফেরত না দিয়ে বরং কারসাজি করে কমিয়েছে।অথচ কোম্পানির পর্ষদে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বে-আইনিভাবে নেওয়া মার্জিন ঋণ সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত পরিচালকেরা কোন পারিতোষিক, কোন প্রকার ডিভিডেন্ড, ঋণ বা অগ্রিম এবং নতুন কোন মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না বলে  কমিশন ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোম্পানির ফান্ডের টাকা দিয়ে শুধুমাত্র অফিস খরচ করা যাবে। তাই অবিলম্বে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসি’র চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ভুয়া বিল দেখিয়ে দৈনন্দিন অফিস খরচ বাবদ এ দুই পরিচালক কোম্পানির ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা অফিসের কোন কাগজ পত্র কিংবা চিঠি চেয়ারম্যানকে দেখতে দেয় না। তবে এ সম্পর্কে তার কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাধব ও পরিচালক পার্থ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি মোট ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৬ টাকার মার্জিন সুদ এড ব্যাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৬ টাকা এড ব্যাক করা হয়েছে গৌতম মনি দাশের হিসাবে। তিনি পরিচালক পার্থ প্রতীম দাশের ভাই। এছাড়া তাদেরই আত্মীয় স্বজন নিতেশ চন্দ্র দত্ত, তপন কৃষ্ণ পোদ্দার এবং সুমেশ চন্দ্র সাহার মার্জিন সুদ এড ব্যাক করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোম্পানিটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে নেগেটিভ ইকুইটিতে মার্জিন সুদ আরোপ বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া একই হিসাবে আরোপিত সুদ এড ব্যাক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

এর আগে কমিশন ৫৯৫তম সভায়, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের পরিচালকেরা নিজের ও আত্মীয়দেরকে শেয়ার কেনার জন্য মার্জিন ঋণ প্রদান করায় কোম্পানিটিকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসি আরো জানায়, কোম্পানিটির পরিচালকেরা নিজেদের এবং আত্মীয়দেরকে শেয়ার কেনার জন্য বে-আইনিভাবে মোট ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে মার্জিন ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাধব চন্দ্র দাশ নিজে এবং তার মা, বাবা, স্ত্রী, ভাই, বোন, ভাগিনা, ভাতিজা, শ্যালক ও বোনকে ৮ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে।

অপর পরিচালক তপন কৃষ্ণ পোদ্দার ও তার বোনকে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৬ টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছেন। আদালত কোম্পানির পর্ষদের পরিচালক হিসেবে তপন পোদ্দারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

আরেক পরিচালক পার্থ প্রতীম দাশ এবং তার ভাইকে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬২২ টাকা মার্জিন দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পঙ্কজ রয় নিজে এবং তার স্ত্রী ও বোনকে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছেন।

বিএসইসি আরো জানায়, কোম্পানিটির কনসলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক হিসাবে কোন অনিয়ম হয়েছে কীনা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এছাড়া বে-আইনিভাবে নেওয়া মার্জিন ঋণ সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত পরিচালকেরা কোন পারিতোষিক, কোন প্রকার ডিভিডেন্ড, ঋণ বা অগ্রিম এবং নতুন কোন মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন।

এ বিষয়ে একই নির্দেশনা দিয়েছিল উচ্চ আদালত।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

Top