বিএসইসি’র আইনে শুভঙ্করের ফাঁকি

Editorialতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রান্তিক হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে গড়মিল থাকলে তার জন্য কোন শাস্তির বিধান নেই। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রায়ই শোনা যায়, প্রান্তিক প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই অভিযোগ পুরানো হলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এখন পযর্ন্ত এ নিয়ে কোন তৎপরতা দেখায়নি। তারা বরং সময় মতো প্রতিবেদন জমা দেয়ার উপর বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করাই হচ্ছে মূখ্য বিষয়।

আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএসইসির জারি করা এক নোটিফিকেশন বলা হয়েছে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য ইস্যুয়ার কোম্পানিকে তাদের প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন ৪৫ দিন এবং তৃতীয় প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম প্রান্তিক ৯০ দিন এবং তৃতীয় প্রান্তিক ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

বিভিন্ন সময়েই দেখা গেছে, যে সব কোম্পানি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রান্তিক হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের পরিচালকদের প্রত্যেককেই জরিমানা গুনতে হয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সময়সীমা অতিক্রমের ক্ষেত্রে জরিমানার ব্যবস্থা থাকলেও প্রান্তিক হিসাব ভুল কিংবা বড় ধরনের গড়মিল হলে তার জন্য কোন শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসি অনেক আইনে পরিবর্তন এসেছে। এখন এই বিষয়টির প্রতিও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। কোন কোম্পানি সময়মতো প্রান্তিক প্রতিবেদন দাখিল করলো ঠিকই কিন্তু তা যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয় তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কারণ তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। যদি কোন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তবে বিএসইসি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রি-অডিট করার বিধান রাখেন।

প্রান্তিক প্রতিবেদন অনিরিক্ষিত হওয়ার কারনে এর সঙ্গে বার্ষিক প্রতিবেদনের কিছুটা হেরফের হতে পারে। কিন্তু তারও একটা মাত্রা থাকে। এখন যদি দেখা যায় কোন কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি আয় দেখানো হয়েছে ২৫ পয়সা অথচ বার্ষিক প্রতিবেদনে এর ইপিএস দেখানো হলো ৫ টাকা। অবশ্য এ ধরনের ঘটনা নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন জুতার কোম্পানি, সোয়েটার কোম্পানি, আইসক্রিম কোম্পানি ইত্যাদি। কিন্তু যে সব প্রতিষ্ঠান কোন মওসুমের উপর ভিত্তি করে ব্যবসা করে না তাদের তো প্রান্তিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের হেরফের হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে এ ধরনের ঘটনা হরহামেসাই ঘটছে। আইনে কোন ধরনের শাস্তির বিধান না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠি।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top