বড় বিনিয়োগ করেও রিটার্ন পাচ্ছে না আরএকে সিরামিকস

RAK-CERAMIKশেয়ারবাজার রিপোর্ট: অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে বড় আকারের বিনিয়োগ করে রিটার্ন পাচ্ছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

কোম্পানিটির নিরীক্ষক এ কাশেম এন্ড কোং ৩১, ডিসেম্বর, ২০১৬ সমাপ্ত সময়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।

নিরীক্ষক জানায়, আরএকে পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড এবং আরএকে সিকিউরিটিজ এন্ড সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডে কোম্পানিটির শতভাগ বিনিয়োগ রয়েছে। এ দুটি কোম্পানির মোট মূলধন ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেডকে (আরএকে ফার্মাসিউটিক্যাল লি:) ঋণ দিয়েছে ২০ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তবে ২০১৫ সালে কোম্পানিটির কাছে থাকা লোকসানি আরএকে পেইন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ৪৭ শতাংশ শেয়ার এবং আরএকে মসফ্লি (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেডের ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এ দুটি কোম্পানি ক্রমাগত লোকসানে ছিল। এতে কোম্পানিটিকে ২০১৬ বছরে এদের লোকসান টানতে হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আরএকে সিরামিকসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আরএকে পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড ২০০৯ সালে বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আরএকে সিরামিকসের কাছে ছিল ৫৭ শতাংশ। তবে ২০১৫ সালে অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটির বাকী ৮ লাখ ৮১ হাজার ৪৯৫টি শেয়ার অভিহিত মূল্য ১০০টাকার সাথে আরো ১৫৫টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে প্রতিটি শেয়ার ২৫৫টাকা করে মোট ২২ কোটি ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ২২৫টাকায় কিনে নিয়েছে। কিন্তু সাবসিডিয়ারি এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোন মুনাফা পাওয়ার তথ্য নেই।

অপর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আরএকে সিকিউরিটিজ এন্ড সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে ২০০৭ সালে উৎপাদনে আসে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০ লাখ টাকা।  ২০১৫ সালে এ কোম্পানিরও অন্যদের কাছে থাকা ৬ হাজার ৫০০টি শেয়ার (অভিহিত মূল্য ১০০টাকার সাথে ২৭৭৫টাকা প্রিমিয়াম সহ প্রতিটি শেয়ার ২ হাজার ৮৭৫টাকা) ১ কোটি ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০টাকা দিয়ে কিনেছে আরএকে সিরামিকস। কিন্তু সাবসিডিয়ারি এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে ৪৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা মুনাফা করলেও ২০১৬ সালে কোন মুনাফা করতে পারেনি। তাই এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ২০৫ টাকা মুনাফা পেলেও ২০১৬ সালে কোন মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়নি।

এছাড়া জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেডকে (আরএকে ফার্মাসিউটিক্যাল লি:) ঋণ দিয়েছে ২০ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। যা ১ জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে কার্যকর। ফার্মা কোম্পানিটি ২০১৫ শেষে সুদ ও আসল বাবদ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩২ টাকা পরিশোধ করলেও ২০১৬ সালে কোন টাকা পরিশোধ করেনি।

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সমাপ্ত বছরে আরএকে সিরামিকসের মুনাফা ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয়(ইপিএস) ২ টাকা ৭২ পয়সা। যা এর আগের বছর ছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। মূলত ২০১৫ সালে তাদের অধিনে থাকা দুটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করায় মুনাফা বেড়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভা শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর জন্য রেকর্ড ডেট ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আগামী ২৯ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি ২০১০ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির নীট ৭১০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি এবং মূসক বাদ দিয়ে নেট বিক্রি হয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।

এর মধ্যে দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি হয়েছে ৭০৮ কোটি টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ৬৩০ কোটি টাকা। বিদেশী রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পণ্য। যা এর আগের বছর ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিদেশে কোম্পানিটির ব্যবসা অনেক কমেছে।

এ সময়ে পণ্য বিক্রিতে খরচ হয়েছে ৩২৫ কোটি টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ২৮৯ কোটি টাকা।

নিরীক্ষক জানায়, মূলত শ্রমিকদের বেতন ভাতা এবং রয়্যালটি বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানির ব্যয় বেড়েছে। তাই মুনাফা কমেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

Top