আজ: বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১ইং, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১২ এপ্রিল ২০১৫, রবিবার |



kidarkar

চালক উধাও: উল্টোপথে ২৬ কি.মি গেল ট্রেন

trainশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ড্রাইভার ও সহকারি ড্রাইভারের ভুলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ছাড়া ফরিদপুর এক্সপ্রেস ট্রেন উল্টো দিকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার গিয়ে মাছপাড়া নামক স্থানে থামে। এ সময় আতংকিত  অনেক যাত্রীই ট্রেন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন।

রোববার ফরিদপুর-রাজবাড়ী আন্তনগর রুটে এ  ঘটনা ঘটে।  তবে লাইনে অন্য কোনো ট্রেন না আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।

স্টেশন মাস্টার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি সকাল ৮টা ১০মিনিটে রাজবাড়ী স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নেয় ড্রাইভার। সকাল ৭টা ৫৫মিনিটে ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী (এলএম) সহকারী ড্রাইভার (এএলএম) ফয়সাল আহমেদ ইঞ্জিন চালু করে নিচে নেমে এসে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ফোরম্যান বিজয় কুমার ধরের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে ট্রেনটি পেছনের দিকে (ব্যাক গিয়ারে) দ্রুত বেগে চলতে শুরু করে। ততক্ষণে ফোরম্যান, ড্রাইভার ও সহকারী ড্রাইভার ট্রেনের পেছনে পেছনে দৌঁড়াতে থাকলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেন কুস্টিয়ার দিকে ছুটতে থাকে। স্টেশনের পশ্চিম দিকে ১২ নং সিগনাল পয়েন্টে গিয়ে বিকট শব্দে পয়েন্টের পাত ভেঙে প্রায় ৬০ মাইল গতিতে ট্রেনটি বেরিয়ে যায়।

এরপর বিভিন্ন রেলগেট ও সিগনাল পয়েন্টে কোন প্রকার হুইসেল ছাড়া দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চলতে থাকায় ট্রেনে থাকা ও বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাটকীয়ভাবে এসব ঘটনা দেখে হতভম্ভ হয়ে যান। এভাবে পাঁচটি স্টেশন পার করে যাত্রীরা ট্রেনের চেইন, হুসপাইপ ও ভ্যাকুইম খুলে দিলে মাছপাড়ার কাছে গিয়ে ট্রেনটি থেমে যায়।

ইতিমধ্যে রাজবাড়ী থেকে সকল স্টেশন মাস্টারদের কাছে পাগলা ট্রেনের খবর পাঠিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের মাস্টারগণ লাইন ক্লিয়ার দিয়ে ট্রেনটি সামনে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে রাখে।

অপরদিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দ ঘাটগামী নকসীকাঁথা ট্রেনটির সাথে ‘পাগলা ট্রেনের’  সংঘর্ষ এড়াতে আগে ভাগেই (সকাল সাড়ে ৮টায় ) কুস্টিয়া স্টেশনের লুপ লাইনে ফেলে রাখে।

পরর্তীতে রাজবাড়ী থেকে একটি পাওয়ার (ইঞ্জিন) গিয়ে মাছপাড়ায় থেকে ট্রেনটিকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী স্টেশনে নিয়ে আসে। এতে রাজবাড়ী-ফরিদপুর, গোয়ালন্দ-পোড়াদহ, গোয়ালন্দ-রাজশাহী অন্তনগর সকল ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

ট্রেনের ভেতরে থাকা টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আনোয়ার বলেন, ভ্যাকম বক্সের বাতাস ট্রেনটিকে চলতে ও থামাতে সহযোগিতা করে। ট্রেনটি চলার সময় ভ্যাকম বক্সগুলো বায়ুপূর্ণ করা হয়। এতে বগিগুলো হালকা হয়। ফলে বগিগুলোকে ইঞ্জিন সহজেই টেনে নিতে পারে। আবার থামানোর সময় ভ্যাকম বক্স আস্তে আস্তে বায়ুশূন্য করা হয়। এতে বগিগুলো ক্রমশ ভারী হয়। ফলে ট্রেনটি থেমে যায়।

টিটি বলেন, তিনটি বগির ভ্যাকম বক্স খুলে বায়ুশূন্য করার পর বগিগুলো ভারী হয়ে যায়। তখন ইঞ্জিন সেগুলোকে আর টানতে না পারায় প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া সেতুর কাছে সেটি থেমে যায়। কিন্তু ট্রেনের ইঞ্জিনটি তখনো সচল ছিল। এরপর ৯টা ৪ মিনিটে তিনি ইঞ্জিনটি বন্ধ করেন।

জানা গেছে, রেলওয়ে পাকশী ও রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তারা এ ট্রেনে ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী, সহকারী ড্রাইভার ফয়সাল আহমেদ ও গার্ড সুভাষ কুমার শর্মাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এ ঘটনায়  ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ট্রেনটির চালক ও সহকারী চালক পলাতক রয়েছেন।

শেয়ারবাজার/অ

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.