ভিন্নধর্মী বিনিয়োগে সফল শেয়ারবাজার লেজেন্ড কার্ল ইকান

UNITED STATES - OCTOBER 11:  Carl Icahn, a billionaire investor, speaks during the World Business Forum in New York, U.S., on Thursday, Oct. 11, 2007. Icahn said he was concerned that stocks may be reaching a peak, as risks to the U.S. economy remain after the Federal Reserve's Sept. 18 rate cut.  (Photo by Chip East/Bloomberg via Getty Images)

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: একটু ভিন্নধর্মী বিনিয়োগে সফলতা এনে শেয়ারবাজার লেজেন্ডের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন কার্ল সেলিয়ান ইকান। অন্যানরা যেখানে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাচ্ছেন সেখানে তিনি শেয়ার ক্রয়ের মাত্রা বাড়িয়েছেন। পরবর্তীতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে আসন নিয়ে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি এবং স্টক মার্কেটে শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করে যাচ্ছে কার্ল ইকান। তার বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা এতোই প্রবল যে সম্প্রতি আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফিন্যান্সিয়াল রেগুলেশনের স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে যোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত

০১. ইকান অ্যান্ড কোম্পানি (সিকিউরিটিজ ফার্ম)।

০২. ইকান এন্টারপ্রাইজ (প্রতিষ্ঠান ও সর্বোচ্চ শেয়ারধারী)।

০৩. ইকান পার্টনারস।

০৪. প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি।

০৫. বেশকিছু করপোরেশনের মালিকানা রয়েছে তার দখলে।

যেজন্য বিখ্যাত

কার্ল সেলিয়ান ইকান আমেরিকার ইনভেষ্টর ও বিজনেস ম্যাগনেট হিসেবে পরিচিত। তিনি ইকান এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠান ও সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ারের ধারক। ইকান এন্টারপ্রাইজ আমেরিকান রিয়েল স্টেট পার্টনারস হিসেবে বেশি পরিচিত। তিনি ফেডারেল মোগল করপোরেশনেরও চেয়ারম্যান। ১৯৮০ সালে তার ব্যবসায় থেকে ১৬.৬ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করার পরপরই তিনি করপোরেট রাইডার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত তিনি ফোর্বস ম্যাগাজিনে ৪০০ সম্পদশালীর মধ্যে ২৬তম স্থান অর্জন করেন এবং ৫ম সম্পদশালী হেড্জ ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে তার নাম উঠে আসে। ফরচুন ম্যাগাজিনের সূত্র মতে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফিন্যান্সিয়াল রেগুলেশনের স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনী

১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কার্ল ইকান নিউইয়র্কের ফার রোকরাওয়েতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল ইহুদি ধর্মের অনুসারি। ইকানের বাবা একজন ক্যান্টর থাকার পাশাপাশি বদলি শিক্ষক ছিলেন। তার মা স্কুল টিচার হিসেবে কাজ করতেন। ইকান ফার রোকরাওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে দর্শনশান্ত্রে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনে ভর্তি হয়েও দুই বছর পর তার ছেড়ে দিয়ে আর্মিতে যোগ দেন। carl ichan 2

কর্মজীবন এবং করপোরেট রাইডার হয়ে ওঠা

১৯৬১ সালে ওয়াল স্ট্রিটে ড্রেফুস অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি সিকিউরিটিজ হাউজে স্টক ব্রোকার হিসেবে যোগ দেন। সাত বছর পর তিনি নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ইকান অ্যান্ড কোং নামে একটি সিকিউরিটিজ হাউজের লাইসেন্স কিনে নেন এবং তার ফিন্যান্স ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৭৮ সাল থেকেই মূলত তিনি বিভিন্ন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। ১৯৮৫ সালে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ট্রান্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন্স নিজের দখলে নেয়ার পর থেকেই তাকে করপোরেট রাইডার বলে বলা হয়। ১৯৮৮ সালে অবশ্য তিনি কৌশলে এ কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে নিজের ঋণ পরিশোধ করেন। আর এই ঋণ তিনি ট্রান্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন্স কেনার জন্যই নিয়েছিলেন। এ কোম্পানিটি থেকে  ইকান ব্যক্তিগতভাবে ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করেন। কোম্পানিটিকে ৫৪০ মিলিয়ন ডলার ঋণ তলে রেখে তিনি এটি ছেড়ে দেন। ১৯৯১ সালে তিনি টিডব্লিউএ এর লন্ডন রুট আমেরিকা এয়ারলাইন্সের কাছে ৪৪৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন।

আরজেআর নাবিস্কো, টেক্সাকো, ফিলিপ পেট্রোলিয়াম, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, গালফ অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন, ভায়াকম, রেভলন, টাইম ওয়ার্নার, মটোরোলার মতো কোম্পানিগুলোর তার সম্পৃক্তায় তিনি করপোরেট রাইডার হিসেবে আখ্যায়িত হন।

তবে কার্ল ইকান জনকল্যাণে অনেক অর্থ ব্যয় করেন। যার কারণে নিউ ইয়র্ক এরিয়াতে মানব কল্যানে তিনি বহু পুরষ্কার অর্জন করেছেন। এতোকিছুতে সম্পৃক্ত হওয়ার পরও কার্ল ইকান একজন সক্রিয় ফিন্যান্সার। টাইম ম্যাগাজিনের নেয়া এক স্বাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, অনেক সিইও আমার অবসরে উযযাপন করার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। কিন্তু আমি প্রতিযোগী যুবক। ফ্লোরিডাকে গলফ খেলে নিজের অবসর সময় কাটানোর কথা ভাবতেই পারি না।

এখনো কার্ল ইকানের ২৪ জন সহযোগী রয়েছেন যারা নিত্য নতুন ব্যবসায়ের খোঁজে প্রতিনিয়ত তাকে সহায়তা করছে।

বিনিয়োগের ধরন

যেসব কোম্পানির বর্তমানে দুরাবস্থায় রয়েছে এবং শেয়ার দরও অনেক কম সেগুলোর দিকে ইকানের নজর থাকতো বেশি। যখন পুরো মার্কেট নিম্নমুখী হতো তখনই কার্ল ইকান সেগুলো কেনা শুরু করতেন। অর্থাৎ যখনই অন্যরা বিক্রি করা শুরু করতো তিনি কেনা শুরু করতেন। তবে তিনি সেসব কোম্পানিকেই বেছে নিতে যেগুলোর ভবিষ্যত ভালো। রুগ্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে ইকান কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের জায়গা করে নিতেন। যেই কোম্পানির পর্ষদে তিনি প্রবেশ করতেন প্রথমেই সেখানকার সিইওকে তিনি বাদ দিতেন। তারপর কোম্পানির আলাদা আলাদা অংশ করে সেগুলো বিক্রি করে দিতেন। তারওপর যখনই ইনভেষ্টমেন্ট ম্যানেজাররা কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতেন তখনই ইকান তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা বের করতেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top