আর্নিংস কল কোম্পানির সুশাসনে নাটকীয় পরিবর্তন আনবে

Editorialগ্রামীন ফোন, ব্রাক ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড তালিকাভুক্ত এই তিন কোম্পানি নিয়মিত তাদের আর্নিংস কল করে থাকে। তাদের প্রান্তিক প্রতিবেদন থেকে শুরু করে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তুলে ধরে। আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রম তৈরি করার জন্যই মূলত কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আর্নিংস কল করা হয়। আমেরিকাসহ বিভিন্ন বড় বড় দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এই গ্লোবাল প্রাকটিসটি করে থাকে। কিন্তু আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির ইনভেষ্টর রিলেশন অফিসার, চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার, চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসাররা আর্নিংস কল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলেও কি কারণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না তারাই ভালো জানেন।

অবশ্য এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় কোম্পানিগুলো বাড়তি ঝামেলা ডেকে আনতে চায় না। তারওপর অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন শতভাগ স্বচ্ছ না করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করে থাকে। কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে এ বিষয়ে দুর্বলতা থাকাও আর্নিংস কলের আয়োজন না করার অন্যতম কারণ। এছাড়া বেশিরভাগ কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে তাদের প্রান্তিক বা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। এমনও কিছু কোম্পানি রয়েছে যাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটই নেই। আবার থাকলেও সেখানে কোনো আপডেট নেই।

তবে করপোরেট গভর্ন্যান্স সঠিকভাবে পরিপালন করতে হলে আর্নিংস কল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে প্রান্তিক আর্নিংস কল বাধ্যতামূলক করতে হবে। রিসার্চ অ্যানালাইজিষ্ট বা বিশ্লেষকদের কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকেও বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রয়োজনে কোম্পানি এ বিষয়ে ইনভেষ্টর রিলেশনস ডিপার্টমেন্ট বা লিয়াজো অফিসার নিয়োগ করবে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো তারতম্য ঘটলে তার ব্যাখ্যাসহ কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। যদিও আইনে এ বিষয়ে ষ্পষ্ট করে বলা রয়েছে যে আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরণের গড়মিল হলে তার ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। কিন্তু এই কাজটি কেউ করে না বললেই চলে।

উল্লেখ্য, গ্রামীন ফোনে রিসার্চ অ্যানালাইজিষ্ট বা বিশ্লেষকদের কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে প্রশ্ন করার সুযোগটি থাকলেও অন্যান্য কোম্পানিতে এ সুযোগ দেয়া হয় না।

এছাড়া কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের ওয়েবসাইটে সেই প্রতিবেদন আপলোড করতে হবে। তবেই কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হবে। এ বিষয়ে অবশ্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বিনিয়োগকারীদের সামান্য সেবা প্রদান করতে পারে। যেহেতু কোম্পানিগুলো স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে তাই এই প্রতিবেদনগুলো স্ক্যান করে তাদের সাইটে আপলোড করে দিলেও বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত তথ্য পাবে।

তবে কোম্পানিগুলোতে পরিপূর্ণ করপোরেট গভর্ন্যান্স পালন করতে হলে পুঁজিবাজারের অভিভাবককেই গুরু দায়িত্বটি নিতে হবে। অবশ্য কোম্পানিতে শতভাগ সুশাসন আনয়নের জন্য বর্তমান কমিশন অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর ফলও পাওয়া যাচ্ছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো করপোরেট গভর্ন্যান্স শতভাগ পরিপালন করার জন্য বেশ সতর্ক। তবে এখনো কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top