চাহিদা-যোগানের অসামঞ্জস্যতায় পুঁজিবাজার : ৬ মাসে ৩০০ কোটি শেয়ার বৃদ্ধি

pirce_up_dse_cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) (আগস্ট ১৪- মার্চ ১৫) বিগত ছয় মাসে সকল খাতে শেয়ার লেনদেন বাড়লেও কমেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। ফলে বাজারের সার্বিক ইনডেক্স ক্রমান্বয়ে আরও নীচের দিকে যাচ্ছে।

নতুন বছরের শুরু থেকেই হোঁচট খাচ্ছে অর্থনীতির প্রাণখ্যাত পুঁজিবাজার। বাজারে বিগত কয়েক মাসে সকল খাতের শেয়ার সংখ্যা বাড়লেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে শেয়ার সংখ্যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩টি । ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ সকল খাতে শেয়ার লেনদেন ৫ হাজার ১৩৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬ হাজার ৯৯২টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। সে অনুয়ায়ী ছয় মাসে শেয়ার লেনদেন ২৯৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৪৯টি বেড়েছে।

অথচ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে এসে পৌছেছে। মাসের বেশিরভাগ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হচ্ছে। তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের পুঁজি হারাচ্ছেন।

২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে ৭টি নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির কারণে বাজারে শেয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৯২ কোটি ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৬টি।

নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি ছাড়াও  এ সময়ে ব্যাংক খাতের ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ২০ কোটি ৫৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০টি, আর্থিক খাতের বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮১টি এবং আইসিবির ২ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০টি রাইট শেয়ার ইস্যুর কারণে আরও ২৬ কোটি ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯১টি শেয়ার যোগ হয়েছে।

এ ছাড়া গত ছয় মাসে বেশ কিছু কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করায় নতুন করে আরও শেয়ার যোগ হয়েছে। অর্থাৎ, ছয় মাসে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, রাইট ইস্যু ও স্টক ডিভিডেন্ডের কারণে বাজারে শেয়ার ও ইউনিটের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে।

তথ্যানুসারে, ছয় মাসে মন্দা বাজারে নতুন শেয়ারের যোগান বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তেমনটা বাড়েনি। বছরের শুরুতে যেখানে বাজারে চাঙ্গাভাব থাকার কথা সেখানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট থেকেই যাচ্ছে। তাই বাজারের মন্দাবস্থায় নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, রাইট ইস্যুর এবং স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা নিয়ে শেয়ারের সরবরাহ বাড়লেও বাড়ছে না বিনিয়োগ। আর এর মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ এন্ড কমিশন (বিএসইসি) চাহিদা ও যোগানের প্রকৃত অবস্থা যাচাই-বাছাই না করেই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিচ্ছে- বলে অভিযোগ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই)সাবেক প্রেসিডেন্ট মো: ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে জানান, বাজারে এভাবে শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নেতিবাচক প্রভাব ইঙ্গিত করে। শেয়ার সংখ্যা বাড়া ভালো তবে চাহিদা ও যোগানের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আর ঘন ঘন আইপিওর অনুমোদন বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনের বেশি শেয়ার সংখ্যা বাড়ানো ঠিক নয়। এটা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনবে বলে মনে করেন তিনি।

 

শেয়ারবাজার/মু/সা

 

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top