টাইফয়েডের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

taifatশেয়ারবাজার ডেস্ক: টাইফয়েড এমন একটি তীব্র অসুস্থতা যা হয়ে থাকে Salmonella typhi নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা। Salmonella paratyphi নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারাও হতে পারে টাইফয়েড যা কিছুটা কম তীব্র হয়। এই ব্যাকটেরিয়া পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। সারা পৃথিবী জুড়ে প্রতি বছর ২১ মিলিয়ন মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ২ লক্ষ মানুষ মারা যায়। টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসার বিষয়ে জানবো আজ।

মানুষ কীভাবে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ঃ

দূষিত খাবার বা পানি পান করার ফলে টাইফয়েডের জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। পানি সরবরাহে যদি দূষণের সমস্যা থাকে তাহলে খাদ্যের মধ্যেও তা ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যাকটেরিয়া এক সপ্তাহের মত টিকে থাকতে পারে পানিতে বা শুষ্ক নর্দমায়।

৩-৫ শতাংশ মানুষ তীব্র অসুস্থতার পর এই ব্যাকটেরিয়ার বাহক হন। অন্যরা খুব কম অসুস্থ হন যা বোঝাই যায় না। এরাই এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী বাহকে পরিণত হন তাদের মধ্যে কোন লক্ষণ দেয় না এবং এদের মধ্যে অনেক বছর পরে টাইফয়েড জ্বরের প্রাদুর্ভাব হতে দেখা যায়।

টাইফয়েড শনাক্তকরণঃ

সংক্রমিত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করার পরে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া ক্ষুদ্রান্ত্রে আক্রমণ করে এবং অস্থায়ীভাবে রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। এই ব্যাকটেরিয়া শ্বেত রক্ত কণিকার মাধ্যমে যকৃৎ, প্লীহা এবং অস্থিমজ্জায় পরিবাহিত হয়। সেখানে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তারা পুনরায় রক্তস্রোতে প্রবেশ করে। তখন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। ব্যাকটেরিয়া পিত্তথলি, বিলিয়ারি সিস্টেম এবং অন্ত্রের লিম্ফেটিক টিস্যুকে আক্রমণ করে। এসব স্থানেই তাদের সংখ্যা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রনালীর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে এবং মলের স্যাম্পলের মধ্যে এদের পাওয়া যায়। যদি স্টুল স্যাম্পল এর মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে বুঝা না যায় তাহলে ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায় টাইফয়েড।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলো কীঃ

এক থেকে দুই সপ্তাহ সুপ্তাবস্থায় থাকে জীবাণু এবং অসুস্থতা থাকে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত। যে লক্ষণগুলো দেখা যায় :

· ক্ষুধা কমে যাওয়া

· মাথাব্যথা

· শরীরে ব্যথা

· ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইটের মত উচ্চমাত্রার জ্বর থাকে

· ক্লান্তি

· ডায়রিয়া

অনেকের ক্ষেত্রে বুকের মধ্যে কফ জমে যায় এবং পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। নিয়মিত জ্বর থাকে। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এক থেকে দুই সপ্তাহ ভালো অনুভব করার পরেই পুনরায় উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

টাইফয়েডের নিরাময় প্রক্রিয়াঃ

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বর সারানো যায়। অপ্রতিরোধ্য সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, অন্ত্রের রক্তপাত বা ছিদ্র হওয়ার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং যত্ন নিলে মৃত্যুহার কমে ১%-২%। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে ১-২ দিনের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

টাইফয়েড জ্বরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকরী হতে পারে। অনেক বছর ধরেই ক্লোরামফেনিকল ছিলো মূল ঔষধ। কারণ এর মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম ছিলো। অন্য কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিকের দ্বারা এটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কোন স্থানে সংক্রমণ হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার ক্ষেত্রে অনেকদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। ক্রনিক ইনফেকশনের ক্ষেত্রে পিত্তথলি অপসারণ করলে নিরাময় লাভ করা যায়। যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করেন তাদের জন্য টিকা নেয়া ভালো।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

*

*

Top