১২ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে

dseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১২ কোম্পানিতে গত মার্চ মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক বাজারের মন্দাবস্থার কারণে বাজার মূলধন ‍ও পরিশোধিত মূলধনের হিসাব অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, দেশের শেয়ারবাজারে গত মার্চ মাসে তালিকাভুক্ত ২৯৬ কোম্পানির বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছিল ৫৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকায়। এ কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ছিল ২৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

মার্চ মাসে শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এর আগের মাসের চেয়ে কমেছে। পরিশোধিত মূলধন হিসাব অনুযায়ী গত মার্চ মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ পরিমাণ ছিল ১৮.৭১ শতাংশ। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৮.৮৪ শতাংশ। এছাড়া বাজার মূলধনে এদের অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৫ শতাংশ। যা আগের মাসে ১৫.৩ শতাংশ উন্নীত হয়েছিল।

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সার্বিকভাবে কমলে তালিকাভুক্ত ১২ কোম্পানিতে বিনিয়োগ বেড়েছে। কোম্পানিগুলো হলো: স্টাইল ক্রাফট, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাষ্ট্রিজ, ওয়েস্টার্ন মেরি শিপইয়ার্ড, ম্যাকসন স্পিনিং, তসরিফা ইন্ডাষ্ট্রিজ, এসিআই ফরমুলেশন, ওরিয়ন ফার্মা, ফার কেমিক্যাল, ওয়ান ব্যাংক এবং ডেফোডিল কম্পিউটার্স।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্টাইল ক্রাফটের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭.০৪ শতাংশ। সেখানে মার্চ মাস শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩.৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৬.৩৩ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রগতি ইন্সুরেন্সের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৬.১৩ শতাংশ। সেখানে মার্চ মাস শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮.৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.২৪ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ন্যাশনাল ফিডের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৯.৪০ শতাংশ। সেখানে মার্চ মাস শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৮.৫৫ শতাংশ।

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৯.০৯ শতাংশ। সেখানে মার্চ মাস শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫.৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৬.৫৬ শতাংশ।

এছাড়া ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১০.৬৫ শতাংশ। সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ১৫.৯৪ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৫.২৯ শতাংশ।

ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২০.২৪ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ২৪.৫৪ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৪.৩০ শতাংশ।

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৯.৪৭ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ২২.৪৯ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৩.৪২ শতাংশ।

এসিআই ফরমুলেশনের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৫.৩২ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ১৮.৩৮ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৩.০৬ শতাংশ।

ওরিয়ন ফার্মার গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৬.৭১ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩১ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ২.৬০ শতাংশ।

ফার কেমিক্যালের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ১৪.২১ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ২.৪৬ শতাংশ।

ওয়ান ব্যাংকের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২০.৪৭ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ২২.৭১ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ২.২৪ শতাংশ।

ডেফোডিল কম্পিউটার্সের গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬.৮৬ শতাংশ।  সেখানে মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ৯.০২ শতাংশ। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে ২.১৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত মার্চে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমপক্ষে ১ শতাংশ কমেছে এমন কোম্পানি ছিল ৬৩টি। সার্বিকভাবে ১৩৫ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে। বিপরীতে ৩৮ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। সার্বিকভাবে বেড়েছে ১০২টিতে। যেসব কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে তার প্রায় পুরোটা এসেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণ থেকে। বিপরীতে যেসব কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে, সেগুলোতে প্রায় সমহারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বেড়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top