এক নজরে এস্কয়ার নিট কম্পোজিটের ব্যবসায়িক অবস্থা

esquire knitশেয়ারবাজার রিপোর্ট:  বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা তুলবে এস্কয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড। এর লক্ষ্যে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর রেডিসন ব্লু গার্ডেন অন্তরায় রোড শো আয়োজনও করে কোম্পানিটি। ওদিন পুঁজিবাজারের ইলিজিবল ইনভেষ্টরদের উপস্থিতিতে রোড শোতে আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ।

কোম্পানির প্রসপ্রেক্টাস থেকে জানা যায়, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। আর উত্তোলিত এ টাকা দিয়ে কোম্পানিটি ১০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণ, ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়ে ইয়ার্ন ডাইং মেশিন ক্রয়, ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা দিয়ে ওয়াশিং প্লান্ট মেশিন ক্রয় ও বাকি ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আইপিও বাবদ খরচে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

কোম্পানিটির ২০১৬ সালের ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যবসায় ১৯৬ কোটি ৭ লাখ ৩ হাজার টাকা আয় করেছে। যা ব্যয় শেষে নিট মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেসিক হয়েছে ১.৫৫ টাকা  এবং সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১.৫৫ টাকা। আর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪.২৬ টাকা।

এর আগের ৬ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারী-জুলাই’১৬ পর্যন্ত কোম্পানির ২৪৭ কোটি ৮৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা আয় করেছে। যা ব্যয় শেষে নিট মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হা্জার টাকা। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেসিক হয়েছে ২.৫৬ টাকা  এবং সমন্বিত হয়েছে ১.৫৩ টাকা। আর ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭১.১৮ টাকা।

এছাড়া কোম্পানির বিগত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৬৮.৬৩ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেসিক হয়েছে ৬.০৪ টাকা এবং সমন্বিত হয়েছে ২.৫০। এর আগের সমাপ্ত হিসাব বছরে অর্থাৎ ২০১৪ অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৩৯৫.৮১ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেসিক হয়েছিলো ২৫.৯৩ টাকা এবং সমন্বিত হয়েছিলো ২.৫৯ টাকা।

এছাড়া ২০১৩ সালে কোম্পানির বেসিক ইপিএস ছিল ২৮.২৩ টাকা ও সমন্বিত ছিল ২.৪৪ টাকা এবং এনএভি ছিল ৪২০.৫২ টাকা। ২০১২ সালে বেসিক ইপিএস ছিল ৩০.৫৯ টাকা ও সমন্বিত ছিল ১.৭৬ টাকা এবং এনএভি ছিল ২০৪.২৯ টাকা। আর ২০১১ সালে বেসিক ইপিএস ছিল ৮২.৬০ টাকা ও সমন্বিত ছিল ১.৫৯ টাকা এবং এনএভি ছিল ২৬০.৫৪ টাকা।

বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা।

এস্কয়ার নিট কম্পোজিটের মূল পণ্য হচ্ছে পল শার্ট, বেসিক টি-শার্ট এবং ফ্যান্সি শার্ট। কোম্পানির পণ্যগুলো রপ্তানি করা হয় জার্মানি, লন্ডন, ফ্রান্স, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, স্পেন তারকি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চায়না, ভারত ইত্যাদি দেশগুলোতে।

২০১৬ সালে কোম্পানির পল শার্ট বিদেশে রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বেসিক টি-শার্টে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে আয় হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যেখানে আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে পল শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, বেসিক টি-শার্টে হয়েছিলো ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এছাড়া ২০১৪ সালে পল শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বেসিক টি-শার্টে হয়েছিলো ৭৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে পল শার্টে হয়েছিলো ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বেসিক টি-শার্টে হয়েছিলো ১ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০১২ সালে পল শার্টে হয়েছিলো ২ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বেসিক টি-শার্টে হয়েছিলো ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে হয়েছিলো ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০১১ সালে পল শার্টে হয়েছিলো ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা, বেসিক টি-শার্টে হয়েছিলো ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ফ্যান্সি শার্টে হয়েছিলো ১ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বিদেশের মার্কেটে কোম্পানির শার্ট ৬০ শতাংশ, জেক্যাট ১১ শতাংশ, নিট আইটেম ১০ শতাংশ, ট্রাউজার্স ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্য ১২ শতাংশ অবদান রাখছে। এছাড়া কোম্পানিটি নতুন পণ্য বিদেশে মার্কেটে প্রবেশ করিয়ে ব্যবসা আরো সম্প্রসারণ করতে চাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এস্কয়ার নিট কম্পোজিট ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আর ২০১৫ সালে পাবলিক লিমিটেড নামে অন্তভূক্ত হয়। ১৭ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করেছে। এরমধ্যে একর্ড, এনএবিএল, সিজিএস, ব্যুরো ভেরিটাস, বিএসসিআই, অর্গানিক এক্সচেঞ্জ থেকে সনদ অর্জন করেছে।

কোম্পানিটিতে বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বিক্রয় হয়। কর্মরত রয়েছেন ৮ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ব্যবসায় সম্প্রসারণ হলে নতুন করে আরও ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে কোম্পানিতে নিটিং, ফেব্রিক ডাইং, প্রিন্টিং, এম্ব্রডারি, ইন্ডাস্ট্রি লন্ড্রি ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে।

কোম্পানির ইসু ম্যানেজারের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে প্রাইম ফিন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। রেজিস্টার ইসু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আইসিসি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম আর

আপনার মন্তব্য

*

*

Top