প্রতিবারই কি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বশান্ত হবেন?

Editorialসূচক আবারো সাড়ে পাঁচ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। টানা চার কার্যদিবস বাজার পতনে দৈনিক লেনদেনেও বৈরিভাব বিরাজ করছে। গত ১১ কার্যদিবস ধরে লেনদেন হাজার কোটির ধারে কাছেও যেতে পারেনি।  এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

গেল মার্চ মাসে অনেক বিনিয়োগকারী প্রফিট নিয়ে বের হয়েছেন। তারা এখনো নতুন করে বিনিয়োগে আসছেন না। মূলত বাজার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে। একটি প্রতিষ্ঠান যদি ১০ লাখ শেয়ার কিনে ২০ বা ৩০ শতাংশ প্রফিটে থাকে তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রফিট নিতে পারে। এক্ষেত্রে ২ লাখ বা ৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করতে পারে। কিন্তু হাতে থাকা সব শেয়ারই যদি বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা বের করে নেয় তাহলে এর তলে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাতো সর্বশান্ত হবেনই। মার্কেট লিডার হিসেবে পরিচিত আইসিবি ও লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হোক সেটা কেউই চায় না। কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বাজারের উত্থান পতন অনেকটা নির্ভর করে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কখনো এক কাতারে দাঁড়াতে পারে না।

বর্তমান বাজারের আরএসআই রেশিও ২২ এর কিছু বেশি। অর্থাৎ মার্কেট ওভার সোল্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময়ে শেয়ার কিনতে পারলেই গেইনার হওয়া যাবে এমনটাই মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ মৌলভিত্তি কোম্পানি এ যাবৎ কালের সবচেয়ে ভালো ডিভিডেন্ড অর্থাৎ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে। ক্যাশ ডিভিডেন্ডের অর্থই হলো কোম্পানিগুলোর আর্নিংস বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন এগুলোর শেয়ার দর না বেড়ে বরং উল্টো আচরণ করবে সেটার চিত্র কেউ দেখতে চাইবে না। যেসব কোম্পানি ইতিমধ্যে প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেশিরভাগের আয় উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। কিন্তু শেয়ার দরে কোনো পরিবর্তন নেই। তাছাড়া আয় বৃদ্ধির সঙ্গে শেয়ার দর বৃদ্ধি পাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ২০ বা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আবার পুনরায় সেই জায়গাতেই চলে আসবে এটা কাম্য নয়।

এদিকে বর্তমান বাজার পতনের নেপথ্যে কিছু কমন কারণ বের হয়েছে। তা হলো: পাইপলাইনে অর্ধ শতাধিক কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন রয়েছে। এগুলো শিগগিরই তাদের প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। যে কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ও পোর্টফলিও ম্যানেজার হাতে টাকা নিয়ে সাইডলাইনে অপেক্ষা করছেন।

মার্কেট লিডার হিসেবে পরিচিত আইসিবি ও লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হোক সেটা কেউই চায় না।

প্রান্তিক প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলোর পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করে তারা বিনিয়োগে আসবেন। যে কারণে বাজারে দৈনিক লেনদেন শ্লথগতি চলছে। তারওপর লোভ এবং ভয়ের ইস্যুতো রয়েছেই। সাধারণত বাজারে গ্রীড অ্যান্ড ফিয়ার অর্থাৎ লোভ ও ভয় এ দুটি কথা প্রচলিত রয়েছে। এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা কোনো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকলে সেটা আরো বাড়বে এই চিন্তায় বিনিয়োগ করে থাকেন। অন্যদিকে নিয়মিত বাজার পতন দেখে কিছু বিনিয়োগকারী আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যান। এমনকি হাতে থাকা শেয়ার লোকসান দিয়েও সাইডলাইনে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় মাত্রাতিরিক্ত সেল প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা সবসময়ই বাজার পতনের সময়ই শেয়ার কেনার উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারণ করেন। বর্তমান বাজারের পি/ই ১৬ এর নিচে অবস্থান করছে। তাই ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। এখন বিনিয়োগকারীদের সেভাবে শেয়ার কেনা উচিত যেভাবে তারা মুদি মাল দোকান থেকে কিনে অর্থাৎ দেখে শুনে ভালোটা। বর্তমান বাজারের আরএসআই (Relative Strength Index) রেশিও ২২ এর কিছু বেশি। নিয়মানুযায়ী রেশিও যদি নিচ থেকে উঠে ৫০ ক্রস করে তখন complete আপটেন্ট বা overbought কনফার্ম করে এবং যখন উপর থেকে নিচে ৫০ ক্রস করে তখন complete ডাউনটেন্ট বা over sold কনফর্ম করে।  রেশিও ৩০ বা তার কাছাকাছি থাকলে ভালো entry পয়েন্ট এবং রেশিও ৮০ হলো নিরাপদ exist পয়েন্ট। অর্থাৎ বর্তমান মার্কেট ওভার সোল্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময়ে শেয়ার কিনতে পারলেই গেইনার হওয়া যাবে এমনটাই মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top