পতনের গতি কমেছে: নড়ে-চড়ে বসছেন নীতি নির্ধারকরা

bazarশেয়ারবাজার রিপোর্ট: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এইদিন শুরুতে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও দুই ঘন্টা পর ক্রয় প্রেসারে বাড়তে থাকে সূচক। এবং শেষ মিনিটের সেল প্রেসারে পতনেই রয়ে যায় বাজার। সোমবার সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে। আর টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আজ দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার ঝোঁক থাকলেও শেষ সময়ে মুনাফাভোগী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর কারণে বাজারে সেল প্রেসার বেড়ে যায়। পরিণতিতে সূচকের পতন ঘটে।

তারা আরও বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই বাজারকে ঘীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে তাদের অনাস্থার কারণেই টানা সূচকের পতন ঘটছে। এই পতন থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজারে নতুন ইস্যুর দরকার বলে মনে করেন তারা।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে টানা পতনের কারণ খুঁজে বের করতে শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মতিঝিলে আইসিবির নিজস্ব কার্যালয়ে এ বৈঠক করবেন।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইফতেখার-উজ-জামান বলেন, বাজার স্বাভাবিক করতে কী করা যায়- সে বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুঁজিবাজারের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সোমবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৪৩৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২০১৯ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩২৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস অর্থাৎ রোববার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৪৩৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২০২৪ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৫০৬ কোটি ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৬ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

এদিকে, দিনশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ব্রড ইনডেক্স ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১০ হাজার ২০০ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪৬৪ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

Top