নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ পরামর্শ

financial-litaracyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে যারা প্রবেশ করতে চান তাদেরকে বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এর মধ্যে ৬টি টিপস রয়েছে যেগুলো কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

০১. দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন:

আপনি কেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে চান? আপনি কি ছয় মাস, এক বছর, পাঁচ বছর বা তারচেয়ে বেশি সময় পড়ে ক্যাশ ব্যাক চান?  আপনি কি অবসর জীবনের জন্য সঞ্চয় করবেন? বাচ্চাদের ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহন করতে চান? নাকি বাড়ি কিনবেন বা যেকোনো প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবেন।

বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই আপনাকে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে শেয়ারবাজার কখনোই আপনাকে আপনার বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা দেবে না। তবে ইতিহাস থেকে দেখা গেছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আপনাকে কখনোই নৈরাশ করবে না। শেয়ার দর চিত্রের কোনো ঠিক না থাকলেও বছর শেষে একটা ভালো ডিভিডেন্ড কোম্পানির কাছ থেকে পাবেন। এফডিআরে আর কতো পারসেন্ট দেয়া বলুন?

০২. আপনি যে ঝুঁকি নিয়েছেন তা সহনীয় কিনা

শেয়ারবাজারে একটা কথা আছে যত চিন্তা কেনার সময় বেচার সময় কোনো চিন্তা নাই। তাই আপনি যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন সেটার ঝুঁকি কতটা আপনি সইতে পারবেন সেটা হচ্ছে ইমপরট্যান্ট। কত পারসেন্ট দর বৃদ্ধি পেলে আপনি এর থেকে বের হয়ে যাবেন সেটাও বিবেচনা করুন। আবার কত পারসেন্ট পর্যন্ত শেয়ার দর কমে গেলে সমন্বয় করবেন বা খারাপ সংবাদে বিক্রি করে দেবেন সেটাও বিবেচ্য বিষয়।

০৩. নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন

আপনি এখানে জুয়া খেলতে আসেননি। হেরে গিয়ে বা লসে পড়ে বা লোভে পড়ে উত্তেজিত হয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়াটা বোকামি। বাজারের ঊর্ধ্বগতির সময় শেয়ার কেনা আর নিম্নগতির সময় শেয়ার বিক্রি করা এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসুন। যত শেয়ারের দর পড়বে ততই আপনার বিনিয়োগ বাড়াতে থাকুন।

০৪. বেসিক নিয়ম-কানুনগুলো জেনে নিন

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দেশে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ নামে দুটি শেয়ার ব্যবসায়ের কেন্দ্র রয়েছে। বিএসইসি কি এর কাজ কি, স্টক এক্সচেঞ্জ কি এর কাজ কি, কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের কিছু কমন ইস্যু যেমন: আর্নিং পার শেয়ার বা শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস), প্রাইস আর্নিং বা পি/ই রেশিও, শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নিন।

০৫. বিনিয়োগে বৈচিত্র আনুন

ওয়ারেন্ট বাফেট একটি পরামর্শ দিয়েছেন যে সব ডিম কখনোই এক ঝুঁড়ি রাখবেন না। আপনার মোট বিনিয়োগকে তিন ভাগে ভাগ করে নিন। যদি ৬ লাখ টাকা থাকে তাহলে দুই লাখ টাকা করে বিনিয়োগ শুরু করুন। কেবল একটি মাত্র কোম্পানিতে আপনার সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ঢেলে দেবেন না।

০৬. মার্জিন ঋণ এড়িয়ে চলুন

সিকিউরিটিজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে আপনাকে মার্জিন ঋণ বা ধারে শেয়ার ক্রয়ের জন্য নানা প্রস্তাব দেবে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান মার্জিন ঋণ না দিলেও আপনি ঋণ নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে যাবেন। মনে রাখবেন মার্জিন ঋণ গলার কাটা ছাড়া আর কিছুই নয়। শেয়ার বিক্রি থেকে যা লাভ করবেন দেখা যাবে মার্জিন ঋণের সুদ পরিশোধ করে তখন উল্টো লস গোনা শুরু করবেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top