মার্কেট খারাপ করার জন্য কোম্পানির পরিচালকরা দায়ী

Pathok_2টানা ৭ বছর চেষ্টা করেও বাজার ঠিক করতে পারলেন না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদি ঠিকমতো তদন্ত করা হতো  বাজার ঠিকই স্থিতিশীল হতো। বর্তমান মার্কেটে কিছু কোম্পানির ডিরেক্টররা ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তাদের শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানির খারাপ ইপিএস দেখাচ্ছে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এই বিষয় গুলো তে কোন ধরনের দৃষ্টি দিচ্ছেন না।

দেশে কি এমন ঘটলো যে একটা ফিনান্সিয়াল কোম্পানি ৩.৮২ টাকা মাইনাস ইপিএস দেখায়। হয় কোম্পানির পরিচালকরা লুটপাট করে যাচ্ছেন না হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের নামে বে নামে থাকা শেয়ারগুলো সেল করে দিয়েছেন।
আর এই ইপিএসের প্রভাবে গোটা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যার দায় থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালকরা এড়িয়ে যেতে পারেন না।
যে যেইভাবে পারে সেইভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে যাচ্ছে।

মাইডাস ফিন্যান্স ২’টাকা উপরে তার ইপিএস থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের কে কোন ধরনের ডিভিডেন্ড দেয়নি। কেনো ডিভিডেন্ড দিলো না সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটা কথা বললো না।

ইসলামী ব্যাংক একাই মার্কেটের পতন নামিয়ে আনে। যেখানে কোম্পানি তার ইপিএস অনুযায়ী ৩০% ডিভিডেন্ড দিতে পারে সেখানে মাত্র ১০% ক্যাশ দিলো। এই যে জালিয়াতিগুলো হচ্ছে তা নিয়ে আজো পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা তদন্ত করেনি। অথচ এগুলো ছিলো মার্কেট পতনের জন্য দায়ী।

যদি সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা থাকতো তাহলে বাজারের ঠিকই উন্নয়ন হতো। যাইহোক এতো কিছুর মাঝেও পুঁজিবাজার আমরা আশাবাদী যে বাজার সামনে অনেক ভালো হবে। সামনে জুন মাসে সংসদীয় বাজেট ঘোষনা করা হবে তার উপরে ভিত্তি করে এই মাসে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শেয়ার ব্যবসা করতে হবে। অনেক গুলো ব্যাংক অনেক ভালো ইপিএস দিয়েছে তার প্রভাব সামনে পড়বে সেই ক্ষেত্রে ক্লোজিং বিবেচনা হবে না। সব সময়ে ইনডেক্স প্রভাব বিস্তার করতে পারে। যেমন মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যাংক অনেক ভালো ইপিএস দিয়েছে এবং দুটি ব্যাংকের ভাল নিউজ ও আছে। সিটি ব্যাংকের মত ওয়ান ব্যাংকের বড় ধরনের চুক্তি হবে। হয়তো মার্কেন্টাইল ব্যাংক রেমিটেন্স এওয়ার্ড পাবে। আর্থিক খাতের আয় কর কমানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ আগে যে কর ছিল ধার্য ছিলো সেটা কমিয়ে আবার আগের জায়গায় আনা হবে। আর এই নিউজ যদি সত্যিই হয় তাহলে ব্যাংক ফিন্যান্স দিয়ে টানা ৫০০/৬০০ সূচক বাড়তে পারে। তাহলে সব ব্যাংক ফিন্যান্স এর ইপিএস প্রভাব পড়বে। আর যদি ফিন্যান্স এর আয় কর কমিয়ে দেয় তাহলে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিস্ক ফ্রী ব্যবসা করা যাবে। অর্থমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলে দিয়েছেন যে এইবারের বাজেটে বিদ্যুৎ সেক্টরে সরকারি বিনিয়োগ বেশী থাকবে। টেক্সটাইল এর আয় কর বা গেইন টেক্স ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫% করার প্রস্তাব করেছে বিজিএমইএ। আর যদি তাই হয় তাহলে টেক্সটাইলের স্বর্ণ যুগ হবে ২০১৭ সাল। তাই বাজারে বর্তমানে কোনো নেতিবাচক ইস্যূ নেই। বাজার এগিয়ে যাক সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও লোকসানের ধকল থেকে বেরিয়ে আসুক। সেই কামনায়-

শরিফুল ইসলাম

শেয়ার বিনিয়োগকারী

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

One Comment;

*

*

Top