ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ কে শুনবে?

18588862_126014814636215_4876503151568502723_oইউনাইটেড এয়ারওয়েজ মত একটা বাজে কোম্পানিকে কেনো ‘বিএসইসি” ৩১২ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিলো? কোম্পানি কি বিএসইসির মান রাখতে পেরেছে কি? না অাদৌ পারবে?

বিএসইসি যখন নতুন করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে ৭টি বিমান কেনার জন্য প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩১২ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলনের অনুমোদন সুখবর জানালো।

গত ২২.১২.১৬ ইং তারিখে ‘বিএসইসি অনুমতি দেয়ার পর থেকে আজ প্রায় ৬ মাস চলছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে একটি বারের জন্য কি জানতে চেয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ অগ্রগতির কথা কোম্পানির কাছ থেকে?
ডিএসই ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির যে নাম্বার গুলো দেয়া আছে সেগুলোতে ফোন করলে বন্ধ বলে। বারংবার চেষ্টা করার পরেও কোম্পানির সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাহলে আমরা সাধারন বিনিয়োগকারীরা কোথায় যোগাযোগ করবো?

তখন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ইউনাইটেড এয়ারের উপর আস্থা রেখে চলতে লাগলো এবং নতুন করে অনেকে বিনিয়োগ শুরু করলো। গত ২১/১২/১৬ ইং তারিখে শেয়ার টির দাম ছিলো ৪.৮০/- টাকা সেখান থেকে শেয়ারটি ব্যপক চাহিদার কারনে টানা ৪ চার কার্যদিবস কোন বিক্রেতা খুজে পাওয়া যাইনি।

দেখা গেলো একটা পর্যায়ে শেয়ার টির দাম গত ১৭/০১/১৭ ইং তারিখে ৮/- করে লেনদেন করে । সেখান থেকে টানা কমতে কমতে আজ ২২.০৫.১৭ ইং তারিখে ৫.৬০/- করে লেনদেন শেষ করে। তাহলে ৮/- থেকে ৫.৬০/- টাকা নেমে আসলো শেয়ারের দর। শতকরা হারে ৩২% বা ২.৪০/- মত কমে যায় শেয়ারটির দাম।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিনিয়োগকারীদের এখন মরার উপক্রম হয়ে আছে। “অনেক বিনিয়োগকারী ভাইয়ের ১০,১২,১৫/- করেও কিনা এয়ার” তারাও কি আশাহত হবে?

কোন কোম্পানি যখন ১০% দাম বাড়ে তখন অস্বাভাবিকহারে শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানতে চায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। দর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না তা ডিএসই থেকে জানতে চাওয়া হয়।

আর একটা কোম্পানির দর যখন ৩২% দর কমে যায় তখন অস্বাভাবিকহারে শেয়ার দর কমার কারণ জানতে চায় না ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এটাই আমাদের সাধারন বিনিয়োগকারীদের কপাল।

এদিকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কোম্পানির পরিচালকরা প্রতিনিয়তই লুটপাট করে যাচ্ছে। কোম্পানির পরিচালকদের বর্তমানে মাত্র ৪.৪৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আইনে রয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে শেয়ার ধারণের সংখ্যা ৩০ শতাংশের নিচে হতে পারবে না। তাহলে কিভাবে কোম্পানির পরিচালকরা এতো কম শেয়ার ধারণ করতে পারে। ৩০ জুন,২০১৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ধারণ ছিল ৭.০৪ শতাংশ। সেখানে মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশে কিভাবে নেমে এলো? বিএসইসি এ ব্যাপারে চুপ কেন। নাকি এ কোম্পানির পেছনে দরবেশ বাবা রয়েছেন বিধায় আপনারা কেউ কিছু করতে সাহস পাচ্ছেন না? সে এতোই ক্ষমতাধর হলে আপনার স্ব স্ব আসন ছেড়ে দিয়ে দরবেশ বাবার ওকালতিতে নেমে যান। বিনিয়োগকারীদের জন্য আঁইওয়াশমূলক কার্যক্রম আপনাদের করা লাগবে না।

তারপরেও যেহেতু আপনারা হচ্ছেন শেয়ারের বাজারের মা-বাবা। আপনারা আমাদের সব……আপনাদেরকে আমরা সব সময় সাধুবাদ জানাই। যদি বিএসইসি শতভাগ স্বচ্ছ হয় তাহলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনবেন সেটাই লাখো ভুক্তভোগির কামনা।

আকাশ আহম্মেদ,ফেনী।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top