দ্বিতীয় ওয়াটা কেমিক্যাল হতে যাচ্ছে সোনালী পেপার

sonaliশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১৪ সালের ১৪ মে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে এসে মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু করে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৯ টাকায় শুরু হলেও তারপরের ইতিহাস সবারই জানা। অদৃশ্য কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দর মুহূত্বেই আকাশ ছোয়া হয়ে যায়। এমনও দিন গেছে যে ওয়াটা কেমিক্যালসের শেয়ার কেনার জন্য ৪০০ টাকা পর্যন্ত অর্ডার দেয়া হলেও কোনো বিক্রেতা খুজে পাওয়া যায়নি।

সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে সোনালী পেপারের ক্ষেত্রে। ইউনূস গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড বর্তমানে ওটিসির ৬৬ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে ভালো কোম্পানি হিসেবে রয়েছে। শেয়ার ডিমেট করা, নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেয়া, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করাসহ রয়েছে বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ। যা মূল মার্কেটের অনেক ভালো কোম্পানিরও নেই। অর্থাৎ ওটিসির জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে মূল মার্কেটে আসার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে সোনালী পেপারের। আর মূল মার্কেটে যদি পরবর্তীতে ওটিসির কোনো কোম্পানিকে আনা হয় তাহলে সোনালী পেপারই রয়েছে এক নম্বর গ্রীণ সিগন্যালে।

আর সেই সুযোগটাই কোম্পানির পরিচালক ও কতিপয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিমভাবে এ কোম্পানির শেয়ার দর হু হু করে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ওটিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি জুন মাসে সোনালী পেপারের ৭ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আর এই ৭ কার্যদিবসে এ কোম্পানির শেয়ার দর কৌশলে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০.৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। চলতি মাসের ৪ জুন এ কোম্পানির ১৯ হাজার ১৭৮টি শেয়ার প্রতিটি ২৫ টাকা দরে লেনদেন হয়। তারপর ৮ জুন কোম্পানির ১ হাজার ৫০০ শেয়ার প্রতিটি ২৭ টাকায় লেনদেন হয়। ১১ জুন কোম্পানির ৭০০ শেয়ার প্রতিটি ২৯.৫০ টাকায় লেনদেন হয়। ১২ জুন কোম্পানির ৪০০ শেয়ার প্রতিটি ৩২ টাকা দরে লেনদেন হয়। ১৪ জুন ৫০০ শেয়ার প্রতিটি ৩৫ টাকায় লেনদেন হয়। তারপরের দিন ১৫ জুন কোম্পানির ৬০০ শেয়ার প্রতিটি ৩৭.৫০ টাকায় লেনদেন হয়।

গত ১৮ জুন এ কোম্পানির ৩০০টি শেয়ার প্রতিটি ৪০.৫০ টাকায় লেনদেন হয়। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, অল্প শেয়ার অল্প পরিমাণ দর বাড়িয়ে কৌশলে কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, মূল মার্কেটে লেনদেনের পূর্বেই কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি করা যাতে মূল মার্কেটে ফিরে এ কোম্পানির শেয়ার দরও ওয়াটা কেমিক্যালসের মতো আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।

১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সোনালী পেপার। এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ২৬ হাজার ৩৫০টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৭২.০৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৩.২২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে মাত্র ৪.৭১ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটি ২০১৩ সাল থেকে টানা ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। এছাড়া গত ৪ বছর ধরে কোম্পানিটি ধারাবাহিক মুনাফায় রয়েছে। জুন ক্লোজিং এ কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই’১৬-মার্চ’১৭) আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর কর পরিশোধের পর মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ১.৪৮ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ১.৩৪ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top