প্রযুক্তির কুপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে ৫ পরামর্শ

facebook-xlarge-trans

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বর্তমানে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে প্রযুক্তি। জীবনের অন্যতম গুরুতবপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও প্রযুক্তিই কিন্তু মানুষের জীবনের একমাত্র দিক নয়। সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রযুক্তির বাইরের জীবনকেও আমাদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মনিটরের দিকে দিনের বেশিরভাগ অংশ তাকিয়ে থাকার ফলে এর প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীর, মন ও আবেগের উপর। তবে কিছু পরামর্শ মানলে প্রযুক্তিবান্ধব জীবনে অভ্যস্থ থেকেও আমরা অামাদের শরীর ও মনকে এর কুপ্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারি।

১. ঘুমাতে যাওয়ার আগে সব ধরণের ডিভাইস বন্ধ করে রাখুন

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ইউটিউবে আরেকটু ভিডিও দেখা বা আরেকটু ফেসবুকিং করতে অনেকেরই মন চায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রবণতার ফলে আপনার যে ঘুম কম হচ্ছে সেটিই নয়, বরং আপনি যেটুকু সময় ঘুমাচ্ছেন, সেটুকু সময়ও ভালোভাবে ঘুমাতে পারছেন না। ডিভাইস অন থাকলে তা প্রতিমুহুর্তে অাপনার মাথায় ঘুরবে, কিংবা মনিটরের অলো চোখে পড়বে। আদর্শ ঘুমের জন্য যা অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

২. একবারে একটি কাজই করুন

এখন ইন্টারনেটে নানা ধরণের কাজ করতে পারছে মানুষ। ইন্টারনেট খোলা রাখা মানে পুরো দুনিয়া আপনার সামনে উন্মুক্ত রাখা। ল্যাপটপে বা পিসিতে কাজ করার সময় আপনার সামনে একই সাথে অনেকগুলো কাজ থাকতে পারে। আপনিও হয়তো চাপ কমাতে মেইল লেখার পাশাপাশি ফেসবুকে একটু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। কিংবা অন্য জায়গায় কাউকে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। আপনার মনে হতে পারে আপনি একসাথে অনেকগুলো কাজ করছেন, আপনি অনেক উৎপাদনক্ষম। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। ধরুন, আপনি একটি উত্তেজনাকর ফুটবল ম্যাচ দেখছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর ফেসবুকে সেটির আপডেট দিচ্ছেন বা ফেসবুকিং করছেন, তাহলে কী ম্যাচের সঠিক মজাটা আপনি পাবেন? আপনি একবারে একটি কাজ করলে যতটা সফলতার সাথে করতে পারবেন, অনেকগুলো কাজ একসাথে করলে কোনোটিতেই আশানুরুপ ফলাফল নাও পেতে পারেন। সফলভাবে অনেকগুলো কাজ করতে চাইলে সবগুলো কাজের জন্য আলাদা অলাদাভাবে সময় ভাগ করে নিন। এতে আপনার মস্তিষ্কও প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদাভাবে কাজ করতে পারবে।

৩. স্ক্রিন সবসময় আই লেভেলে রাখুন

মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করা কিংবা সামনের দিকে ঝুঁকে ল্যাপটপ ব্যবহার করার কারণে অনেক সময় শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। চোখ ব্যাথা, মাথ্যা ব্যাথা, কোমর ব্যাথা- স্ক্রিন আসক্ত মানুষের জন্য এসব সমস্যা এখন নিয়মিতই হয়ে গেছে। সবসময় আই লেভেলে স্ক্রিন রেখে কাজ করাটা হয়তো সম্ভব হবে না, তবে আপনি এটি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এতে আপনার চোখ এবং স্পাইনের উপর চাপ অনেক কমবে। হাঁটতে হাঁটতে মেসেজিং বন্ধ করুন।

অফিস বা বাসায় আপনার মনিটর যদি আই লেভেলে না থাকে, তাহলে আলাদা স্ট্যান্ড নিন। ল্যাপটপ ব্যাবহার করলে আলাদা কীবোর্ড ব্যাবহার করে ল্যাপটপ দূরে রেখে তারপর কাজ করুন।

৪. সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার থেকে কিছুটা সময় বিরত থাকুন

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম বন্ধুদের কাছ থেকে নতুন কোনো আপডেটের তাড়নায় আপনাকে সবসময় টানবে। আপনি গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করছেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন কিংবা বিশ্রাম নিচ্ছেন, কিন্তু বারবার ফেসবুকে ঢুকে ভার্চুয়াল বন্ধুদের আপডেট চেক করতে মন চাচ্ছে, এটা হরহামেশায়ই অধিকাংশের ক্ষেত্রে হয়। সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু আপনার সময় ঠিকভাবে বিন্যস্ত করতে জনাতে হবে। যখন যে কাজটি করবেন, তখন শুধুমাত্র সে কাজটিউ করুন। বিশ্রামের সময় ফেসবুক নয়, ফেসবুকিংয়ের সময়েও অন্য কাজ নয়।

৫. অনলাইন একাউন্ট সবসময় নিরাপদ রাখুন

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আপনার ইন্টারনেট অ্যাকাউন্টগুলো ম্যানেজের ক্ষেত্রে পুরাতন এ কথা মেনে চলুন। অ্যকাউন্টের সামান্য নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বা আপনাকে অনেক ভুগতে হতে পারে। তাই ইন্টারনেট একাউন্টগুলোতে সবসময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাখুন। আর সব ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে শেয়ার করাও উচিত নয়। ব্যাক্তিগত তথ্য যত কম ইন্টারনেটে শেয়ংার করবেন, জীবন তত নিরাপদ থাকবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/এস. এস.

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top