ভ্যাটের নতুন নির্দেশনা জারি করলো এনবিআর

NBR20160808112502শেয়ারবাজার রিপোর্ট: যে সকল করদাতা এখনো অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেননি তাদেরকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে ৯ ডিজিটের নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। তবে চলতি বছর পর্যন্ত ১১ ডিজিটের নিবন্ধনের কার্যকারিতা বহাল থাকবে। এছাড়া যে সকল প্রতিষ্ঠান ৯ ডিজিটের বিআইএন গ্রহণ করেছেন তারা ৯ ডিজিটের বিআইএন-ই ব্যবহার করবেন। গতকাল ২৬ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা আনয়ন তথা রাজস্ব আহরণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ভ্যাট ব্যবস্থায় নিবন্ধন কার্যক্রমের ডিজিটাইজেশন অপরিহার্য। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে অনলাইন ভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থায় নিবন্ধন কার্যক্রমের শুভ সূচনা গত ২৩ মার্চ, ২০১৭ খ্রিঃ তারিখ হতে করা হয়েছিল। বিদ্যমান সনাতনী ভ্যাট ব্যবস্থায় প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ Business Identification Number (BIN) নম্বর গ্রহণকারী ব্যবসায়িক সত্তা থাকলেও প্রতি মাসে মাত্র ৩৭ হাজার করদাতা নিয়মিত দাখিলপত্র প্রদান করেন। ফলে অনেক অস্তিত্বহীন নিবন্ধিত করদাতা যেমন রয়েছেন, তেমনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও অনেক করদাতা নিয়মিত দাখিলপত্র প্রদান করেন না বা করজালের বাইরে অবস্থান করছেন।

সার্বিকভাবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দ্রুততর ও হয়রানীমুক্ত করার লক্ষ্যে মুলত অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া, নতুন নিবন্ধন গ্রহণকারী ব্যবসায়ীগণ অনলাইনে ৯ ডিজিটের নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ব্যবসা-বান্ধব উল্লেখপূর্বক এই কার্যক্রমকে চলমান রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।

০২। বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা-১৫ ও মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা, ১৯৯১ এর বিধি-৯ এ
করদাতাগণের নিবন্ধন গ্রহণের আইনি বিধি-বিধান বিধৃত রয়েছে। বিশেষভাবে, মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা, ১৯৯১ এর বিধি-৯ এ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘‘বোর্ড কর্তৃক আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন পেশ করা যাইবে’’। সুতরাং, ইতোমধ্যে যারা অনলাইনে ৯ ডিজিটের নিবন্ধন (e-BIN) গ্রহণ করেছেন তাদের উক্ত নিবন্ধনগুলো কার্যকর রাখা এবং অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চলমান রাখার ক্ষেত্রে নিম্মে-বর্ণিত পদ্ধাত অনুসরণযোগ্য ঃ
ক) কেন্দ্রীয় নিবন্ধন:
(অ) যে সকল প্রতিষ্ঠান মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর আওতায় কেন্দ্রীয় নিবন্ধন (১১ ডিজিটের বিআইএন) গ্রহণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন তারা অনলাইনেও কেন্দ্রীয়ভাবেই নিবন্ধিত হবেন এবং ৯ ডিজিটের বিআইএন গ্রহণ করে উক্ত আইনের অধীন প্রচলিত নিয়মেই কর পরিশোধসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
উদাহরণ: ধরা যাক মেসার্স এবিসি লিমিটেড দেশব্যাপী বিভিন্ন কমিশনারেটের অধীন ৫০টি ইউনিটের মাধ্যমে ব্যবসায় করেন। তারা উক্ত আইনের ধারা ১৫(২)-এর দ্বিতীয় শর্তাংশ অনুসারে কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধন গ্রহণ করে ব্যবসায় করেন। নতুন অবস্থায়ও তাঁরা কেন্দ্রীয়ভাবেই নিবন্ধিত হবেন এবং একটি বিআইএন এর মাধ্যমেই দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
(আ) যে সকল প্রতিষ্ঠান দুই বা ততোধিক স্থান হতে করযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বা সেবা প্রদান বা ব্যবসায় পরিচালনা করছেন এবং আইনের আওতায় প্রতিটি স্থানের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জন্য আলাদা নিবন্ধন গ্রহণ করে সংশিষ্ট বিভাগীয় দপ্তর ও সার্কেল অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা প্রতিটি ইউনিটের জন্য অনলাইনে ৯ ডিজিটের পৃথক পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করবেন। এসব ইউনিটের একটি টিআইএন থাকলেও প্রতিটি ইউনিটের জন্য ৯ ডিজিটের আলাদাভাবে একটি করে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি ইউনিট সেই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে বর্তমানে যে সার্কেলে দাখিলপত্র পেশ করেন সেই সার্কেলে যথারীতি দাখিলপত্র পেশ করবেন এবং আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য কার্যক্রমও ইউনিটের বিআইএন দিয়ে উক্ত আইনের অধীন পরিচালিত হবে।
উদাহরণ: ধরা যাক মেসার্স এবিসি লিমিটেড তার ৫০টি ইউনিটের জন্য ৫০টি বিআইএন (১১ ডিজিটের) গ্রহণ করে উক্ত আইনের অধীন ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। তারা প্রতিটি ইউনিটের জন্য অনলাইনে একটি করে বিআইএন (৯ ডিজিট) গ্রহণ করবেন। প্রতিটি ইউনিট যে সার্কেল ও বিভাগীয় দপ্তরের অধীক্ষেত্রে বর্তমানে কাজ করছেন নতুন নিবন্ধন (৯ ডিজিটের ই-বিআইএন) দিয়েও সেই সার্কেল ও বিভাগীয় দপ্তরেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
(ই) যে সকল প্রতিষ্ঠান একাধিক ইউনিটের জন্য আলাদা নিবন্ধন (১১ ডিজিট) গ্রহণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছিলেন এবং ১৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখের পর কেন্দ্রীয়ভাবে সদর দপ্তরের ঠিকানায় একটি নিবন্ধন (৯ ডিজিটের) গ্রহণ করেছেন তাদেরকে নতুন করে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা ভাবে উপ-অনুচ্ছেদ (আ) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পুনঃনিবন্ধন (৯ ডিজিটের) গ্রহণ করে বর্ণিত পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত ৯ ডিজিটের কেন্দ্রীয় নিবন্ধনটি অকার্যকর থাকবে। তা দিয়ে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না এবং কোনো দাখিলপত্রও পেশ করতে হবে না।
(ঈ) যে সকল প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ইউনিটের আলাদা নিবন্ধন (১১ ডিজিট) নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কিন্তু বর্তমানে তারা আইনের ধারা ১৫(২) এর দ্বিতীয় শর্তাংশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত হতে চান তারা উক্ত আইনের অধীন বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করে ৯ ডিজিটের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন গ্রহণ করবেন।
খ) ইউনিট নিবন্ধন:
অনলাইন নিবন্ধনের আলোকে ৯ ডিজিটের ইউনিট রেজিস্ট্রেশনগুলো তাদের ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী স্ব স্ব কমিশনারেটে যথারীতি দাখিলপত্র প্রদান করবে।
গ) যে সকল করদাতা এখনো অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেননি তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে অনলাইনে ৯ ডিজিটের নিবন্ধন গ্রহণ করবেন। সুতরাং উক্ত সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত ১১ ডিজিটের নিবন্ধনের কার্যকারিতা যথারীতি বহাল থাকবে। তবে যে সকল প্রতিষ্ঠান ৯ ডিজিটের বিআইএন গ্রহণ করেছেন তারা ৯ ডিজিটের বিআইএন-ই ব্যবহার করবেন।
ঘ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শীঘ্রই মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর সাথে সঙ্গতি রেখে মূসক-৬, ৮, ৯ ও ১০ ইত্যাদিসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়াদি সংশোধনপূর্বক অনলাইন ব্যবস্থাকে পুনঃসংস্কার করবে।
০৩। অনলাইনে ৯ ডিজিটের ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ কোনভাবেই শুধু নতুন ভ্যাট আইন (মূল্য সংযোজন কর আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২) এর সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। এটি বিদ্যমান ১৯৯১ আইন আওতায় করদাতাগণকে উন্নত সেবা প্রদানের গতিকে ত্বরান্বিত করাসহ ব্যবসায় সনাক্তকরণ সংখ্যা নির্ধারণ, রির্টান সংখ্যা বৃদ্ধির সংগে সম্পৃক্ত যা হয়রানিমুক্ত এবং করদাতা-বান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

Top