জুট স্পিনার্স পরিচালকদের দ্বন্দ্বের অবসান: এগিয়ে নেয়ার আশ্বাস

jute-spinasশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের জুট স্পিনার্সের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আর উৎপাদন বন্ধের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। বড় ভাই মোহাম্মদ শামস-উল হুদা এবং মেঝ ভাই মোহাম্মদ শামস-উজ জোহারের মধ্যে এতোদিনের বৈরি সম্পর্ক কোম্পানিকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে। তবে নতুন আশার খবর হলো এই দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে।

সম্প্রতি (বুধবার,১৯ জুলাই) মেঝ ভাই মোহাম্মদ শামস-উজ জোহা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়েছে। আর তাতেই রক্তের টানে কাছে ছুটে আসেন বড় ভাই মোহাম্মদ শামস-উল হুদা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পিতা মৃত: মোহাম্মদ শামস-উল হকের কষ্টার্জিত একসময়ের মুনাফায় থাকা জুট স্পিনার্সকে পুনরায় স্বরুপে ফিরিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান (বড় ভাই) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মেঝ ভাই)।

তবে দীর্ঘ দায় দেনায় জর্জরিত জুট স্পিনার্সের উৎপাদন পুনরায় চালু করতে প্রয়োজন ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ব্যাংকে এই পরিমাণ অর্থ জমা করলেই অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে। আর পুনরায় ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে উৎপাদন চালু করা যাবে-এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোম্পানির চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া।

তিনি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবসময় আশা প্রকাশ করেন যে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে। তার একটাই কথা “চিন্তা করবেন না, মিল চালাব”। বাজারে জুট স্পিনার্সের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ব্যাংকও চায় যে আমরা আবার উৎপাদন চালু করি। সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করলেই ক্লাসিফাইড লোন থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। সবমিলিয়ে জুট স্পিনার্সের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা আশাবাদী।

এদিকে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের ইন্তেকালের পর উনার স্ত্রীর নিকট ফ্যাক্টরীর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ‘মা’ সম্বোধনে প্রতিনিয়ত চিঠি আসছে। শ্রমিকদের বাঁচাতে মিলের চাকা পুনরায় চালু করতে আবেগময়ী চিঠি আসছে প্রতিনিয়ত।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ জুুট অ্যান্ড টুয়াইন মিল মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামস-উল হকের উদ্যোগে জুট স্পিনার্স প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম পাটকল। একসময় কোম্পানিটির বেশ সুনাম ছিল। এমনকি এটি দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পাটকলের পুরস্কারও পেয়েছিল। তাছাড়া আইএসও সনদপ্রাপ্ত কোম্পানিটির তৈরি করা পণ্য তুরস্ক, মিসর, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, স্পেন, চীন, ভারত ও উরুগুয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হতো।

মূল উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শামস-উল হক ২০১০ সালে মারা যাওয়ার পরে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তার দুই ছেলে শামস-উল হুদা ও মোহাম্মদ শামস-উজ জোহার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যদিও পরিবারের ছোট ছেলে শামস-উল কাদির এবং একমাত্র বোন শাহিদা হোসাইন রয়েছে পরিচালনা পর্ষদে। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই বললেই চলে।

দীর্ঘদিন পর একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো মিলিত হয়েছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এবার তাদের হাত ধরেই পুনরায় জুট স্পিনার্স স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে পিতার সম্মান, শ্রমিকদের বেঁচে থাকা,বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দেয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জুট স্পিনার্সের অনুমোদিত মূলধন ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট ১৭ লাখ শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৩৯.৮২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৩.২০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৬.৯৮ শতাংশ শেয়ার।

উল্লেখ্য, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মধ্যে শুধু ইনভেষ্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর কাছেই রয়েছে ১৫.০৮ শতাংশ শেয়ার।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

Top