লেনদেনের শ্লথগতিতে তিন ইস্যুর প্রভাব ক্ষণিকের

Editorialবর্তমানে বাজারে দৈনিক লেনদেনে শ্লথগতি কাজ করছে। প্রতিমাসের শেষেই লেনদেনে একটু ভাটা থাকে সেটা বিগত মাসগুলোর চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক মাসের শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বাড়তি তদারকি করে থাকে। প্রতিটি কোম্পানিকেই পুঁজিবাজারে এক্সপোজারের বিষয়ে মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংককে তথ্য দিতে হয়। আর এই তথ্যে এক্সপোজার যেন নির্দিষ্ট সীমার ওপরে না ওঠে সেদিকে বেশ হুঁশিয়ার থাকতে হয়। এক্ষেত্রে বাজার ভালো থাকলে ব্যাংকের এক্সপোজারের মাত্রা বেশি হয়ে যায় তখন ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ে আসে। আবার এক্সপোজার কম হলেও শেয়ার কিনে সমন্বয় করে। তাই বর্তমানে দৈনিক লেনদেনে একটু শ্লথগতি কাজ করছে।

এছাড়া চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। ব্যক্তি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রায় সব বিনিয়োগকারী এই সময়ে মুনাফার মুখ দেখে। আর মুনাফা হলে তা উত্তোলন করবে সেটাই স্বাভাবিক। এইসময়ে কেউ আগে মুনাফা তুলেছে, কেউ এখন তুলছে যে কারণে প্রফিট টেকিংয়ের রেশ এখনো কাটেনি। ব্যাংক,বীমা,নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন বর্তমান পুঁজিবাজারকে বেশ প্রভাবিত করছে। কারণ বিপুল পরিমাণ শেয়ার ধারণ করা একটি ব্যাংকের শেয়ার দর যখন ১ টাকা কমে যায় তখন সূচকে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরের ওঠা-নামার সঙ্গে সূচকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন।

এদিকে বর্তমানে আরেকটি পক্ষ দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা-ভাবনায় কম দামের শেয়ারগুলো কিনে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,“আমরা গ্যারান্টি দেবো এই মার্কেটে আর কোনোদিন ৯৬’ বা ২০১০ ঘটবে না। আগামী এক দশকে, পাঁচ বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা ইতিহাস মূল্যায়ন করবে।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এরকম ইতিবাচক বক্তব্য আসার পর যে কেউ এই মার্কেট নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে সরে আসবে। পরিকল্পনা করবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের। তাই পোর্টফলিও ম্যানেজাররা শেয়ার বিক্রির চেয়ে এখন কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ এর রুলস ৩(৫) এর কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। সেটার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৮ আগষ্ট। যদি পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সময় না বাড়ায় তাহলে মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীরা ঋণ পরিশোধের চাপে পড়বেন। অনেকে ফোর্সসেলের আওতায় চলে আসবে। সেই আতঙ্কও বর্তমান বাজারকে প্রভাবিত করছে।

তবে উপরে উল্লেখিত ইস্যুগুলো ক্ষণিকের, তাই এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনো ইস্যু নেই। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, মার্কেটে হয়তো আরো ১০০ বা ১৫০ পয়েন্ট সূচকের কারেকশন হতে পারে। চলতি মাসের শুরুটা পুঁজিবাজার একটু ঢিমেতালে চলতে পারে। বাকিটা সময় বলে দেবে। কিন্তু আবার ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার। এভাবে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী আর কারেকশনের সমন্বয়ে বাজার ধীরে ধীরে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top