দয়া করে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এটা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করবেন

Editorialমো: আব্দুল মতিন চয়ন। তিনি ICML রাজশাহী শাখার মাধ্যমে শেয়ার ব্যবসা করেন। তার অ্যাকাউন্ট নং- ২৬৮৩ এবং ২৮০০। রাত ১ টায় বাজে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমে তার মেইল এবং টাইটেল হচ্ছে ‘দয়া করে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এটা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করবেন’।

সেই শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে লেখালেখির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকম। যখনই ক্ষতিগ্রস্তদের কোটার মেয়াদ শেষ হতে নেয় তখনই এর মেয়াদ আরো বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন যৌক্তিক পরামর্শ ও প্রতিবেদন তুলে ধরি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের দিক বিবেচনা করে কোটা মেয়াদের সময় বাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কিন্তু এই ক্ষতিগ্রস্তদের কোটা নিয়ে কিছু হিডেন বিষয় রয়েছে যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিবেচনা না করলেই নয়।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা অবশ্যই জানেন ২০১০ সালের সেই মহাধসের কথা। ধস পরবর্তী সময়ে সরকারের সুন্দর সংস্কারের সুফল বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা অল্প অল্প করে ধীরে ধীরে পাচ্ছে। সেই সংস্কারের মধ্যে একটি উদ্যোগ ছিল যে ২০১০ সালের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা হবে এবং ঐ সকল ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থেকে ২০ শতাংশ প্রতিটি আইপিওতে কোটা থাকবে যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান।

এটি সরকারের অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ ছিল। কিন্তু কথায় বলে যাকে সাপে কামড়ায় সেই বুঝতে পারে এর ব্যাথা। এই উদ্যোগ নেবার সময় তৎকালীন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)  কমকর্তাদের এটা বোধগম্য হয়নি যে, ১০৯০০০ (এক লাখ নয় হাজার) জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ২০ শতাংশ কোটায় প্রতিটি আইপিওতেই লটারীতে সবার নাম উঠবেনা। যার জন্যে এই দীর্ঘ ৭/৮ বছরেও ৪০ থেকে ৫০ টি আইপিও এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কোন বিনিয়োগকারীই ৫ থেকে ৬টির বেশী IPO পাইনি।

এমন বিনিয়োগকারী আছে যারা ১টিও আইপিও পাইনি। অথচ যদি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদেরকে ১টি করে লট লটারী ছাড়া দেওয়া হত তবে নিশ্চিত ভাবে ৭০% ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর ক্ষতি পুষিতে যেত। এখানে উল্লেখ্য যে, ৫০০ বা ১০০ অথবা ২০০ শেয়ারে ১টি লট হয়। কোন কোম্পানি যদি ৫ কোটি শেয়ার ছাড়ে তাহলে তার লট হবে ১ লাখ বা ৫ লাখ অথবা ২ লাখ ৫০ হাজার।  কিন্তু শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার জন। সেক্ষেত্রে  ৫ কোটি ও ৫০০ এর লটের ক্ষেত্রে ৬০% কোটা করা যেত। অাবার ৫ কোটির ১০০ এর লটে ১০০% দেওয়া যেতে পারে। অাবার ৫ কোটির বেশি শেয়ারের কোম্পানিগুলোতে ৭০ বা ৮০ এমনকি ১০০% পর্যন্ত কোটা সুবিধা বিনিয়োগকারীদেরকে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু  বর্তমানে চালু এই ২০ শতাংশ কোটায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর লাভ হয়নি।

লাভ হয় শুধু আইপিও শিকারীদের যারা মূল মার্কেটে বিনিয়োগ করেনা। সারা বছর একেক জন ১০ টি থেকে ১০০টি পর্যন্ত আইপিও জমা দেয়। লটারীতে নাম উঠলে এরা মূল মার্কেটে যারা ব্যবসা করে তাদের কাছে বিক্রয় করে দেয়। মহাধ্বসে এই বাজারের ২৪ লক্ষ বিনিয়োগকারীর কারো টাকা, বাড়ি এমনকি জীবন পর্যন্ত গেছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উচিত আর দেরি না করে অতিশীঘ্রই তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা এবং ৫ কোটির শেয়ারের আইপিওতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ এবং ৫ কোটির উপর আইপিওতে ৯০ শতাংশ বা ১০০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা করা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বিনিয়োগকারী যেন এই সুবিধা ভোগ করে সেটা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে একটি কমিটি করে যারা এখনো আইপিও’র কোটা পায়নি তাদেরকে পরবর্তী আইপিও পেতে সহায়তা করা।

আপনার মন্তব্য

Top